নিজের আসল সাহায্য নিজেকেই করতে হয় 

দিন শেষে আমরা সবাই একা। শুনলে মনে হবে আরে ভাই বলে কি! আমার আশে পাশে কত মানুষ সাপোর্ট করার জন্য! মা-বাবা থেকে শুরু করে ভাই-বোনেরা, আত্মীয় স্বজন, হাজার হাজার ফ্রেন্ড, আরও কত শুভাকাঙ্ক্ষী, তাহলে একা হলাম কিভাবে? সত্যি কথা যে আমরা অনেকেই বিশাল সাপোর্ট সিস্টেম নিয়ে চলি এবং প্রচুর সাহায্য ও পাই কিন্তু আলটিমেটলি নিজেকেই আসল লড়াইটা লড়তে হয়। 

কেন এভাবে বলছি? ধরুন, আপনি ফাইনেন্সিয়ালী খুব কষ্ট করছেন আর আপনার একটা চাকুরী দরকার। এ সময়ে আপাতকালিন কারো কাছে ধার নিয়ে চলতে পারেন, অথবা কাওকে বলতে পারেন জবের জন্য একটু হেল্প করতে। টাকা বা জবের লিংক দিয়ে হেল্প করবেও অনেকে কিন্তু ফাইনালি ভালো প্রস্তুতি নিয়ে জবের পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ দিয়ে ভালো করাটা কিন্তু একান্তই আপনার কাজ। আর নিজেকে ফাইন্সেন্সিয়ালি সলভেন্ট করার জন্য ও যত রকমের স্ট্রাগল আছে, সেগুলা বেশির ভাগ সময়ই একা করতে হবে। একটা ভালো পজিশনে গেলে একসময় অনেকেই ক্রেডিট নিবে বা বাহবা দিবে। আর যদি সিনারিও উল্টা হয় আর আপনি ভালো কিছু করতে না পারেন, কেউ দায়বদ্ধতা নিবে না আর টিটকারি মারতে ও দ্বিধাবোদ করবে না। 

জব বা ফাইনেন্সিয়াল হার্ডশিপ একটা উদহারণ মাত্র, এর বাইরে যত জায়গা থাকতে পারে জীবনে, সব খানেই এমন একা ফাইট করার ব্যপার থাকে। একটু আশা পাশে তাকালেই দেখবেন, আপনার খুব কাছের কাওকে হয়তো আপনি অনেক হেল্প করে যাচ্ছেন বা চেষ্টা করছেন, কিন্তু সে যদি নিজে থেকে প্রো-একটিভ হয়ে না আগায় বা চেষ্টাটা খুব ভালোভাবে না করে, তাহলে বছরের পর বছর একই জায়গায় থাকবে আর আপনি আফসোস ছাড়া কিছু করার থাকবে না। তাই, যদি কেউ বলে, আরে মিয়া, ধুমায়া পলিটিক্সে টাইম দাও, চাকুরীর জন্য ভাই আছি, বা দল আছে তো, টেনশন নাই! বিশ্বাস করেন, এর উপরে ভরসা করে যদি আন্ডারগ্রেডে পলিটিক্স করতে গিয়ে রেজাল্ট খারাপ করেন, তো এ ভাই বা ভাইয়ের দল প্রয়োজনের সময় টিনের চশমা চোখে দিয়ে আপনার দিকে তাকাবে। এমন ভরসা যে কেঊ দিতে পারে যে সব করে দিব আমি, তোমার টেনশন নাই। আসলে করবে না, আর করলেও যতটুকু করা দরকার, ততটুকু করবে না কারণ আপনার ভালো অন্যজন কোনদিন বুঝবে না। 

মোদ্দা কথা হলো, নিজে কি করবো বা করবো না, এটা নিজেকেই প্ল্যান করতে হবে। সাহায্য অবশ্যই নিতে হবে কিন্তু পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, চেষ্টাটা একান্তই নিজের আর যাই হউক আপনার সাথে, সেটার সুখ বা দুঃখের অনুভূতি ও আপনার কাছেই প্রকট হয়ে ধরা দিবে। তাই, নিজের ফাইট নিজেই করা শেখাটা বেশি দরকার।

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    Australia-তে Non-STEM ব্যাকগ্রাউন্ডদের কেমন সুযোগ রয়েছে?
    Australia
    Australia-তে Non-STEM ব্যাকগ্রাউন্ডদের কেমন সুযোগ রয়েছে?

    অনেকেরই ধারণা, অস্ট্রেলিয়ায় শুধু STEM (Science, Technology, Engineering, Mathematics) ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদেরই ভালো সুযোগ রয়েছে। তবে বাস্তবে বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। Non-STEM- দের জন্যও স্কলারশিপ, পিআর

    Read More »
    SOP লেখার ক্ষেত্রে সবাই যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি করে থাকে
    Application Materials
    SOP লেখার ক্ষেত্রে সবাই যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি করে থাকে

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনে Statement of Purpose যাকে সংক্ষেপে SOP বলা হয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ডকুমেন্ট। এটা এমন একটা ডকুমেন্ট, যা অনেক সময় একই CGPA, একই

    Read More »
    জার্মানিতে Non-STEM শিক্ষার্থীদের জন্য কেমন সুযোগ আছে?
    Germany
    জার্মানিতে Non-STEM শিক্ষার্থীদের জন্য কেমন সুযোগ আছে?

    অনেকেই মনে করেন, জার্মানিতে শুধু Engineering, Computer Science বা অন্যান্য STEM (Science, Technology, Engineering, Mathematics) বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যই সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মোটেও তা নয়।

    Read More »
    বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আবেদনের সময়ে ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
    Application Help
    বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আবেদনের সময়ে ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে অনেকের প্রথম প্রশ্ন থাকে—”বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং কি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?” সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: না, তবে অনেক দিকে থেকেই এটি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

    Read More »