TOEFL Exam নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আসতে English Proficiency Score খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফান্ডিং পেতে ভালো IELTS/TOEFL স্কোরের বিকল্প নেই। ল্যাংগুয়েজ টেস্টগুলোর মধ্যে IELTS অনেক বেশি পরিচিত হলেও আমেরিকাসহ বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় TOEFL চেয়ে থাকে। আজকে এই TOEFL নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করব।

TOEFL Exam কী?

TOEFL-এর পুরা নাম হল Test of English as a Foreign Language. ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের এই পরীক্ষাটি সাধারণত কম্পিউটার বেসড। TOEFL exam-এর উৎপত্তি মূলত আমেরিকাতে। ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের ইংরেজি ভাষা দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য ১৯৬২ সালে আমেরিকার National Council দ্বারা এই পরীক্ষাটি শুরু করা হয়। এজন্য আমেরিকার প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই IELTS-এর পাশাপাশি TOEFL score গ্রহণ করে থাকে। এছাড়া আমেরিকা ছাড়াও বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই IELTS এবং TOEFL দুটোই গ্রহণ করছে। তবে উচ্চশিক্ষায় আসার ক্ষেত্রে অবশ্যই আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে TOEFL গ্রহণ করে কিনা দেখে নিতে হবে।

TOEFL নাকি IELTS কোনটা দিব?

উচ্চশিক্ষায় আসার ক্ষেত্রে প্রায় সবারই দ্বিধা কাজ করে যে IELTS এবং TOEFL-এর মধ্যে কোনটা দিব। IELTS এবং TOEFL দুটোই ল্যাংগুয়েজ টেস্ট হলেও এদের মাঝে Format এবং Timing-এ অনেক পার্থক্য রয়েছে। আবার IELTS একটা Paper-based test. অন্যদিকে TOEFL সম্পূর্ণরূপে একটা Internet-based test. একারণে আগে আপনি কোন দেশে যেতে চাইছেন, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করছেন এবং আপনি ওই টেস্ট এক্সামের সাথে কমফোর্টেবল কিনা এই বিষয়গুলো দেখা প্রয়োজন। এখন IELTS এবং TOEFL-এর প্রধান প্রধান পার্থক্যগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

১। IELTS exam-এর ক্ষেত্রে সাধারণত দুই ধরনের টেস্ট থাকে। একটা হল IELTS General Training এবং আরেকটা হল IELTS Academic. সাধারণত যারা Working visa এবং Immigrant হিসেবে কোনো English-speaking country-তে যায় তাদেরকে IELTS General Training test দিতে হয়। অপরদিকে যারা পড়াশোনার জন্য আসে তাদেরকে IELTS Academic test দিতে হয়। কিন্তু TOEFL-এর ক্ষেত্রে কোনো টেস্ট টাইপ থাকে না।

২। IELTS exam কোনো প্রকার ব্রেক ছাড়াই দুই ঘন্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিট ধরে হয়ে থাকে যেখানে TOEFL exam দিতে তিন ঘন্টা লেগে যায়। তবে মাঝে দশ মিনিটের ব্রেক দেয়া হয়।

৩। IELTS-এর ক্ষেত্রে একজন পরীক্ষক থাকেন যিনি ওরাল ইন্টারভিউ নিয়ে থাকেন। কিন্তু TOEFL test-এ এরকম কিছু থাকে না। সম্পূর্ণ টেস্টটাই কম্পিউটার বেজসড এবং ওরাল ইন্টারভিউটা রেকর্ড করা হয়ে থাকে।

৪। খরচের ক্ষেত্রে দুটো টেস্ট প্রায় সমানই চার্জ করে। IELTS সাধারণত $245-$255 ডলার পর্যন্ত চার্জ করে থাকে এবং TOEFL $245 ডলার চার্জ করে থাকে। দুটো টেস্টের ক্ষেত্রেই নিজ নিজ ওয়েবসাইট থেকে পেমেন্ট করে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়।

৫। স্কোরিং করার ক্ষেত্রে IELTS exam-এ সার্টিফাইড পরীক্ষকরা থাকেন। অন্যদিকে TOEFL exam-এ পরীক্ষকের পাশাপাশি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

৬। TOEFL সাধারণত পয়েন্টে স্কোরিং করা হয়। চারটি সেকশনের প্রতিটিতেই 30 পয়েন্টস করে সর্বমোট 120 পয়েন্টস থাকে। টেস্ট দেয়ার পরে ছয় কর্মদিবসের মধ্যে রেজাল্ট পাওয়া যায়। রেজাল্টের পর TOEFL test score ৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ ফ্রিতে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।

