যেভাবে উপকার করলে সেটার প্রকৃত প্রতিদান ও মানসিক শান্তি পাবেন

আমরা কম বেশি সবাই এক অন্যের উপকার করি। সেটা কারো বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়া থেকে শুরু করে টাকা, পয়সা বা ছোট কোন দিক নির্দেশনা দিয়ে হেল্প করা পর্যন্ত যে কোন কিছুকে বুঝায়। আমরা যখন কারো জন্য কিছু করি, তখন আমাদের উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করে সে কাজটি করে আমি কেমন মানসিক শান্তি পাবো! যদি উদ্দেশ্য হয় এমন যে আমি তার এ উপকার করলাম, পরে তার কাছ থেকে একটা উপকার নিব, তাহলে সে ব্যক্তি আপনার প্রয়োজনে উপকার না করলে মন খারাপ হয়। আবার যদি এমন হয় যে আমি উপকার করলাম যাতে সে অন্যকে বলে যে আমি তার জন্য এটা করেছি, তাহলে উপকৃত ব্যক্তি এ কাজ না করলেও মন খারাপ হবে। আর যদি এমন হয় যে উপকৃত ব্যক্তি আমার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে, সে উল্টা কিছু করলেও মন খারাপ হবে। এমন অভিজ্ঞতা অনেকের সাথেই হয় আর পরে আফসোস করে বলে “এর জন্য আমি কি করি নাই? আর আজকে!!” 

আমার ছোট্ট জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, কারো জন্য নিঃস্বার্থভাবে (বিনিময়ে কিছু পাওয়ার আশায় অথবা অন্য সুবিধা আদায়ের চিন্তা ছাড়া) কিছু করলে, সেটায় যে মানসিক শান্তি ও আত্মিক তৃপ্তি পাওয়া যায়, সেটি নিঃস্বার্থ হওয়া ছাড়া অনুভব করা যায়না। 

কারো কোন সামান্য উপকার করলে এমনভাবেই করতে চাই, যাতে যে উপকৃত হলো তার কাছ থেকে একটা ধন্যবাদ ও আশা না করি, এমনকি কৃতজ্ঞতাবোধ ও দরকার নেই।  ভবিষ্যতে সে  যেন এ উপকার স্মরণ করে অস্বস্তিতে ও না পড়ে। আমি যৎসামান্য যাদের জন্য কিছু করার ট্রাই করেছি, তাদেরকে কখনও মনে করিয়ে দিতে চাইনি, এমনকি নিজে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি যে আমি তার জন্য কিছু করেছিলাম।   এ এপ্রোচের কয়েকটি সুবিধা আছে-

১।  উপকার শুধু মাত্র ভালো কিছু করার স্বার্থেই করা হয় (নিজের সাধ্যমত)

২।  খুব দ্রুত ভুলে যাওয়া যায় যে, আমি এর জন্য কিছু করেছিলাম। যেহেতু বিনিময়ের কোন আশা নেই

৩।  মানুষের জন্য কিছু করে বলে বেড়ানো বা খোটা দেয়ার চিন্তা মাথায় ও আসেনা (যেটি অত্যন্ত ঘৃনিত কাজ ও নিজের বমি নিজে খেয়ে ফেলার সমতূল্য)

৪।  নিঃস্বার্থে কাজ করার মানসিকতা গড়ে উঠে

৫। পারস্পরিক সম্পর্কগুলো সুন্দর থাকে

৬। আত্মায় একটা অন্যরকম শান্তি পাওয়া যায়

তবে হ্যা, আমি একদম নিঃস্বার্থ তা বলবো না। আমার পাওয়ার জায়গাটা অন্যরকম ও অন্যের কাছে।  যেটার সাথে দুনিয়ায় পাওয়ার সম্পর্ক নেই।  আমি চাই,  আমি চাই, আমি আজীবন এ এপ্রোচেই অন্যের জন্য কিছু করার ক্ষেত্রে কাজে লাগাই। কথা গুলো বলার একটা অন্যতম কারণ হলো, পরিবার বা আত্মীয় অথবা বন্ধু লেভেলে আমরা এমন পরিস্থিতির মুখামুখি হই আর এ ইস্যু নিয়ে অনেক সম্পর্ক নষ্ট হয়। আর সব ঝামেলার ট্যাগলাইন হলো- আমি তার বিপদে গেসিলাম, আর সে আসে নাই। ব্যাস। ভাইরে, আশা করে কি লাভ! হোয়তো সে আপনার মত নয়। যদি নিঃস্বার্থভাবে কাওকে হেল্প করেন, সেভাবে আপনি ও হেল্প পাবেন। যদি এখানে না পান, তবে বিশ্বাসী হলে এর চেয়ে ভালো সময়ে পাবেন যখন এমন একটি হেল্প আপনাকে কঠিন কিছু থেকে বাঁচিয়ে চিরস্থায়ী সুখের জগতে প্রবেশ করাবে। ইনশা-আল্লাহ 

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত Griffith University নিয়ে বিস্তারিত রিভিউ 
    Australia
    অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত Griffith University নিয়ে বিস্তারিত রিভিউ 

    Griffith University অস্ট্রেলিয়ার অনেক নামকরা একটি পাবলিক রিসার্চ বিশ্ববিদ্যালয়। অস্ট্রেলিয়ার South East Queensland-এ বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত। ১৯৭১ সালের ৩০ ডিসেম্বরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। Griffith

    Read More »
    আর্টস (মানবিক) ফ্যাকাল্টি: পূর্ণাঙ্গ রিভিউ
    Arts Faculty
    আর্টস (মানবিক) ফ্যাকাল্টি: পূর্ণাঙ্গ রিভিউ

    আর্টস ফ্যাকাল্টি কী? আর্টস বা মানবিক বিভাগ হলো এমন একটি শিক্ষাক্ষেত্র যেখানে সমাজ, মানুষ, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ভাষা, দর্শন, সাহিত্য ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে পড়াশোনা করা

    Read More »
    Master of Arts in Geography at University of Waterloo 
    Funding in Canada
    Master of Arts in Geography at University of Waterloo 

    কানাডার বিখ্যাত University of Waterloo-তে রয়েছে ফান্ডসহ Geography নিয়ে ফুল-টাইম মাস্টার্স করার সুযোগ।  Application Requirements: ১। চার বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রি।  ২। মিনিমাম সিজিপিএ ৩.৩০। ৩।

    Read More »
    সুইজারল্যান্ডের Swiss Government Excellence Scholarships নিয়ে বিস্তারিত 
    Funding in Switzerland
    সুইজারল্যান্ডের Swiss Government Excellence Scholarships নিয়ে বিস্তারিত 

    Swiss Government Excellence Scholarships হল সুইজারল্যান্ডের বিখ্যাত সরকারি স্কলারশিপ। স্কলারশিপটি মূলত সুইজারল্যান্ডের Federal Commission for Scholarships for Foreign Students (FCS)-এর মাধ্যমে প্রদান করা হয়ে থাকে।

    Read More »