পবিত্র রামাদান চলেই এলো। প্রস্তুতি হিসেবে আমি এবার খুজছিলাম এমন কোন বই যেটা হেল্প করবে ভালো প্ল্যান করতে আর রমজানের লক্ষ্য উদ্দেশ্যে পূরণে হেল্প করতে। অনলাইনে ‘Productive Ramadan’ নামে একটা বই পেলাম যেটি লিখেছেন প্রোডাক্টিভ মুসলিম বইয়ের লিখক মুহাম্মাদ ফারিস ও আলি হাম্মুদা নামে আরেকজন। এ বইটি প্রফেশনালদের বাস্তবতা ভিত্তিক রমজান পরিকল্পনা গুলো বেশ ভালো লেগেছে আর আমি শিক্ষা গুলো ব্লগ আকারে শেয়ার করবো এ বই থেকে।
রমজান আসে আবার চলেও যায়। আমরা কি কনফিডেন্টলি বলতে পারি যে পরিপূর্ণ হক আদায় করে রোজা পালন করেছি? এ মাস যে কারণে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে সে ত্বাকওয়া/আল্লাহ ভীতি অর্জন হয়েছে! আত্মিক পরিশুদ্ধতা কি আসে আমাদের যেটি সারা বছর আমাদের হেল্প করে একজন ভালো মুসলিম হিসেবে জীবন চালাতে? বেশির ভাগ প্রশ্নের উত্তরই আমার নেগেটিভ ছিল। তাহলে আরেকটা রমজানও কি একই ভাবে যাবে? নাকি আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি এটাকে ভিন্নভাবে কাজে লাগানোর? কাজে লাগাতেই চাইবেন বেশিরভাগ মানুষ। কিভাবে প্রস্তুতি নেয়া যায়?
কৃতজ্ঞতা: এই যে আরেকটা রোজার মাস যে পাওয়ার সুযোগ হয়েছে এ জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ হতে হবে শুরুতে। কত লক্ষ মানুষ গত বছর রোজা করেছিল আর এবার কবরে বা অসুস্থতার জন্য রাখতে পারছে না। আমরা যারা পারছি, তারা ভাগ্যবান। এ নিয়ামাতকে পেয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করা, রিয়ালাইজ করা যে এটা ওনার অনুগ্রহ।
নিয়তের পরিশুদ্ধতা: এবার রামজান শু্রুর আগেই নিজের নিয়তকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। যেহেতু আরেকটা মাস পেয়েছি, এটাকে ১০০% কাজে লাগানোর চেষ্টা করার নিয়ত দরকার। প্রতিটা কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। তাই, এবার আর কোনভাবেই হেলাফেলায় কাটাবো না। নিয়্যাত করলাম আর প্ল্যান করে যদি কোন কারণে মারা যাই বা অসুস্থতা/ব্যস্ততায় করতে না পারি, আল্লাহ চাইলেই প্রতিদান দিতে পারেন।
রমজানের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা: ফরজ ও ওয়াজিব পালন, কতটুকু কুরআন পড়বো, কয়টা আয়াত মুখস্ত করবো, কয়টা হাদীস পড়বো, ইসলামের কোন কোন বিষয় নিয়ে জানবো, কয়টা নতুন দোয়া শিখবো, নফল ইবাদাত কি কি করবো, কত টাকা দান-সাদাকাহ করবো, কিভাবে আত্মীয়দের খোজ নিব, যিকির কখন করবো, সহ সব কিছুর একটা পরিকল্পনা কোথাও লিখে ফেলা ইমেডিয়েট কাজ। শারিরীক ফিটনেস, মানসিক সুস্থতা, ঘুমের স্কেজেউল, প্রফেশনাল কাজের মধ্যে সময় বের করার প্ল্যান করতে পারলে সুন্দর রমজান পাওয়া সহজ হবে। তাই, এসব নিয়ে খাতা-কলমে পরিকল্পনা করার এখনই সময়।
যতটুকু পারা যায় স্পেসিফিক পরিকল্পনা করতে হবে। আমরা অনেক কিছু করতে চাই, এজন্য কিছুই হয়না। ভালো প্ল্যান হতে পারে এমন- এ রোজায় প্রতিদিন আমি ১ পারা কুরআন পড়বো (সকালে ফজরের পরে ৫ পেইজ আর বিকেলে আসরের পরে ৫ পেইজ), টোটাল ৩ হাজার টাকা দান করবো (২০ দিনে এত আর শেষ ১০ দিনে এত: মসজিদে এ এমাউন্ট, গরীবদের এ এমাউন্ট ইত্যাদি)।
তাহলে চলেন আল্লাহর কাছে বিনম্ম কৃতজ্ঞতা করে এ রমজানে আমার জন্য বেস্ট হবে এ নিয়্যাত করে, পরিকল্পনাটা করে ফেলি। এ লিখা যদি আপনি পড়েন, তাহলে এখনই বসুন। ফোনের নোটে অথবা খাতায় লিখে ফেলেন আপনার জীবনের সেরা রমজানের পরিকল্পনা।



















































































