আমাদের ভার্সিটির সাথে নরমালি ইন্ড্রাস্ট্রির একটা বিশাল দূরত্ব আছে। কারণ, আমাদের দেশের কোম্পানী গুলো যেহেতু রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট এ খুব বেশি কিছু করেনা, তাই ভার্সিটি কোলাবোরেশন নেই আর তাই, আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা নিজেদের সেক্টরে পড়াশুনা শেষে দ্রুত সে রিলেটেড ইন্ডাস্ট্রিতে জয়েন করতে পারেনা। তাদেরকে এত এত অনার্স মাস্টার্স শেষ করে আবারো চাকুরীর জন্য প্রস্তুতি নিতে হয় ও কোম্পানি গুলোর পেছনে ছুটতে হয় একটা চাকুরীর জন্য। দেখা যায়, অনেকে বের হয়ে অল্প সময়ে ভালো কোন কোম্পানিতে জয়েন করে ফেলে আবার অনেকে একটু বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়।
এটার পেছনে প্রথম কারণ কিন্তু রেজাল্ট, মেধা বা যোগ্যতা না। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এ দ্রুত জয়েন করতে পারা মানুষ গুলো ইন্ডাস্ট্রির সাথে তাদের অনার্সে পড়াকালীন ওয়েল কানেক্টেড ছিল। তারা বেশ ভালো কিছু কোম্পানীর বিভিন্ন লেভেলের মানুষ জনেকে চিনতো, নিজেকে কোন না কোন ভাবে তাদের সাথে কানেক্ট করেছে এবং নিজের পটেনশিয়ালটা কাজের মাধ্যমে প্রুফ করেছে বলেই পড়াশুনা শেষে এপ্লাই করেই জব হয়ে গিয়েছে। আর যে সেসবের কিছুই করেনি, তাকে কেউ চিনেনা বলে হয়তো রেজাল্ট অনেক ভালো হওয়ার পরেও কেউ ডাকছে না।
কিছু কমন ওয়েতে আন্ডারগ্রেড থেকেই প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং করা যায়ঃ
১। ইন্টার্নশিপ- বিশ্বাস করেন আর নাই করেন, এর কোন বিকল্প নেই। কোথাও পেইড বা আনপেইড ইন্টার্নশিপ করেন। কোম্পানিকে জানবেন, মানুষ গুলোকে জানবেন, কিছু কাজ শিখবেন আর কোম্পানির কালচার জানবেন। যখন চাকুরীর জন্য এপ্লাই করবেন, কোম্পানী ধরে নিবে যে আপনি অলরেডি অনেকখানি ট্রেইন্ড। আমেরিকায় ইন্টার্নশিপ লেড জব হয় প্রচুর।
২। সিনিয়রদের সাথে যোগাযোগ- এ্যলুম্নি কানেকশন তারপরের ইফেক্টিভ উপায়। নিজের ডিপার্ট্মেন্ট ও তার বাইরে সিনিয়র ভাই-আপুরা কে কই জব করে খোজ নেন। ওনাদের সাথে রেগুলার ব্যাসিস এ যোগাযোগ করেন। পারলে মাঝে মাঝে কল দিয়ে অফিসে দেখা করতে জান আর নিজের ইন্টারেস্ট শো করেন। জানার চেষ্টা করেন যে ওনাদের ভ্যাকেন্সি কেমন আর রিক্রুটমেন্ট প্রসেস কি। ফোর্থ ইয়ার থেকে এ যোগাযোগ বাড়িয়ে দিন আর নিজের রিজুমি/সিভি দিয়ে রাখুন। বিশ্বাস করেন, এ মানুষ গুলাই আপনার জন্য সুপারিশ করে সিভিটা পিক করাবে। তাই, এমন সিনিয়রদের একটা লিস্ট থাকা চাই
৩। ভলান্টিয়ার করা- মাঝে মাঝেই দেখবেন অমুক কোম্পানী বড় কোন ইভেন্টের জন্য লোক চাচ্ছে, কিন্তু ভলান্টিয়ার পজিশন, টাকা দিবেনা। সেগুলায় জয়েন করেন। নিজের লিডারশীপ, টিম-ওয়ার্ক, প্রেজেন্টেশন এর ক্যাপাসিটি দেখান আর কিছু মানুষের সাথে কন্টাক্ট ডেভেলপ করুন, এগুলা বেশ ভালো কাজে দেয়।
৪। ডিপর্টেমেন্টে ওয়ার্কশপ এ্যারেঞ্জ করা- যদি সম্ভব হয় নিজের ডিপার্টমেন্টে কোন প্রোগ্রাম এ্যারেঞ্জ করা আর সেখানে গেস্ট হিসেবে ভালো কোম্পানির মানুষজনকে নিয়ে আসা। এভাবে ওনাদের সাথে পরিচিত হওয়া যায় আর নেটওয়ার্ক ও হবে।
৫। ক্যারিয়ার ক্লাব- ভার্সিটির ক্যারিয়ার ক্লাবে অবশ্যই জয়েন করবেন। পারলে লিডিং পর্যায়ে যান। আখেরে কাজ দিবে।
আমি জাস্ট কিছু প্রো-টিপস শেয়ার করলাম। নিজেরাই অনেক কিছু খুঁজে বের করতে পারবেন। শুধু সিজিপিএ দিয়ে হবেনা আবার শুধু এক্সট্রাকারিকুলার দিয়েও হবেনা। প্রোপার ব্যালেন্স করতে হবে আর প্ল্যান করে আগাতে হবে।
#taninzaid #careerinBD


















































































