প্রতিটি পুরুষের নিজের সন্তান জন্মদান নিজ চোখে দেখা উচিতঃ মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছি 

আমেরিকাতে সিস্টেম হলো ওয়াইফ এর ডেলিভারি রুমে হাসব্যন্ড কে অনেকটা বাধ্যতামূলক ভাবে উপস্থিত থাকতে হয়। শুধু থাকলে আর বসে থাকলে ও হয়না, হাসব্যন্ড এর কাজ হলো ওয়াইফ এর বেবি জন্মদান প্রসেসে একজন সাপোর্টার হিসেবে কাজ করা। দেশে যদিও পুরুষ কেন, ডক্টর নার্স ছাড়া কোন মানুষকে ডেলিভারি রুমের চৌ-সীমানায় ও থাকতে দেয়না, কিন্তু এখানে অনেক ভিন্ন। আমাদের অভিজ্ঞতার কিছু অংশ শেয়ার করবো এ ব্লগে। 

মে ২৫ তারিখ সন্ধ্যায় আমরা মেডিকেলে ভর্তি হই। ভর্তি রুমটাই হলো ডেলিভারি রুম। আমরা কিন্তু গত মাসেই এ বার্থ সেন্টার ভিজিট করি প্রি-রিকুয়ারমেন্ট হিসেবে আর তখন আমাদের কে মেডিকেলের সব ফ্যাসিলিটি ঘুরে দেখানো হয় আর একটা ফর্ম লিখতে হয় যে কি কি চাই আমরা ডেলিভারির সময়। ২৫ তারিখ রাত ৮.৩০ থেকে শুরু হয় প্রসেস আর শুয়ে থেকে অপেক্ষা। সেদিন সারা রাত আর তার পরের দিন শেষ করে ২৪ ঘণ্টা পরে মূল পেইন ইন্ডিউস করে ডক্টর, সাথে ওয়াটার ব্রেক করে। কিছুকক্ষন পর থেকে শুরু হয় যুদ্ধের মূল পার্ট। প্রচণ্ড ব্যথার কারণে এপিডুরাল নিয়ে নেই, যদিও প্ল্যান ছিল না নেয়ার কিন্তু ব্যাথার তীব্রতা দেখে নিয়ে নেই। প্রায় ১০ ঘণ্টা প্রচণ্ড ব্যথার পর যুদ্ধের শেষ ও সবচেয়ে কঠিন পার্ট মানে পুশ করানো শুরু করে নার্স! শরীর ও মনের সর্ব-শক্তি দিয়ে থেমে থেমে এ পুশ চলে ২ ঘণ্টা ৪ মিনিটের মত। তারপর বেবি দুনিয়াতে আসে আর কান্না করে জানান দেয়। একটু মুছেই ম্যায়ের বুকে ওকে দিয়ে দেয় ডক্টর যেটাকে বলে স্কিন টু স্কিন। বেবিদের জন্য এটা অনেক ভালো। 

 আল্লাহু আকবার এ ৩৬ ঘণ্টার টোটাল জার্নিতে কি পরিমাণ শারীরিক আর মানসিক কষ্ট মুনা করেছে সেটা নিজেই দেখেছি প্রতি মুহূর্তে। প্রতিটা পুশে ওর মাথার নিচে আমার একটা হাত ছিল আর আরেক হাত দিয়ে কখনো মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলাম অথবা ডক্টরের পরামর্শে পা-সামনের দিকে টেনে ধরে রাখছিলাম। সব দম নিয়ে ৩ টা পুশের পর মনে হতো ও বোধহয় সেন্সলেস হয়ে যাচ্ছে, পারবেনা মনে হয়। কিন্তু আল্লাহ আবার শক্তি দিয়েছেন ২/৩ মিনিটের মধ্যে। স্যালাইন, এপিডুরাল, পিটোসিন, টিয়ার, সেলাই, প্রচুর ব্লাড থেকে শুরু করে এটাকে একটা বিশাল মহাযজ্ঞ মনে হয়েছে আর মনে হয়েছে এতটা কষ্টের কিছু আমি জীবনে দেখিনি। 

