এক্সট্রা কারিকুলার এ্যাক্টিভিটিজঃ কি করবো আর কি করবো না এবং উচ্চ-শিক্ষায় কিভাবে কাজে লাগে?

এক্সট্রাকারিকুলারকে একসময় অনেকেই বলতেন সময় অপচয়। আবার কারো কারো মতে পয়সাওয়ালা বাচ্চাদের ফুটানি বলতো। আমিও কলেজ পর্যন্ত এসবের গুরুত্ব বুঝতাম না তবে ভার্সিটির শুরু থেকে যখন বুঝেছি যে এগুলার গুরুত্ব কি, তখন আর বসে থেকেনি বরং বিভিন্ন রকম এক্সট্রাকারিকুলার করেছি। উচ্চ-শিক্ষায় এক্সট্রাকারিকুলার কিভাবে হেল্প করে আর কোন কোন টাইপ করা উচিত সে বিষয়ে আলাপ করবো আজকের ব্লগে। 

একটা ব্যপার ক্লিয়ার করি, এক্সট্রাকারিকুলার কি ভার্সিটির রিকুয়ারমেন্ট গুলায় থাকে? উত্তরটা হলো- আন্ডারগ্রেডে ‘হ্যাঁ’ আর মাস্টার্স ও পিএইচডি তে ‘না’। আন্ডারগ্রেডে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় ফান্ডিং এর জন্য বিবেচনা করতে আর মাস্টার্স/পিএইচডিতে থাকলে প্লাস পয়েন্ট। তো এক্সট্রাকারিকুলার বলতে আমরা যা বুঝি সেটা হলো- পড়াশুনার বাইরে অন্য যেসব কাজে একজন স্টুডেন্ট জড়িত থাকে যেমন- স্পোর্টস, ডিবেট, সামাজিক কাজ কর্ম, কম্পিটিশনে এটেন্ড করা, সেমিনার সিম্পোজিয়াম, সাইন্স ফেয়ার, ম্যাথ অলিম্পিয়াড ইত্যাদি। 

কি করবো আর করবো নাঃ শুরুতেই আসি কি করবো। এক্সট্রাকারিকুলার তখনই কাজে লাগে, যখন সেটা তার ফিল্ডের সাথে রেলেভেন্ট হয়। যেমনঃ যে ফিজিক্সে পড়তে চায়, তার ম্যাথ অলিম্পিয়াড যেভাবে কাজে দিবে, ইতিহাসে পড়তে আসলে সেভাবে কাজে নাও লাগতে পারে। মূলত ট্রাই করতে হবে যেন রেলেভেন্ট ফিল্ড হয়। এখন যদি কারো সুযোগ না থাকে নিজের ক্লোজ ফিল্ডে করার, তাহলে সে ডিবেট, সামাজিক কাজ কর্ম, ভলান্টারি রিসার্চ করতে পারে। বা যে কোন ধরণের এক্সট্রা কাজ করতে পারে। কোন খেলায় ভালো হলে সেটা কন্টিনিউ করতে পারে। আমেরিকার ভার্সিটি গুলায় কিন্তু এদের জন্য আলাদা কোটা আছে।

কি করবো না? যাই সামনে আসে, সেটাতেই এ্যাংগেজ হওয়া ঠিক হবেনা। ধরেন, আপনার ফ্রেন্ড কোন একটা অর্গানাইজেশনের সাথে এনভাইরনমেন্ট নিয়ে কাজ করে, আপনিও গিয়ে শরিক হলেন যেটার কোন ইম্পলিকেশন নেই, সেটা করার দরকার নেই। এরপর ক্যাম্পাসে অনেক সোসাইটি থাকে যেগুলা মেম্বার হয়ে অ্যাকটিভিটিস করতে বলবে, অনেকে আছে সব জায়গায় যায়, এটা করা যাবেনা। নিজের ফিল্ড ও পছন্দের সাথে যায়, তেমন কিছু করা ভাল। তবে, অনেকের স্পেসিফিক কাজে আগ্রহ থাকে যেটা মন থেকে করতে মন চায়, সেসব কিছু করাতে সমস্যা নেই। শখের বশে যাই করি, যদি একটু রেলেভেন্স খেয়াল রাখি, তাহলে আখেরে বেশি কাজে লাগবে।

আমার অভিজ্ঞতার কথা যদি বলি, তাহলে আমি অনার্সের শুরু থেকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলাম। তরুণদের বিভিন্ন স্কিল উন্নয়নে কাজ করেছি। নিজের লিডারশীপ ডেভেলপমেন্ট এর জন্য দেশে বিদেশে বিভিন্ন কনফারেন্সে গিয়েছি, নেটওয়ার্ক ডেভেলপ করেছি। ভলান্টিয়রা বেশ কয়েকটা অর্গানাইজেসনে জড়িত ছিলাম। রিসার্চ প্রজেক্ট গুলায় মাগনা খেটেছি। যে লাভ হয়েছে সেটা হল, অনেক মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছি, বিদেশে ঘুরার সুযোগ হয়েছে, নিজে কোথাও দাঁড়িয়ে ২ টা কথা বলার সাহস হয়েছে, সিভিতে দেয়ার মত অনেক গুলো ইস্যু ছিল যেগুলায় প্রুফ করতে পেরেছি যে আমার লিডারশীপ কোয়ালিটি আছে ইত্যাদি। আলহামদুলিল্লাহ, নিজের প্রফেশনাল লাইফে আর হায়ার স্টাডিজে এসে এ অভিজ্ঞতা গুলোর ফলাফল পেয়েছি কয়েক গুণ। তাই, আমি সবাইকে এনকারেজ করি এসব কাজে যুক্ত হতে।

একটা রাফ আইডিয়া দিলাম এক্সট্রাকারিকুলার নিয়ে। আশা করি কাজে লাগবে।

    SHARE THIS BLOG

    One Response

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    আমেরিকার Wright State University নিয়ে বিস্তারিত সব তথ্য 
    Funded Universities
    আমেরিকার Wright State University নিয়ে বিস্তারিত সব তথ্য 

    ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত Wright State University আমেরিকার অন্যতম একটি পাবলিক রিসার্চ বিশ্ববিদ্যালয়। এটি আমেরিকার Ohio স্টেটের Fairborn সিটিতে অবস্থিত। ভালো রিসার্চ অ্যাক্টিভিটির কারণে Wright State

    Read More »
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছু: ভর্তি থেকে ক্যাম্পাস লাইফ (১)
    Career After HSC
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছু: ভর্তি থেকে ক্যাম্পাস লাইফ (১)

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka) বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও প্রধানতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯২১ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় “Oxford of the East”। এটি

    Read More »
    এশিয়ার ৭টি দেশের উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত ফ্রি-রিসোর্সসমূহ 
    Asian Countries
    এশিয়ার ৭টি দেশের উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত ফ্রি-রিসোর্সসমূহ 

    বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা নিয়ে এশিয়া মহাদেশের যেসব দেশকে সবচেয়ে বেশি পছন্দের তালিকায় রাখে তার মধ্যে জাপান, চায়না, মালয়েশিয়া, ইন্ডিয়া, তুরস্ক, সাউথ কোরিয়া, ব্রুনাই অন্যতম। কাছাকাছির

    Read More »
    Master of Arts in Education at California State University
    California State University
    Master of Arts in Education at California State University

    আমেরিকার California State University-তে Education নিয়ে ফান্ডসহ ফুল-টাইম মাস্টার্স করার সুযোগ।  Application Criteria: ১। 4 years bachelor degree.  ২। Minimum CGPA 2.75. ৩। English Proficiency:

    Read More »