আমরা যারা মধ্যবিত্ত বা নিন্ম-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছি, তারা জীবনের নানা সময়ে আর্থিক টানাপোড়নের ব্যপারটি খুব ভালো করে উপলব্ধি করি। আমাদের সামাজিক অবকাঠামোতে আর্থিক প্রয়োজনে এগিয়ে আসে পরিবারের সদস্যরা অথবা আত্মীয় স্বজন। কিন্তু যদি এমন হয় যে এমাউন্টও কিছুটা বড় ও সাহায্য করার কেউ নেই, তখন ঝামেলার মাত্রা টের পাওয়া যায়। ব্যাংক লোন, বা মহাজনের কাছে যখন সূদ থেকে বাচার কোন উপায় থাকেনা, তখন ইসলামি সমাধান কর্জে হাসানাই হয়ে উঠে একমাত্র ভরসা। আমার জীবনেও এ কর্জে হাসানা বিভিন্ন সময়ে বড় আর্থিক সমস্যার সমাধান করেছে। যদি এক বাক্যে বলি আমি এ মুহূর্তে যতটুকু যা করছি, তার পেছনের অন্যতম সাপোর্ট হিসেবে এ কর্জে হাসানাই ছিল। কেন বলছি সেটি লিখার পরের পার্টেই বলছি।
অনেকবার কর্জে হাসানার মাধ্যমে জীবনে উপকার পেয়েছি এখানে জাস্ট ৩ টা ঘটনার কথা বলতে চাই। শুরুর টা হলো ইউনিভার্সিটি ৪র্থ বর্ষে থাকতে আরো ২ জন বন্ধু/ভাই সহ একটি ব্যবসা শুরু করেছিলাম। তখন স্টুডেন্ট আবার ফ্যামিলি থেকে টাকা নেয়ার সুযোগ ছিলনা কিন্তু ব্যবসা করার অদম্য ইচ্ছেটা মরে যাবে এটা কল্পনা করতে কষ্ট হচ্ছিল, তাই কয়েক জন ভাইয়ের কাছে কর্জে হাসানাহ চাইলাম। আল্লাহর অশেষ রহমতে দুইজন ভাই কর্জে হাসানাহ দিলেন আর ব্যবসা শুরু করতে পারলাম।
২য় দফায় কর্জে হাসানাহ আবারো সমাধান হয়ে দেখা দিয়েছে যখন বিয়ে করছি। পড়াশুনা শেষে চাকুরিতে ঢুকার বছরখানেক পর পরিবার থেকে বিয়ে করতে বলা হলো। কিন্তু বিয়েতে যে খরচ হয়, সে পরিমাণ টাকা আমার কাছে সেভিংস ছিলোনা আবার ফ্যামিলি সব দিতে পারবে না। এ অবস্থায় অনেকে এ সেভিংস না থাকায় পিছিয়ে গেলেও আবারও আল্লাহর উপর ভরসা করে কর্জে হাসানার কথা মাথায় রেখে মত দিলাম। সেবার ও এক বন্ধু ও আরেক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে কর্জে হাসানাহ পেয়েছি। সে টাকা দিয়ে সুন্দরভাবে বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সর্বশেষ যখন আমেরিকায় উচ্চ-শিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম এবং সব ঠিক হয়ে গেলো, তখন একটা বড় অংকের টাকা দরকার পড়লো। যেহেতু আমার স্ত্রী ও একসাথেই আসার প্ল্যান হলো, তাই ইমেডিয়েট খরচ বেড়ে গেল অনেক। এমন পরিস্থিতিতে হতাশ হইনি কারণ ততদিনে একটা কনফিডেন্স এসে গিয়েছে যে আবারো এ কর্জে হাসানার মাধ্যমে এ ফাইনেন্সিয়াল ক্রাইসিসের সমাধান হবে৷ শুভাকাঙ্ক্ষী দের লিস্ট করে কল দিয়ে অবস্থা জানিয়ে কর্জে হাসানাহ চাইলাম। এবারো আল্লাহ নিরাশ করেননি। যত টাকা লাগতো সেটা ম্যানেজ হয়ে গেলো আর আমেরিকায় পড়াশুনা করতে আসতে কোন ঝামেলা রইলো না।
বর্তমানেও অনেক গুলো কাজ এ কর্জে হাসানাহ দিয়েই চালিয়ে নিচ্ছি, আলহামদুলিল্লাহ। এভাবে ফাইন্যান্স ম্যানেজ করে অনেক গুলো উপকার পেয়েছি যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এ পর্যন্ত সূদ ভিত্তিক কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়ানো লাগেনি বা সূদ দেয়া লাগেনি। আরেকটি হলো, এ কর্জে হাসানাহকে কখনো লোন মনে করে মানসিক পীড়া হয়নি বা টেনশনে ভুগিনি।
এখন নিজেও কারো কর্জে হাসানাহ লাগলে দেয়ার চেষ্টা করি এবং ইচ্ছে আছে কর্জে হাসানার যে কোন ছোট বড় উদ্যোগে নিজেকে যুক্ত করার। আমাদের অনেকের যৌথ প্রচেষ্টায় আল্লাহ তায়া’লা সূদ ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার একটি বড় অল্টারনেটিভ হিসেবে এ কর্জে হাসানাহকে দাড় করিয়ে দিক। আমীন।


















































































