রেকমেন্ডেশন লেটার/LOR কি, কি লিখা থাকা উচিৎ ও ফরম্যাট যেমন হবে

রেকমেন্ডেশন লেটার বা সুপারিশ পত্র বিদেশের ভার্সিটি অথবা যে কোন স্কলারশিপ এপ্লিকেশনের সময় অথরিটি এক বা একাধিক রেকমন্ডেশন লেটার চায়। এ লেটারে ক্যান্ডিডেট কে নিয়ে তার প্রফেসর/প্রফেশনাল বসের মতামত কি সেটা জানতে চাওয়া হয়। LOR একটা ডকুমেন্ট যেটি অবশ্যই দিতে হয় এবং েটা ছাড়া এপ্লিকেশন সম্পূর্ণ হয়না। আজকে এর বিস্তারিত আলাপ করবো।

কার কাছ থেকে নিবো- নরমালী একাডেমিক রেকমেন্ডেশনই চায় বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে। মানে, আপনার বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজের টিচার দের কাছ থেকে নিতে হবে। এখন অনেকে প্রশ্ন করে, প্রফেসর হতে হবে নাকি লেকচারার হলেই হবে বা পদবী ম্যাটার করে কিনা? আসলে ম্যাটার করেনা। একজন ফুল প্রফেসর যদি আপনাকে না চিনে, কখন কোর্স না নেন বা উনি আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে না চিনে, তাহলে প্রফেসরের কাছ থেকে নেয়ার চেয়ে যিনি আপনাকে চিনে এবং কোর্স নিয়েছেন, তার কাছ থেকে নেয়াই ভালো। কোন কর্সে যদি ভালো রেজাল্ট থাকে, তাহলে ওনাদের কে রিকুয়েস্ট করতে পারেন।

কতটা লাগে- ১/২/৩ টা চাইতে পারে। এইটা নির্ভর করে ভার্সিটির উপর। একেক জায়গায় একেকটা চায়। কিছু কিছু স্কলারশিপে ২ টা একাডেমিক আর একটা প্রফেশনাল চাইতে পারে। বিশেষ করে, যেসব স্কলারশিপে প্রফেশনাল এক্সপেরিয়েন্স ম্যাটার, সেসব গুলায় প্রফেশনাল ও চায়। ভার্সিটির জন্য, ৩/৪ জন ফ্যাকাল্টির সাথে কথা বলে রাখাই ভালো।

কি লিখা থাকে- অনেকেই জিজ্ঞেস করেন যে কি লিখা থাকবে লেটারে। এটা আসলে আমার বা আপনার উপর নির্ভর করে না বরং যিনি দিচ্ছেন, তিনিই নিজ থেকে লিখবেন। কিন্তু অনেক সময় ফ্যাকাল্টি বলেন যে তুমি কি চাচ্ছো সেটার একটা ড্রাফট দাও। তখন আপনি গুগল করলেই অনেক ফরম্যাট পাবেন। তবু ও ফরম্যাট নিয়ে একটা আইডিয়ায় দিচ্ছি-

– একটা পার্টে ফ্যাকাল্টি নিজের পরিচয় এবং কোয়ালিফিকেশন দিতে পারে

– তারপর স্টুডেন্ট এর সাথে উনি কিভাবে রিলেটেড সেটা লিখতে পারেন যেমন- আমি অমুক অমুক কোর্স পড়িয়েছি বা কোন রিসার্চে কাজ করেছে।

– তারপর আপনাকে নিয়ে লিখবেন যে আপনার কোন কোন দিক ভালো, কোন ভলান্টিয়ার করেছন কিনা, রিসার্চ করেছেন কিনা, সফট স্কিল গুলা কি ইত্যাদি।

যেভাবে এপ্রোচ করবেন টিচারদের কাছে- আগে ভাগেই জানিয়ে রাখবেন যে আপনি বিদেশের ভার্সিটিতে/স্কলারশিপে এপ্লাই করছেন। সম্মতি নিয়ে রাখবেন যে তিনি দিচ্ছেন। তারপর যখন ফাইনালি লাগবে, তখন ওনাকে ইমেইল করে নিজের একটা রিজুমি সহ কোন স্কলারশিপ/ভার্সিটির জন্য চাচ্ছেন সেটা জানিয়ে দিবেন। সিভি/রিজুমি এটাচ করতে ভুলবেন না, কারণ ফ্যাকাল্টি ওখান থেকে দেখেই আপনার ব্যপারে লিখবেন।

পাঠাবে কিভাবে- অনেক স্কলারশিপ বলে ফ্যাকাল্টি যেন ডিপার্ট্মেন্টের অফিসিয়াল প্যাডে সাইন সহ দেয় আর সেটা আপনি স্ক্যান করে আপলোড করতে বলে। আমেরিকার ভার্সিটি গুলো ফ্যাকাল্টিকে একটা লিংক দেয়, আর তিনি সফট কপি আপলোড করেন। সেক্ষেত্রে কি লিখলো তা জানার কোন উপায় নেই, যদিনা ফ্যাকাল্টি আপনার সাথে শেয়ার করে।

অনেক ন্যাশনাল ভার্সিটির স্টুডেন্ট বলে যে টিচার বুঝতে পারছেন না কি চাচ্ছি। তখন ওনাকে বুঝিয়ে বললে আশা করি বুঝবেন যে পারপাস কি। আশা করি ে লেখাটা পড়ার পর আর কোন কনফিউশান থাকবেনা আর থাকলে কমেন্টে বাঁ ইনবক্সে পাঠাতে পারেন।

LOR নিয়ে এ ভিডিওটি দেখতে পারেন

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-২)
    Career After HSC
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-২)

    সঠিক গ্রুপ নির্বাচন: কিভাবে বুঝবো কোনটা আমার জন্য? এসএসসি পেরোনোর পর শিক্ষার্থীদের জীবনে শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়। এই অধ্যায়ের শুরুতেই আসে এমন একটি সিদ্ধান্তের

    Read More »
    Ohio State University-র ১০টি ফান্ডেড পিএইচডি প্রোগ্রাম 
    Full-funded Phd programs
    Ohio State University-র ১০টি ফান্ডেড পিএইচডি প্রোগ্রাম 

    আমেরিকার Ohio State University নন-স্টেমের বেশ কয়েকটি সাবজেক্টে পিএইচডি লেভেলে প্রতি বছর বেশ ভালো ফান্ডিং দিয়ে থাকে। ফান্ডিংগুলো সাধারণত অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা ফেলোশিপের মতো স্কলারশিপের মাধ্যমে

    Read More »
    আমেরিকার Iowa স্টেটের ৩টি ফান্ডেড বিশ্ববিদ্যালয় 
    Higher Study Abroad
    আমেরিকার Iowa স্টেটের ৩টি ফান্ডেড বিশ্ববিদ্যালয় 

    আমেরিকার Iowa স্টেটে গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টদের জন্য খুব বেশি বিশ্ববিদ্যালয় নেই। বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই আন্ডারগ্রেড বা এই টাইপের প্রোগ্রাম অফার করে। আবার রিসার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ও কম এখানে। তবে

    Read More »
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-১)
    Career After HSC
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-১)

    বাংলাদেশে শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো এসএসসি শেষ করে উপযুক্ত এইচএসসি গ্রুপ নির্বাচন করা। এই সময়ে ছাত্রছাত্রীরা মূলত তিনটি প্রধান শাখার মধ্যে বেছে নেয়ঃ সাইন্স

    Read More »