অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের জন্য বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় উচ্চশিক্ষার গন্তব্য। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক র্যাংকিং, গবেষণার সুযোগ, ইংরেজি ভাষার পরিবেশ, পড়াশোনার পাশাপাশি বৈধভাবে কাজের সুযোগ এবং গ্র্যাজুয়েশনের পর ওয়ার্ক ভিসা সব মিলিয়ে এটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও আকর্ষণীয় একটি ডেস্টিনেশন।
তবে ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার Student Visa, migration এবং international education policy আগের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত। তাই শুধু অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে গেলেই PR পাওয়া যাবে এমন ধারণা একেবারেই সঠিক নয়।
১. অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ও ওয়ার্ল্ড র্যাংকিং
অস্ট্রেলিয়ার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি উন্নত এবং কঠোরভাবে রেগুলেটেড। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নেওয়া প্রতিষ্ঠান ও কোর্সগুলোকে সাধারণত CRICOS-এ নিবন্ধিত হতে হয়। Australian Government-এর CRICOS database থেকেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ও কোর্স যাচাই করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে।
QS World University Rankings 2026 অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান:
University of Melbourne ১৯তম, UNSW Sydney ২২তম, University of Sydney ২৮তম, Australian National University (ANU) ২৯তম, Monash University ৩১তম, University of Queensland ৪০তম, University of Western Australia ৭৭তম অবস্থানে রয়েছে।
অর্থাৎ শুধু Sydney বা Melbourne-এর কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়—Australia জুড়েই ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এখানে উন্নত রিসার্চ ল্যাব রয়েছে যা বিভিন্ন বিষয়ে রিসার্চ ক্যারিয়ার গড়ার ভালো একটা সুযোগ। এছাড়া ইন্ডাস্ট্রি ফোকাসড সাবজেক্টও আছে। তাই একাডেমিয়াতে ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি এখানে আছে ইন্ডাস্ট্রিতে সরাসরি অবদান রাখার সুযোগ।
২. স্কলারশিপের সুযোগ কেমন?
অস্ট্রেলিয়ায় স্কলারশিপের সুযোগ ভালো, কিন্তু ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়া অনেকটাই কঠিন। বিশেষ করে মাস্টার্স প্রোগ্রামগুলোতে একদম ফুল-ফান্ড পাওয়া বেশ কঠিন। কেননা এখানে আমেরিকার মতো গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিসটেন্টশিপ অতোটা নেই। তবে তারপরও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ পাবার সুযোগ থাকে।
স্কলারশিপ প্রধানত তিন ধরনের:
Australian Government Scholarships:
সরকারি স্কলারশিপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো Australia Awards Scholarships (AAS)। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও Australia Awards-এর জন্য eligible country-এর নাগরিক হিসেবে আবেদন করতে পারে। ২০২৭ intake-এর জন্য Bangladesh-এর আবেদন ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। এই স্কলারশিপ সাধারণত টিউশন ফি, লিভিং কস্ট, যাতায়াত ভাড়াসহ আরও অনেক ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে।
তবে এখানে জেনে রাখা দরকার যে, Australia Awards মূলত development-oriented scholarship. Scholarship পাওয়ার পর সাধারণত scholarship শেষ হলে কমপক্ষে দুই বছর Australia-এর বাইরে থাকতে হয়। অর্থাৎ পড়াশোনা শেষে দেশে ব্যাক করতে হয়। তাই এই স্কলারশিপে পড়াশোনা করে পিআর পাবার সম্ভাবনা খুব একটা নেই।
Research Training Program (RTP):
Research master’s এবং PhD শিক্ষার্থীদের জন্য Australian Government Research Training Program (RTP) অত্যন্ত ভালো একটা সুযোগ। এটি domestic ও international দুই ধরনের রিসার্চ স্টুডেন্টদের জন্য দেয়া হয় এবং participating university-এর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামেও টিউশন ফি, লিভিং কস্ট, রিসার্চ সাপোর্টসহ আরও অনেক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়।
University Scholarships:
প্রায় সব বড় বিশ্ববিদ্যালয়ই ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের জন্য নিজস্ব scholarship দেয়।
যেমন:
- Merit scholarship
- Tuition fee reduction
- Research scholarship
- Faculty-specific scholarship
- International student scholarship
এক কথায়, অস্ট্রেলিয়াতে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়া সম্ভব, কিন্তু সহজ নয়।
বিশেষ করে ফুল-ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য সাধারণত ভালো একাডেমিক রেজাল্ট, ভালো রিসার্চ প্রোফাইল, স্ট্রং SOP/LOR, ইংরেজি ভাষা দক্ষতা, রিসার্চ প্রোপোজাল, রিলেভেন্ট একাডেমিক বা প্রফেশনাল এক্সপেরিয়েন্স ইত্যাদি প্রয়োজন হয়।