অপরদিকে IELTS exam-এ ব্যান্ড স্কেল অনুযায়ী স্কোরিং করা হয়ে থাকে। ওভারঅল ব্যান্ড স্কোর থাকে 0-9. IELTS-এর ক্ষেত্রে ১৪ কর্মদিবসের মাঝেই রেজাল্ট পাওয়া যায় এবং টেস্ট রেজাল্ট সর্বোচ্চ ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো প্রকার খরচ ছাড়াই পাঠানো যায়।

৭। TOEFL বিশ্বের প্রায় ১৬০টি দেশের ১১,৫০০টি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইন্সটিটিউশনে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। আমেরিকাতে প্রায় সব জায়গাতেই TOEFL গ্রহণযোগ্য। IELTS বিশ্বের ১৪০টি দেশের ১১,০০০ প্রতিষ্ঠানে গ্রহণযোগ্য। আমেরিকার ৩,৪০০ টি ইন্সটিটিউশনে IELTS গ্রহণ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে ভালো TOEFL Score কত?

আমেরিকার প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে TOEFL-এর একটি মিনিমাম score requirement ধার্য করা থাকে। এই requirement বিশ্ববিদ্যালয় অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু সাধারণত সব বিশ্ববিদ্যালয়েই এই স্কোর ১০০-৭০ পয়েন্টসের মাঝেই থাকে।

এছাড়া ফান্ডিং পাবার ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ সেকশনে (রাইটিং বা স্পিকিং) অন্যান্য সেকশনের থেকে তুলনামূলক বেশি পয়েন্টস চেয়ে থাকে। তাই প্রস্তুতি নেবার সময় অন্যান্য সেকশনের পাশাপাশি এই দুই সেকশনে বেশি জোর দিতে হবে।

আবার অনেক সময় দেখা যায় ফান্ডিংয়ের রিকোয়ারমেন্টস হিসেবে প্রতিটি সেকশনেই আলাদা করে মিনিমাম পয়েন্টস ঠিক করা থাকে। সেক্ষেত্রে সব সেকশনেই সমান গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

TOEFL Exam-এর ফরমেট:

TOEFL-এর প্রতিটি সেকশনেই 30 পয়েন্টস করে থাকে। অর্থাৎ Reading-30, Writing-30, Listening-30 এবং Speaking-30 এভাবে সর্বোমোট 120 পয়েন্টসের পরীক্ষা হয়ে থাকে। নিচে চারটি সেকশনের বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

Reading Section:

এই সেকশনে সাধারণত ৩-৪ টি প্যাসেজ থাকে যেখানে প্রতি প্যাসেজেই ১৪টি করে প্রশ্ন থাকবে। ৪টি প্যাসেজ থাকলে ১টি প্যাসেজ এক্সপেরিমেন্টাল হিসেবে থাকে। পুরো রিডিং সেকশনের জন্য মোট ৫৪-৭২ মিনিটের মতো সময় বরাদ্দ থাকে। অর্থাৎ প্রতিটি পেসেজের জন্য গড়ে ১৮ মিনিট করে সময় পাওয়া যায়। এখানে অধিকাংশ প্রশ্নই General MCQ হয়। এছাড়া insert a sentence, complete the summary, complete the table, inference, vocabulary, sentence simplification এই ধরনের প্রশ্নও হয়ে থাকে।

Listening Section:

লিসেনিং সেকশনে ৩-৪ টি লেকচার অথবা 2-3 টি রেকর্ডেড কথোপকথন শুনানো হয়। লেকচারের ক্ষেত্রে প্রতি লেকচারে ৬টি প্রশ্ন এবং প্রতিটি কথোপকথনের ক্ষেত্রে ৫টি করে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। লেকচার হলে ৩-৫ মিনিট এবং কথোপকথন হলে প্রতিটি ৩ মিনিটের হয়। লিসেনিংয়ের জন্য সর্বমোট ৪১-৫৭ মিনিটের সময় থাকে। এখানে সাধারণত ৪ ধরনের প্রশ্ন করা হয়- Multiple choice, multi select multiple choice, complete a table এবং listen again). এছাড়া অডিওগুলোতে নর্থ আমেরিকা, ইউকে, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার Accent ব্যবহার করা হয়।

Speaking Section: 

