Statement of Purpose লিখা শুরু করবেন যেভাবে

কখনো কি এমন হয়েছে যে কোন একটা কিছু লিখতে গিয়ে বেশ কয়েকদিন বসেছেন কিন্তু শুরুটা কিভাবে করবেন বা প্রথম লাইনটা কি হবে এটা ভাবতে ভাবতে কিছুই লিখতে পারেন নি? আমার হয়েছিল যখন স্ট্যাটমেন্ট অফ পারপাস (SOP) লিখতে বসেছিলাম। মনে হচ্ছিলো, প্রথম লাইনটা যে কি লিখি!  এই শুরুর কয়েকটা লাইনই তো দেখে প্রফেসর ইম্প্রেশন পাবে! এটা ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত হয়ে বেশ কিছুদিন লিখতে পারিনি। কারণ, আমাদের ব্রেইন এ প্যাটার্নে কাজ করে যে শুরুতে ভূমিকা, তারপরে মূল বডী আর শেষে উপসংহার! এভাবেই যে প্রশ্নের উত্তর লিখে অভ্যস্ত ব্রেইন। দোষ দিয়েই বা কি লাভ! কিন্তু SOP মোটিভেশনাল লেটারের ক্ষেত্রে এভাবে লিখতে গেলে অনেকেই আটকে যায় আমার মত! তাহলে কোত্থেকে শুরু করবেন? আমি একটা স্পেসিফিক ওয়ে ফলো করেছিলাম আর সেটাই শেয়ার করছি। 

স্ট্যাটমেন্ট অফ পারপাসের ক্ষেত্রে কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে হয় যেমনঃ আপনি কে? এ সাবজেক্টে পড়াশুনার করার ইচ্ছে কেন জাগলো? এটার পেছনে কারণ গুলো কি কি? আপনি অতীতে রেলেভেন্ট কি কি করেছেন সেটার প্রমাণ এবং কোথায় কিভাবে সফল বা ব্যর্থ হয়েছেন? যা করেছেন সেগুলার রেলেভন্স এ পোগ্রামের সাথে। এখান থেকে পড়াশুনা শেষ করে কি করবেন এ ডিগ্রী দিয়ে? মূলত একটা গল্প লিখতে হয় যেটায় বুঝাতে হয় যে আপনি এ সাবজেক্টে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে না পারলে জীবনটাই বৃথা! 

লিখা শুরুর আগের কাজটা কি? বেশ গুরুত্বপুর্ণ একটা কাজ করতে হবে। সেটা হলো এ জীবনে পড়াশুনা এবং আর যা যা করেছেন, সব কিছুর লিস্ট করা শুরু করেন। মানে, এক্সট্রাকারিকুলার আর এচিভমেন্ট গুলা লিখে ফেলেন কোথাও! একদম ক্লাশ ওয়ান থেকে যা মনে আসে সব! এটা অনেক কাজে দিবে লিংক করতে। 

এরপর আসল কাজ হলো, ইন্ট্রো এর জন্য বসে না থেকে এ যে কয়টা পার্ট লিখতে হয় এটার যে কোন একটা বা দুইটা নিয়ে লিখা শুরু করেন। যেটা নিয়ে আপনি ক্লিয়ার সেটা নিয়ে লিখে ফেলেন। ২/৪ লাইন যা পারেন লিখতে থাকেন প্রতিদিন। উপসংহার ও লিখে ফেলতে পারেন মাথায় আসলে। দেখবেন বেশ ভালো লাগা কাজ করবে, আর মনে হবে অনেক টুকুই তো শেষ আর ততক্ষণে ভূমিকা কি হবে সেটা ও মাথায় চলে আসবে অবশ্যই। ব্যাস, শেষ হয়ে যাবে আপনার মহা মূল্যবান ডকুমেন্ট! এরপর এডিট, এডিট, আর এডিট! 

শুরুটা শুরু করতে না পারলে এটা করে দেখতে পারেন। এখানে ও যখন কোন টার্ম পেপার লিখি, তখন সব শেষ করে ফেলি আর একদম শেষে গিয়ে ভূমিকা লিখি। কারণ, ভূমিকা হলো পুরা লেখার একটা সামারীর মত আর আমরা সারা জীবন উল্টাটা করে আসছি! ব্যপার না, ওটা ও রাইট! 

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-২)
    Career After HSC
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-২)

    সঠিক গ্রুপ নির্বাচন: কিভাবে বুঝবো কোনটা আমার জন্য? এসএসসি পেরোনোর পর শিক্ষার্থীদের জীবনে শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়। এই অধ্যায়ের শুরুতেই আসে এমন একটি সিদ্ধান্তের

    Read More »
    Ohio State University-র ১০টি ফান্ডেড পিএইচডি প্রোগ্রাম 
    Full-funded Phd programs
    Ohio State University-র ১০টি ফান্ডেড পিএইচডি প্রোগ্রাম 

    আমেরিকার Ohio State University নন-স্টেমের বেশ কয়েকটি সাবজেক্টে পিএইচডি লেভেলে প্রতি বছর বেশ ভালো ফান্ডিং দিয়ে থাকে। ফান্ডিংগুলো সাধারণত অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা ফেলোশিপের মতো স্কলারশিপের মাধ্যমে

    Read More »
    আমেরিকার Iowa স্টেটের ৩টি ফান্ডেড বিশ্ববিদ্যালয় 
    Higher Study Abroad
    আমেরিকার Iowa স্টেটের ৩টি ফান্ডেড বিশ্ববিদ্যালয় 

    আমেরিকার Iowa স্টেটে গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টদের জন্য খুব বেশি বিশ্ববিদ্যালয় নেই। বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই আন্ডারগ্রেড বা এই টাইপের প্রোগ্রাম অফার করে। আবার রিসার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ও কম এখানে। তবে

    Read More »
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-১)
    Career After HSC
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-১)

    বাংলাদেশে শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো এসএসসি শেষ করে উপযুক্ত এইচএসসি গ্রুপ নির্বাচন করা। এই সময়ে ছাত্রছাত্রীরা মূলত তিনটি প্রধান শাখার মধ্যে বেছে নেয়ঃ সাইন্স

    Read More »