আচ্ছা, আমাদের সবারই নিজেদের ও অন্যদের সফলতার পরে কি হবে বা কি পাবো সেটা ঠিক করে রাখি, কিন্তু যদি ব্যর্থ হই বা ফেইল করি, তখন কি হবে সেটা নিয়ে কোন প্ল্যান থাকেনা কেন? আর এ প্ল্যান না থাকাটা আমাদের কিভাবে ব্যর্থতার অনুভূতি দেয়? আসলে সফলতা বা ব্যর্থতাই বা কি? এমন অনেক গুলো প্রশ্নের সুন্দর উত্তর দিয়েই সাজানো Chichore মুভিটি সাজানো।
মুভিটি শুরু হয় একজন ডিভোর্সি ভদ্রলোক ও তার সন্তানের রেগুলার লাইফ দিয়ে৷ সন্তান খুব চিন্তিত থাকে তার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে। সে অনেক দিন ধরে খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেয় কিন্তু রেজাল্ট কি হবে সেটার শংকায় থাকে। বাবা আর সন্তানের টুকটাক কথোপকথন ও বাবার হোস্টেল জীবনের ছোট ঘটনা গুলো দেখানো হয়। তারপর একদিন রেজাল্ট দিলে দেখা গেলো সন্তান মেরিট লিস্টে আসেনি আর কষ্টে সুইসাইড এটেম্পট করে। আর সিরিয়াসলি ইঞ্জুরড হয়ে কোমায় চলে যায়। মুভির মূল পার্ট শুরু হয় তখন থেকে।
কোমায় চলে যাওয়া ছেলেকে নিজের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের হোস্টেল জীবনের গল্প শুনানো শুরু করে বাবা। এতে অদ্ভুতভাবে রেস্পন্স করা শুরু করে কোমায় থাকা ছেলে এক সময় জ্ঞান ফিরে আসে। কিন্তু ব্রেইন ইঞ্জুরির খুব বেশি উন্নত হয়না। বাবা প্ল্যান করে তার ভার্সিটির হোস্টেলের সব বন্ধুদের ডাকবে। একে একে সবাইকে ডেকে নিয়ে এসে আর সবাই মিলে গল্প শুনায় ছেলেকে। কিছু লুজার এর অনেকবার হেরে যাওয়ার গল্প। কখনো অনেক দুষ্টামীর কাহিনী আবার কখনো সিরিয়াস সব ঘটনা।
বাবার জীবনে ঘটে যাওয়া সে সব গল্পের মূল কাহিনী হলো লুজারদের হোস্টেলে থাকা কিছু মানুষ সিদ্ধান্ত নিলো যে এ হোস্টেলের বদনাম ঘুছাবে এবং কলেজ স্পোর্টস এ এবার কিছু একটা করে দেখাবে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার টার্গেট নিয়ে খেলে অনেক ফাইট করার পর ও ১ পয়েন্ট ব্যবধানে রানার আপ হয়। কিন্তু ওদের উপরে থাকা লুজার এর তকমাটা সরে যায় আর সবাই স্বীকার করে নেয় যে একটা বড় চেঞ্জ আসছে ওদের মধ্যে যেটি সম্ভব হয়েছিল সবার প্রচন্ড চেষ্টা ও আত্মবিশ্বাস এর কারণে। গল্প শুনতে শুনতে সন্তানের চোখ ভিজে যায়। বাবা-মা আর তাদের বন্ধুরা এ বোঝানোর চেষ্টা করে যে চেষ্টা করাটা আসল। জয় বা পরাজয় মূখ্য ব্যপার না।
মুভিটায় বেশ শিক্ষনীয় কিছু বিষয় রয়েছে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণটি হলো- আমরা বা আমাদের সন্তানেরা যদি ভালো রেজাল্ট করে তাহলে তাদের জন্য কি কি করবো বা দিব সব বলা হয়ে যায় কিন্তু যদি আশানুরূপ ভালো না করে, তাহলে কি হবে সেটা বলিনা। তাই ফ্রাস্ট্রেশন আসে আর নিজেকে ছোট মনে করে দূর্ঘটনা ঘটায়। আরেকটি হলো সবার চেষ্টা গুলো কে এপ্রেসিয়েট না করে খালি ফলাফল কেই প্রাধান্য দেই। এটা ও ঝামেলার ব্যপার। পিঠ চাপড়ে বলার কেউ থাকেনা যে, চেষ্টা তো করেছিস, রেজাল্ট যাই আসুক, ব্যপার না। শুধু ভালো রেজাল্ট করলেই সফল আর অন্যথায় বিফলের যে ধারণা সমাজ দিয়ে রেখেছে, সেটা থেকে বের হয়ে আসার উপায় নেই দেখেই তরুণরা হতাশ হয়৷
সব মিলিয়ে মুভিটি খুব ভালো লেগেছে। দেখতে পারেন।



















































































