আমেরিকায় ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের জন্য হেলথ ইনস্যুরেন্স নেয়া বাধ্যতামূলক। যেহেতু হেলথ ইনস্যুরেন্স কনসেপ্ট টাই আমাদের দেশে নেই, তাই এ বিষয়ে কিছু ব্যাসিক ধারণা দেয়ার চেষ্টা করবো। কারণ অনেকে এটা নিয়ে না জানার কারণে বিভিন্ন রকমের ঝামেলায় পড়ে। তাই দেশ থেকে আসার আগেই জেনে আসা ভালো।
শুরুতেই বলে আমেরিকার হেলথ সিস্টেম একটা হোক্স! গত ৫ বছরে আমার অভিজ্ঞতা সহ বাকিদের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে যা দেখলাম, তাতে এ সিস্টেমকে জনকল্যাণমূলক বলার কোন উপায় নেই। হসপিটাল গুলো বলেন, ডক্টর বা হেল্প ইনস্যুরেন্স; ঘাপলা থাকেই আর ভোগান্তি হয় সাধারণ মানুষের। এখানে হেলথ ইনস্যুরেন্স বাধ্যতামূলক, এছাড়া চাইলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডকটরের এপয়েন্টমেন্ট ও পাওয়া যায়না। বিদেশি স্টুডেন্টদের জন্য একিই নিয়ম প্রযোজ্য যেটা ভার্সিটি থেকে বলে দেয়। অনেক ফান্ডীং এ হেলথ ইনস্যুরেন্স কাভার করে, মানে ভার্সিটি টাকাটা দিয়ে দেয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজের পকেট থেকেই টাকা দিতে হয়।
সিস্টেম হলো ইউনিভার্সিটি লিস্টেড ইনস্যুরেন্স কোম্পানি থেকে ৬/১ বছরের জন্য ইনস্যুরেন্স কিনতে হয়। মাসে একটা এমাউন্ট প্রিমিয়াম দেয়া লাগে। এটা কত সে এমাউন্ট নির্ভর করে অনেক কিছুর উপর। এ ইনস্যুরেন্স ক্লাশ শুরুর আগেই নিতে হয়। এবার আপনি আগামী এক বছর একদিনের জন্য ডক্টর না দেখালে বা মেডিসিন না খেলে ও প্রতি মাসে এ টাকা দিয়ে যেতে হবে। আর যদি কোন কারণে দেখানো লাগে, তাহলে সামান্য কো-পে (১০-২০ ডলার) দেয়া লাগে আর বাকী ডক্টর ফি ইনস্যুরেন্স কাভার করে। বেশ কিছু মেডিসিনে কো-পে করা লাগে আর অনেক গুলা ইনস্যুরেন্স কাভার করে।
এখন কারও বড় কোন এক্সিডেন্ট বা রোগ হল, সেটা কাভার করবে কিনা এ হিসেব আলাদা। কেউ প্রেগনেন্ট হল, সেটাও আলোচনার বিষয় যে প্রেগেন্সি আর ডেলিভারির খরচ ইনস্যুরেন্স দিবে কিনা। ইনস্যুরেন্সে চোখ ও দাঁত কাভার করে কিনা সেটা ও দেখতে হবে। আর এমন শুকনা কোন ঝামেলায় ইনস্যুরেন্স গুলার ফাঁক ফোঁকার অনেক। এগুলো নিয়ে শুরুতে জেনে নিতে হয়। স্টুডেন্টের ইনস্যুরেন্স আবার ডিপেন্ডেন্ট কাভার করেনা। কেউ যদি স্পাউস/বাচ্চা নিয়ে আসে, তাদের মেডিকেল খরচ নিয়ে একটা শঙ্কা থেকেই যায়। ওদের আলাদা ইনস্যুরেন্স নেয়া লাগে যেটার খরচ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্টুডেন্টের চেয়ে বেশি।
সর্বসাকুল্যে, হেলথ ইনস্যুরেন্স নিয়ে পড়াশুনা করতে হবে। কি কাভারেজ আছে আর নেই, জানলে যে কোন ইস্যুতে বার্গেইন করার সুযোগ থাকে। মেডিকেলের বড় খরচ গুলো কিভাবে ম্যানেজ করা যায়, সেটা নিয়ে আরেক ব্লগে আলাপ করবো।



















































