এভাবে নিজ চোখে দেখলাম একজন মা সন্তান জন্মদানে কি পরিমাণ অবর্ননীয় কষ্টটা করে! খালি নিজের জন্মের কথা ভেবেছি। আমার মা আমাকে জন্ম দিয়েছেন নিজের ঘরে ধাত্রী মায়ের সাহায্যে, কোন মেডিসিন ছাড়া। কিছুটা হলেও উপলদ্ধি করেছি মায়ের কষ্ট। এ সময়টায় চোখে পানি আটকে রাখা যায়নি, যতবার ভেবেছি, ততবার মায়ের প্রতি, স্ত্রীর প্রতি, নারীদের প্রতি সম্মান বেড়েছে আর বাড়ছে। আম্মাকে কল দিয়ে বললাম মা, জীবনে কোনদিন আমার যে কোন আচরণে বা অন্য কিছুতে যদি সামান্য কোন কষ্টও পান, প্লিজ আল্লাহর ওয়াস্তে মাফ করে দিয়েন। আমি জানতাম যে অনেক কষ্টে মা দুনিয়ায় বাচ্চা নিয়ে আসে, কিন্তু চোখে দেখে আমার ধারণাটার বাস্তবতা পেলো। বিশ্বাস করেন, সবার নিজের বাচ্চাদান স্বচক্ষে দেখা উচিত। তাহলে, কোন নির্দয় সন্তান বা স্বামী বা নারী নির্যাতনকারী বা রেপিস্ট খুব একটা থাকবেনা। যদিনা কেউ আসলেই অমানুষ হয়! 

পৃথিবীর সকল নারীদের প্রতি স্যালুট, শ্রদ্ধা, সালাম থাকবে আমার। ভালবাসা নিয়েন, ক্ষমা করে দিয়েন। 

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    Linguistics নিয়ে ফান্ডসহ পিএইচডি করার ৬টি আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় 
    Arts Faculty
    Linguistics নিয়ে ফান্ডসহ পিএইচডি করার ৬টি আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় 

    আর্টস ফ্যাকাল্টির অন্যতম একটা সাবজেক্ট হল Linguistics. ভাষা সংক্রান্ত নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে এই সাবজেক্টের। ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রেও একাডেমিয়াসহ আরও অনেক দিকেই যাবার সুযোগ আছে

    Read More »
    আমেরিকার Virginia স্টেটের ৮টি ফান্ডেড বিশ্ববিদ্যালয় 
    Funded Universities of Virginia State
    আমেরিকার Virginia স্টেটের ৮টি ফান্ডেড বিশ্ববিদ্যালয় 

    আমেরিকার Virginia স্টেটকে বলা হয় ‘Mother of Presidents’. কেননা আমেরিকার ইতিহাসে বিখ্যাত ৮ জন প্রেসিডেন্ট এই স্টেটে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। যারা নন-স্টেমের বিশেষ করে Public Policy

    Read More »
    উচ্চশিক্ষায় সুইডেনের ১১টি ফান্ড প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়
    Funded University List of Sweden
    উচ্চশিক্ষায় সুইডেনের ১১টি ফান্ড প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয় 

    উচ্চশিক্ষায় অন্যান্য অনেক দেশের থেকে বেশ সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় ইউরোপের দেশ সুইডেনে। এখানে লিভিং কস্ট মোটামুটি কম ধরা যায়। যদিও এর থেকেও অনেক কম খরচে

    Read More »
    Master’s Program in Accounting at California State University
    accounting
    Master’s Program in Accounting at California State University

    আমেরিকার California State University-তে Accounting নিয়ে ফান্ডসহ ফুল-টাইম মাস্টার্স করার সুযোগ।  Application Criteria: ১। 4 year bachelor degree from Accounting department at undergraduate level.  ২।

    Read More »