ইউনূস সেন্টারে আড়াই বছর কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে, আর সেই সময়ের প্রতিটি ঈদই আমার জন্য বিশেষ কিছু নিয়ে এসেছে। প্রতি ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে একটা চমৎকার দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠত—প্রফেসর ইউনূস স্যার আমাদের সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন, হাত মেলাতেন, কুশল বিনিময় করতেন, এবং আন্তরিকভাবে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতেন। এমন একটা উদাহরণ খুব কম দেখা যায়, যেখানে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তি এমডি থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মচারী—সবার সঙ্গে একইভাবে দেখা করেন, কথা বলেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সেদিন গুলো ছিল একটু ব্যতিক্রম। অফিস খোলার পর স্যার প্রথমেই তার কক্ষ থেকে বের হয়ে পুরো অফিস ঘুরে কুশল বিনিময় করতেন। অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন, এটি একটি সাধারণ সৌজন্যতা, কিন্তু যারা ইউনূস স্যারকে চেনেন, তারা জানেন—তার প্রতিটি কথা আন্তরিক, তার প্রতিটি হাসি নিখাদ।
এরপর তিনি বিল্ডিংয়ের নিচে নেমে আসতেন, যেখানে গ্রামীণের সব কোম্পানির স্টাফরা অপেক্ষা করেন। তিনি একজন একজন করে সবার সঙ্গে হাত মেলাতেন, কথা বলতেন, কেউ নতুন হলে নাম জিজ্ঞেস করতেন। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে যেতেন, কারণ এমন একজন নোবেল বিজয়ী, বিশ্বব্যাপী পরিচিত ব্যক্তি যখন আপনাকে আলাদাভাবে লক্ষ্য করেন, তখন সেটা নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়।
সবশেষে, পুরো বিল্ডিংয়ের সামনে সবাই মিলে গ্রুপ ছবি তোলা হতো। এই ছবিগুলো শুধু কিছু ফ্রেমবন্দি মুহূর্ত নয়, বরং একটি প্রতিষ্ঠানের বন্ধন, সংস্কৃতি, এবং নেতৃত্বের উদাহরণ।
প্রফেসর ইউনূস সবসময় মানুষের কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসেন, মানুষের সঙ্গে সরাসরি মিশতে পছন্দ করেন। আজ যখন সরকার প্রধান হিসেবে তার গণমানুষের সঙ্গে হাত মেলানোর ভিডিও দেখি, তখন আমার ইউনূস সেন্টারে কাটানো দিনগুলোর স্মৃতি একের পর এক মনে পড়ে যায়।
আল্লাহ তাকে সুস্থতা ও দীর্ঘ হায়াত দান করুন। দেশের জন্য তিনি যে অবদান রেখেছেন, তা যেন আরও শক্ত ভিতের ওপর গড়ে উঠতে পারে। ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকে তার সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পেয়েছিলাম। তখন থেকে শিখছি, আর এখনও শিখছি।



















































































