আমেরিকার প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স এবং পিএইচডি লেভেলে টিচিং, রিসার্চ এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ এই তিন ক্যাটাগরিতে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাবার সুযোগ থাকে। এসব অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের বিনিময়ে টিউশন ফি ওয়েইভ করা হয় এবং সেই সাথে লিভিং কস্টও কাভার করা যায়। অনেক শিক্ষার্থী ইউরোপীয় দেশগুলোতে পড়তে যাওয়ার সময় জানতে চান যে, সেখানে আমেরিকার মতো Teaching Assistantship (TA) বা Research Assistantship (RA) পাওয়া যায় কি না। উত্তর হল না, ইউরোপের অধিকাংশ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এসব অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের তেমন কোনো প্রচলন নেই। এখন কথা হল তাহলে এসব দেশে ফান্ডিং কীভাবে পাওয়া যায়, আর কীভাবেই বা ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টরা টিউশন ফি এবং লিভিং কস্ট কাভার করে। ইউরোপীয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমেরিকার মতো অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ না (কিছু ক্ষেত্রে থাকে) থাকলেও ফান্ডিংয়ের অন্য অনেক বিকল্প সুযোগ আছে যার মাধ্যমে সহজেই উচ্চশিক্ষায় যাওয়া যেতে পারে।
আমেরিকা এবং ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মূল পার্থক্য-
ইউরোপে মাস্টার্স লেভেলে সাধারণত অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া যায় না। এসব শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ ও পার্ট-টাইম চাকরি করার সুযোগ থাকে। তবে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মতো কিছু সুযোগ আছে।
ইউরোপের অনেক দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি কম বা বিনামূল্যে, তাই আমেরিকার মতো অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের প্রয়োজন কম। তবে লিভিং কস্টের ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হয়।
কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন রিসার্চ প্রজেক্টে কাজ করে এককালীন বা মান্থলি কিছু স্টাইপেন্ড পেতে পারেন, তবে এটি রেগুলার TA/RA-এর মতো নয়।
ইউরোপে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের বিকল্প কী হতে পারে-
১। দেশভিত্তিক সরকারি স্কলারশিপ:
অনেক ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেধার ভিত্তিতে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের দেশভিত্তিক সরকারি স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। এসব স্কলারশিপ সাধারণত শুধু ওইসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করতে অফার করা হয়। যেমন: DAAD (জার্মানি), Eiffel Excellence Scholarship (ফ্রান্স), Swedish Institute Scholarships (সুইডেন)।
২। সরকারি ও আন্তর্জাতিকমানের স্কলারশিপ:
বিভিন্ন দেশের সরকার এবং EU (European Union) শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ প্রদান করে থাকে। এসব স্কলারশিপ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্বের কয়েকটি দেশে উচ্চশিক্ষায় যাবার সুযোগ পায়। যেমন: Erasmus Mundus Joint Master’s Scholarship (EU-ভিত্তিক), Chevening Scholarship (যুক্তরাজ্য), Norwegian Quota Scheme (নরওয়ে, নির্দিষ্ট কিছু দেশের জন্য) ইত্যাদি।
৩। পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ:
অনেক ইউরোপীয় দেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময় বেধে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম কাজের পারমিশন দেয়। যেমন: জার্মানিতে বছরে ১২০ দিন ফুল-টাইম বা ২৪০ দিন পার্ট-টাইম কাজ করা যায়, ফ্রান্সে বছরে সর্বোচ্চ ৯৬৪ ঘণ্টা কাজের অনুমতি পাওয়া যায়, নেদারল্যান্ডসে সেমিস্টারের সময় সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজের অনুমতি দেয়া হয়।
৪। পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য ফান্ডিং ও চাকরির সুযোগ:
ইউরোপের অনেক দেশে পিএইচডি করা মানে চাকরি পাওয়া। এসব দেশে পিএইচডি শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি দেয়ার বদলে নিজেরাই মাসে ভালো এমাউন্টের টাকা পায় যা দিয়ে লিভিং কস্ট খুব সহজেই কাভার হবার পাশাপাশি কিছু সেইভও করা যায়। জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্কের মতো দেশে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন দেওয়া হয়। এজন্য পিএইচডি করতে চাইলে ইউরোপ অনেক ভালো একটা অপশন হতে পারে।
ইউরোপে উচ্চশিক্ষা এবং ফান্ডিং নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে পারবেন এই ব্লগ লিংকে-



















































