সর্বমোট ২০ মিনিটের এই সেকশনে ৩ ধরনের টাস্ক থাকে। এগুলো হল-

1. Fimilar topic- এই টাস্কে আপনাকে পছন্দমত যেকোন একটি টপিকে কথা বলতে হবে।

2. Read, listen and speak- প্রথমে একটি প্যাসেজ পড়তে দেয়া হবে এবং প্যাসেজের টপিকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি অডিও বা ভিডিও দেখানো হবে। এরপর ২টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

3. Listen, Speak- একটি কথোপকথন শুনানো হবে এবং ১ মিনিটের মধ্যে ওই কথোপকথন থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

Writing Section:

রাইটিং সেকশনে মূলত দুটি ধাপ থাকে এবং প্রতিটিতেই একটি করে Essay লিখতে হয়। মোট সময় বরাদ্দ থাকে ৫০ মিনিট। ধাপ দুটি হল-

1. Integrated task- কিছু অডিও শুনানো হবে এবং অডিওর বিষয়বস্তু নিয়েই প্রায় ১৫০ শব্দের একটি Essay লিখতে হবে।

2. Independent task- যেকোন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে ৩০০ শব্দের মধ্যে একটি Essay লিখতে হবে।

TOEFL test-এ ভালো স্কোর তুলতে চাইলে সঠিকভাবে প্র্যাকটিসের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য বেশি বেশি প্র্যাকটিস টেস্ট দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। প্র্যাকটিস টেস্টগুলোর মাধ্যমেই কেবল টেস্টের নিয়মাবলি এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নেয়া সম্ভব হবে। ETS-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে TOEFL-এর অনেক ফ্রি এবং পেইড ম্যাটেরিয়াল রয়েছে যেগুলো একটা ভালো স্কোর তুলতে অনেক কাজে লাগবে।

Source: usnewsdotcom

TOEFL-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট-

https://www.ets.org/toefl.html

IELTS নিয়ে আমার লেখা এই ব্লগ পোস্টগুলো পড়ে দেখতে পারেন-

GRE ও IELTS এর প্রস্তুতির কোনটা আগে নিবেন?

ইংরেজি ব্যাসিক দূর্বলদের জন্য আইএলটিএস প্রস্তুতি

IELTS দেওয়ার আগে থেকে কি প্রফেসর দের ইমেইল করা শুরু করা উচিত না পরে?

TOEFL নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখে নিতে পারেন-

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    Marketing নিয়ে ফান্ডসহ পিএইচডি করার ৪টি আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় 
    Funded University List of Marketing
    Marketing নিয়ে ফান্ডসহ পিএইচডি করার ৪টি আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় 

    বিজনেস ফ্যাকাল্টির অন্যতম কোর সাবজেক্টগুলোর একটি হল Marketing. এই সাবজেক্টে ফান্ড যেমন আছে তেমনি পড়াশোনা শেষে ভালো ক্যারিয়ার গড়ারও প্রচুর সুযোগ আছে। একাডেমিয়াতো বটেই পাশাপাশি

    Read More »
    Master’s Degree in Applied Econometrics at Monash University
    Funding in Australia
    Master’s Degree in Applied Econometrics at Monash University

    অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় Monash University-তে Applied Econometrics নিয়ে ফান্ডসহ ফুল-টাইম মাস্টার্স করার সুযোগ আছে। Application Requirements: ১। এই প্রোগ্রামে স্টেম ও বিজনেস ব্যাকগ্রাউন্ডের যে

    Read More »
    আমেরিকার Kentucky স্টেটের ৮টি ফান্ডেড বিশ্ববিদ্যালয়ের লিস্ট
    Funded Universities in Kentucky State
    আমেরিকার Kentucky স্টেটের ৮টি ফান্ডেড বিশ্ববিদ্যালয়ের লিস্ট

    Kentucky স্টেট হল আমেরিকার এভারেজ লিভিং কস্ট স্টেট। এভারেজ হোম কস্টসহ আরও নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এখানে। আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকেও এই স্টেট বেশ

    Read More »
    অস্ট্রিয়াতে ক্যারিয়ার ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে বিস্তারিত
    Austria
    অস্ট্রিয়াতে ক্যারিয়ার ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে বিস্তারিত

    অস্ট্রিয়া মধ্য ইউরোপে অবস্থিত একটি উন্নত রাষ্ট্র, যা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং শিক্ষার গুণগত মানের জন্য বিখ্যাত। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় এখানকার

    Read More »