আমেরিকায় হর্নের নানাবিধ ব্যবহার!

আমেরিকায় এসে যেখানে জীবন শুরু করেছিলাম, সেটা ছিল এথেন্স নামে ছোট্ট একটা শহরে। ইউনিভার্সিটি কাউন্টি হিসেবেই পরিচিত এ জায়গা। মানে হলো- ওহাইও ইউনিভার্সিটিকে কেন্দ্র করেই শহর গড়ে উঠেছে আর সব চেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানই হল এ ভার্সিটি। অল্প কিছু মানুষের বসবাস, সন্ধ্যা নামলে ঝি-ঝি পোকার ডাক ছাড়া কিছু শুনা যেতনা। আবার আমরা থাকতাম ভার্সিটি ক্যম্পাস থেকে ১০ মিনিট দূরে একটা ছোট পাহাড়ের টিলায়! সন্ধ্যা মানে ভুতুড়ে! 

এসে কিছুদিনের মধ্যে যেটা রাস্তায় ও ক্যাম্পাসে খেয়াল করলাম, সেটা হলো কেউ গাড়িতে হর্ণ বাজায় না। রাস্তার সিগন্যালে অনেক ট্রাফিক সারাদিন চলে, কিন্তু হর্ণ দেয়না কেউ কাওকে! একটু বেশি শান্ত লাগছিল যেহেতু ঢাকার হর্ণ শুনে অভ্যস্ত কান! ওহাইও এর ড্রাইভাররা বেশ ডিসিপ্লিন্ড ড্রাইভ করে দেখে হর্ণের মাত্রা আরও কম। 

যাক, এবার আসি হর্ণের ব্যবহার নিয়ে। নিজে যখন গাড়ী কিনলাম আর ড্রাইভিং শিখে রাস্তায় নামলাম, তখন মাঝে মাঝে হর্ণ শুনা শুরু করলাম। বিশেষ করে হাইওয়েতে। দেশে অন্য গাড়ীকে সাইড দিতে বলার জন্য হর্ণ দিলে এখানে বেশির ভাগ হর্ণ দেয় অন্যকে সতর্ক করতে। যেমন, আমি এক লেইনে গাড়ী চালাচ্ছি, হটাত বেখেয়ালে অন্য লেইনে অল্প করে ঢুকে গেলাম, ব্যাস, পেছনের গাড়ী হর্ণ দিয়ে জানালো যে ভাই, তুমি লেইনে এভাবে আসলে আমি মেরে দিতে পারি! অনেক সময় বেশি স্লো গেলে হুলুস্থুল কেউ হর্ণ দিয়ে ওয়ার্নিং  দেয়! আমি নতুন ড্রাইভার হিসেবে লেইন পাল্টাতে গিয়েও হর্ণ খেয়েছি কয়েকবার!  এছাড়া রাস্তায় হর্ণ কমন না ওহাইতে। 

কিছুদিন পরে নিউ-ইয়র্ক বেড়াতে গিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতা হলো। সেখানে রাস্তায় ভালোই হর্ণের আওইয়াজ শুনা যায়। কিছুটা ঢাকার মত অযথাই। যেমনঃ লাল থেকে সিগন্যাল সবুজ হওয়ার ১-২ সেকেন্ডের মধ্যে পেছন থেকে একসাথে কয়েকটা হর্ণ বাজে। বাকিদের বলে তাড়াতাড়ি যাও! বড় শহরের মানুষের ধৈর্য খুবই কম দেখে মনে হল এটা বিশ্বের শহর গুলার কমন প্যাটার্ন মনে হয়! 

ওহাইওতে খুব মজার কিছু কারণে হর্ন বাজাতে শুনতাম। যেমনঃ পোলাপান গ্র্যাজুয়েশন পার্টি করতেসে আর রাস্তার পাশে লিখে রাখে যে হর্ণ দাও যাওয়ার সময়। আবার কেউ নতুন বিয়ে করলে গাড়ির পেছনের গ্লাসে লিখে যে ‘Honk for the Just Married’। কেউ দেখসি লিখে যে আজকে আমার বার্থডে, হর্ণ দিয়ে উইশ করো! মানুষের নজরে পড়লে অনেককেই দেখসি হর্ন বাজিয়ে এপ্রেসিয়েট করতে। 

অভারল, হর্ণ বাজানো এখানে কমন না একদমই। আমি গত ৫ বছরের ড্রাইভিং এ হাতে গোনা কয়েকবার হর্ণ দিয়েছি নিজের আত্মরক্ষায়। তবে, ঢাকার হর্ন মিস করি মাঝে মাঝে! এত শান্ত কি আর ভালো লাগে! 

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    জুলাই মাসে যেসব ফুল-ফান্ডেড সরকারি স্কলারশিপের আবেদন শেষ হচ্ছে (২০২৬)
    Application
    জুলাই মাসে যেসব ফুল-ফান্ডেড সরকারি স্কলারশিপের আবেদন শেষ হচ্ছে (২০২৬)

    যারা ২০২৭ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য জুলাই মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসেই বেশ কয়েকটি ফুল-ফান্ডেড সরকারি স্কলারশিপের আবেদন শেষ হবে। 📌 নিচের

    Read More »
    আমেরিকায় ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের কম খরচে হেলথ ইনস্যুরেন্স

    আমেরিকায় হেলথ ইন্সুরেন্স পেতে ভালোই খরচ করতে হয়। সেটা যদি হয় পুরো পরিবারের জন্য, তাহলে তো কথাই নেই!  কম খরচে ইন্সুইরেন্স পাওয়া যায় গুটিকয়েক সোর্স

    Read More »
    Bangladeshi in NY
    ব্রুকলিন,নিউ ইয়র্কঃ এক টুকরো বাংলাদেশ

    একদিন মজা করে পোস্ট দিয়েছিলাম যে বাংলাদেশিদের কাছে আমেরিকা মানেই নিউ-ইয়র্ক। সবাই এ সিটিকে এক নামে চিনে, কারণ বাংলাদেশিদের সংখ্যাগত দিক থেকে এ স্টেটে সবচেয়ে

    Read More »
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-৩)
    Career After HSC
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-৩)

    বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় বিভাগ থেকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারসমূহ— এইচএসসি-পরবর্তী সময়ে গ্রুপ নির্বাচন কেবল দুই বছরের পাঠ্যসূচির ব্যাপার নয়, বরং ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরির একটি

    Read More »