ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টরা কানাডায় কোন কোন উপায়ে ফান্ডিং পায়?

ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টরা কানাডায় কোন কোন উপায়ে ফান্ডিং পায়?

কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমেরিকার মতোই প্রতি বছর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের প্রচুর ফান্ডিং দিয়ে থাকে। এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, ফেলোশিপ এবং বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড ও স্কলারশিপ থাকে। একেকটা বিশ্ববিদ্যালয় একেকভাবে স্টুডেন্টদের ফান্ড দিয়ে থাকে। তবে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই থাকে। তাছাড়া বেশ কয়েকটা সরকারি স্কলারশিপতো আছেই। কানাডাতে গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টরা কোন কোন উপায়ে ফান্ড পেয়ে থাকে আজকে এসব নিয়েই আলোচনা করব।

১. বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক স্কলারশিপ

বেশিরভাগ কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় মেধার ভিত্তিতে অথবা স্টুডেন্টদের আর্থিক দিক বিবেচনা করে এই স্কলারশিপগুলো প্রদান করে। এগুলোকে সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ফান্ডিং বলা যেতে পারে। যেমন- 

ব্যাচেলর বা মাস্টার্সে একাডেমিক স্কোর খুব ভালো থাকলে এন্ট্রান্স স্কলারশিপ দেয়া হয়। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স বা পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হবার পরে ফার্স্ট ইয়ারে অনেক ভালো একাডেমিক পারফরম্যান্স করে তাদের জন্য থাকে ইন-কোর্স স্কলারশিপ। আবার কিছু স্কলারশিপ থাকে যা শুধু আলাদাভাবে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদেরই দিয়ে থাকে। রিসার্চের অভিজ্ঞতা এবং ভালো সিজিপিএ থাকলে গ্র্যাজুয়েট ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। এই ফেলোশিপগুলোকে ডিপার্টমেন্টাল স্কলারশিপও বলা যায়।

২. রিসার্চ এবং টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ প্রোগ্রাম

মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রিসার্চ এবং টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে ফান্ডিংয়ের অনেক সুযোগ প্রদান করে। রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে সাধারণত প্রফেসরদের রিসার্চের কাজে সহায়তা করা লাগে। অপরদিকে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে আন্ডরগ্রেডের বিভিন্ন কাজ যেমন- টিউটরিং, গ্র্যাডিং, ল্যাবের কাজে সাহায্য করা ইত্যাদি করতে হয়। এসব কাজের বিনিময়ে স্টুডেন্টদের টিউশন ফি ওয়েইভ করা হয়। পাশাপাশি মান্থলি স্টাইপেন্ডও প্রদান করা হয় যা দিয়ে লিভিং কস্ট সহজেই কাভার করা যায়।

৩. সরকারি ও বিভিন্ন এক্সটার্নাল স্কলারশিপ

কানাডিয়ান সরকার ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গ্রাজুয়েট স্টুডেন্টদের জন্য ফুল-টাইম বা পার্ট-টাইম স্কলারশিপ প্রদান করে। এরকম কিছু বিখ্যাত কানাডিয়ান স্কলারশিপ হল-

  • Vanier Canada Graduate Scholarships (Vanier CGS) – পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর CAD 50,000 কানাডিয়ান ডলার পর্যন্ত স্কলারশিপ দেয়া হয়।
  • Ontario Graduate Scholarship (OGS) – মাস্টার্স/পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর CAD 15,000 কানাডিয়ান ডলার বরাদ্দ থাকে।
  • Banting Postdoctoral Fellowships – এই স্কলারশিপে পোস্টডক্টোরাল গবেষকদের জন্য প্রতি বছর CAD 70,000 কানাডিয়ান ডলার প্রদান করা হয়।
  • Canada-ASEAN Scholarships and Educational Exchanges for Development (SEED) – এই স্কলারশিপে সাধারণত এশিয়ান স্টুডেন্টদের জন্য স্বল্পমেয়াদী ভিত্তিতে কিছু স্কলারশিপ দেয়া হয়ে থাকে।

