স্যোশাল মিডিয়া, কম্পারিজন ও আমাদের মেন্টাল হেলথ

আমরা সবাই আজকে এ দিনে এ মুহুর্তে অল্প/বেশি ঝামেলা, টেনশন না পাওয়া বা কষ্টের মধ্যে আছি। হয়তো মানসিকভাবে খুব কষ্টে আছি আর স্যোসাল মিডিয়ায় অন্য কারও পোস্ট দেখে ভাবছি, আহারে অন্যজন কত ভালো আছে, কত কিছু তার!! আর আমার  কত কিছু নেই! 

আপনি যার স্যোসাল মিডিয়ার দেয়া কোন পোস্ট বা ছবি দেখে এমাত্র ভাবলেন ওর মত জীবন হলে কত ভালো হতো, সে পোস্টদাতা হতে পারে অন্য কোন একটা জায়গায় আপনার চেয়ে অনেক কষ্টে আছে। সে হয়তো ভাবছে, আহারে যদি তমুকের মত আমার এটা থাকতো! হয়তো সে তমুকের যেদিকটা দেখে ওনার মনে হচ্ছে সে অনেক সুখি বা ভালো আছে, হতে পারে সে তমুক অন্য কোন না পাওয়ার কষ্টে সারারাত ঘুমাতেই পারেন না। 

এভাবে আমাদের না থাকা গুলোতে অটোমেটিক ফোকাস করি আমরা আর হতাশ হই। স্যোসাল মিডিয়ার যুগে এটা প্রচন্ড রকমের বাড়ছে আর অনেক ক্ষেত্রে এটা ডিপ্রেশনের কারণ হয়ে যাচ্ছে। তাহলে কি ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম ব্যবহার ছেড়ে দিব? নাহ, আসলে সেটা সমাধান নয়। যদি ছেড়ে দিতে পারেন, সেটা সবচেয়ে ভাল, কিন্তু যোগাযোগ রক্ষা ও অন্য সব কারণে চাইলেও দ্রুত ছাড়া যায়না। তাই, দরকার হলো এ কম্পারিজন থেকে নিজেকে বাচিয়ে রাখা। কিন্তু বললেই তো হয়না, মন কম্পেয়ার করেই। তবুও কিছু জিনিস ফলো করে ট্রাই করতে পারি এ কম্পারিজন বন্ধ করতে- 

১। খুব দৃঢভাবে বিশ্বাস করা যে, আমার কপালে যা লিখা আছে সেটা আসবে,হয়তো আজ, অথবা কাল

২। সবাই যার যার টাইমলাইনে চলে, যেটা আজকেই আপনার দরকার মনে হচ্ছে অন্যেরটা দেখে, সেটা আপনার টাইমলাইনে যখন আসার তখনই আসবে 

৩।কারও অনেক ভালো কিছু দেখে ধৈর্যহারা লাগলে, আশে পাশে আপনার চেয়ে অনেক নিচে থাকা মানুষ গুলোর দিকে তাকান, দেখবেন খারাপ লাগা বন্ধ হয়ে ভালো লাগা কাজ করবে 

৪। নিজের ভেতরের হিংসে আর লোভকে চেক দেয়া শিখতে হবে যত দ্রুত সম্ভব 

৫। নিজের যা আছে, সেটা নিয়ে গ্রেটফুল/কৃতজ্ঞ হওয়ার অভ্যাস গড়তে হবে। এ স্যোশাল মিডিয়া শো-অফের যুগে নাহলে নিজেকে খারাপ লাগা থেকে রক্ষার কোন উপায় নেই 

৬। সবসময় সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা করা আর আশা করা যে তিনি সব ঠিকঠাক দিবেন, ইনশাআল্লাহ 

এ কয়েকটা জিনিস আমি নিজে ফলো করে উপকার পেয়েছি, তাই শেয়ার করা। আপনিও দেখতে পারেন কাজ করে কিনা। একদিনে হয়তো হবেনা, কিন্তু ধীরে ধীরে এগুলোর প্রভাব জীবনে আসে এবং ভালো থাকা যায়। 

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    Australia-তে Non-STEM ব্যাকগ্রাউন্ডদের কেমন সুযোগ রয়েছে?
    Australia
    Australia-তে Non-STEM ব্যাকগ্রাউন্ডদের কেমন সুযোগ রয়েছে?

    অনেকেরই ধারণা, অস্ট্রেলিয়ায় শুধু STEM (Science, Technology, Engineering, Mathematics) ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদেরই ভালো সুযোগ রয়েছে। তবে বাস্তবে বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। Non-STEM- দের জন্যও স্কলারশিপ, পিআর

    Read More »
    SOP লেখার ক্ষেত্রে সবাই যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি করে থাকে
    Application Materials
    SOP লেখার ক্ষেত্রে সবাই যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি করে থাকে

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনে Statement of Purpose যাকে সংক্ষেপে SOP বলা হয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ডকুমেন্ট। এটা এমন একটা ডকুমেন্ট, যা অনেক সময় একই CGPA, একই

    Read More »
    জার্মানিতে Non-STEM শিক্ষার্থীদের জন্য কেমন সুযোগ আছে?
    Germany
    জার্মানিতে Non-STEM শিক্ষার্থীদের জন্য কেমন সুযোগ আছে?

    অনেকেই মনে করেন, জার্মানিতে শুধু Engineering, Computer Science বা অন্যান্য STEM (Science, Technology, Engineering, Mathematics) বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যই সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মোটেও তা নয়।

    Read More »
    বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আবেদনের সময়ে ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
    Application Help
    বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আবেদনের সময়ে ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে অনেকের প্রথম প্রশ্ন থাকে—”বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং কি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?” সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: না, তবে অনেক দিকে থেকেই এটি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

    Read More »