৪. ফুল-ফান্ডসহ রিসার্চ-বেসড প্রোগ্রাম

কিছু কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ফুল-ফান্ড অফার করে থাকে, যা টিউশন ফি এবং থাকা-খাওয়ার খরচও কাভার করে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হল-

  • University of Toronto
  • McGill University
  • University of Alberta
  • University of Waterloo

৫. বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে অর্থ আয়ের সুযোগ

প্রতি সেমিস্টারে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা এবং ভ্যাকেশনে ফুল-টাইম কাজের অনুমতি নিয়ে ক্যাম্পাসে কাজ করার সুযোগ থাকে। এটাকে অন-ক্যাম্পাস জব বলা হয়। আবার অনেক পেইড ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের সুযোগ থাকে যা কো-অপ প্রোগ্রাম নামেও পরিচিত।

৬. Need-Based ফান্ডিং

কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় সীমিত সংখ্যক স্টুডেন্টদের জন্য Need-Based অর্থাৎ আর্থিক অসচ্ছলতার ভিত্তিতে ফান্ডিং প্রদান করে। যেমন- University of Toronto International Student Financial Aid.

বাংলাদেশ থেকে কানাডায় উচ্চ-শিক্ষা ও পিআর- সব কিছু নিয়ে জানার ফ্রি রিসোর্স গুলো-

কানাডার বিখ্যাত Vanier Canada Graduate Scholarships (VCGS) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা

কানাডায় স্কলারশিপ সহ অনার্স কিভাবে করবেন- https://youtu.be/otWGu7u5HXw

কানাডায় মাস্টার্স ও ক্যারিয়ার গড়ার বিস্তারিত উপায়- https://youtu.be/GGyzdR5Kv3M

কানাডায় PR (Permanent Residentship) কিভাবে পাওয়া যায়- https://youtu.be/p2Puv0ezdjs

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-২)
    Career After HSC
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-২)

    সঠিক গ্রুপ নির্বাচন: কিভাবে বুঝবো কোনটা আমার জন্য? এসএসসি পেরোনোর পর শিক্ষার্থীদের জীবনে শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়। এই অধ্যায়ের শুরুতেই আসে এমন একটি সিদ্ধান্তের

    Read More »
    Ohio State University-র ১০টি ফান্ডেড পিএইচডি প্রোগ্রাম 
    Full-funded Phd programs
    Ohio State University-র ১০টি ফান্ডেড পিএইচডি প্রোগ্রাম 

    আমেরিকার Ohio State University নন-স্টেমের বেশ কয়েকটি সাবজেক্টে পিএইচডি লেভেলে প্রতি বছর বেশ ভালো ফান্ডিং দিয়ে থাকে। ফান্ডিংগুলো সাধারণত অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা ফেলোশিপের মতো স্কলারশিপের মাধ্যমে

    Read More »
    আমেরিকার Iowa স্টেটের ৩টি ফান্ডেড বিশ্ববিদ্যালয় 
    Higher Study Abroad
    আমেরিকার Iowa স্টেটের ৩টি ফান্ডেড বিশ্ববিদ্যালয় 

    আমেরিকার Iowa স্টেটে গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টদের জন্য খুব বেশি বিশ্ববিদ্যালয় নেই। বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই আন্ডারগ্রেড বা এই টাইপের প্রোগ্রাম অফার করে। আবার রিসার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ও কম এখানে। তবে

    Read More »
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-১)
    Career After HSC
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-১)

    বাংলাদেশে শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো এসএসসি শেষ করে উপযুক্ত এইচএসসি গ্রুপ নির্বাচন করা। এই সময়ে ছাত্রছাত্রীরা মূলত তিনটি প্রধান শাখার মধ্যে বেছে নেয়ঃ সাইন্স

    Read More »