৩. Student Visa পাওয়ার রেশিও কেমন?
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসার কোনো একক guaranteed visa ratio নেই। ভিসা অ্যাপ্রুভাল আবেদনকারীর বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যেমন- একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, কোন কোর্স সিলেক্ট করা হয়েছে, ফাইনেন্সিয়াল ক্যাপাসিটি, ইংরিজি ভাষা দক্ষতা, ইমিগ্রেশনের ইতিহাস, অন্যান্য ডকুমেন্টের সত্যতা ইত্যাদি।
২০২৫-২৬ financial year-এর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত Australian Government-এর তথ্য অনুযায়ী overall Student Visa grant rate ছিল 80.9%। তবে sector অনুযায়ী পার্থক্য অনেক বড়। Higher Education sector-এর grant rate ছিল 88.9%, যেখানে VET sector-এর ছিল মাত্র 51.8%। Postgraduate Research sector-এর grant rate ছিল 97.0%। বাংলাদেশ Australia-এর একটি উল্লেখযোগ্য international student source country. ২০২৬ সালের May পর্যন্ত Australia-তে international students-এর প্রায় 4% Bangladesh থেকে এসেছে।
তবে ২০২৬ সালে স্টুডেন্ট ভিসাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। যেমন- Offshore Student Visa application এখন provider-এর overseas student commencement allocation-এর ওপর ভিত্তি করে Priority 1, 2 অথবা 3 processing-এর মধ্যে দিয়ে যেতে পারে। Priority processing শুধু processing order-কে প্রভাবিত করে; visa grant/refusal criteria পরিবর্তন করে না। বর্তমানে Student Visa application charge ১ জুলাই ২০২৬ থেকে AUD 2,500 হয়েছে।
৪. পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করার সুযোগ কেমন?
Student Visa (subclass 500)-তে সাধারণত Semester চলাকালে সর্বোচ্চ 48 hours per fortnight অর্থাৎ দুই সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা পার্ট-টাইম কাজ করা যায়। Scheduled study break-এ সাধারণত unlimited hours কাজ করা যায়। তবে Master’s by Research এবং Doctoral students-এর জন্য 48-hour restriction প্রযোজ্য নয়, course শুরু হওয়ার পর তারা বেশি সময় কাজ করতে পারেন।
এ ধরনের পার্ট-টাইম কাজের ক্ষেত্রে এখানে কোনো ফিক্সড স্যালারি নেই। কাজের ধরন, award, experience, location এবং employment arrangement অনুযায়ী ইনকাম বা স্যালারি পরিবর্তিত হয়। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে Australia-এর National Minimum Wage সাধারণত AUD $26.44/hour এবং eligible casual employees-এর ক্ষেত্রে National Minimum Wage-এর casual rate AUD $33.05/hour করা হয়েছে। তবে international students-এর অনেক job award-এর আওতায় পড়ে, তাই actual minimum rate job/industry অনুযায়ী আরও বেশি হতে পারে।
সাধারণ স্টুডেন্ট জবগুলোর মধ্যে পড়ে- Hospitality, Restaurant/cafe, Retail, Supermarket, Customer service, Administration, Warehouse, Cleaning, Tutoring, University-related casual work ইত্যাদি।
তবে Australia যাওয়ার আগে ধরে নেওয়া উচিত নয় যে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই job পাওয়া যাবে। যেকোন জব পেতে সময় লাগতে পারে এবং প্রত্যাশার তুলনায় কম ইনকামও হতে পারে। সবকিছু পরিস্থিতির ওপরও কিছুটা নির্ভর করে। পার্ট-টাইম জব দিয়ে টিউশন ফি ও লিভিং কস্ট নিশ্চিতভাবে চালানো যাবে এমন পরিকল্পনা না করাই ভালো। চেষ্টা করা উচিত কোনো একটা স্কলারশিপ পাওয়া যায় কিনা।
৫. পড়াশোনা শেষ করার পর ক্যারিয়ার
এখানেই Australia-এর একটি বড় advantage রয়েছে। Eligible graduates-এর জন্য Temporary Graduate visa (subclass 485) রয়েছে। Post-Higher Education Work stream-এ বর্তমানে সাধারণভাবে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স কোর্সওয়ার্কে দুই বছর, মাস্টার্স রিসার্চ ও পিএইচডিতে তিন বছরের অস্ট্রেলিয়াতে থাকার সুযোগ থাকে।
এই ভিসাতে গ্র্যাজুয়েশনের পর work, live এবং study করতে পারে। তবে এই সময়ের মধ্যেই একটা স্টেবল জবে ঢুকে যেতে হবে। আবার, Regional Australia-তে পড়াশোনা ও বসবাসের ক্ষেত্রে eligible graduates-এর জন্য Second Post-Higher Education Work stream-এর মাধ্যমে আরও 1–2 years stay-এর সুযোগ থাকতে পারে।
পিআর পাবার ক্ষেত্রে অনেক সময়েই সাবজেক্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। Australian labour market ও skilled migration policy অনুযায়ী কিছু occupation-এর demand তুলনামূলকভাবে ভালো হতে পারে। বিশেষ করে Healthcare, Nursing, Allied Health, Teaching, Engineering, Information Technology, Cybersecurity, Construction, Certain trades, Social work ছাড়াও কিছু science/technical occupations এর ক্ষেত্রে পিআর সহজে পাওয়া যেতে পারে।
তবে একটি degree থাকলেই skilled migration-এর eligibility automatically আসে না। এজন্য course → occupation → skills assessment → visa eligibility—এই পুরো chain দেখতে হবে। Australian Government-এর skilled occupation framework-এ বিভিন্ন skilled visa-এর জন্য eligible occupations নির্ধারিত থাকে।
৬. Australia-তে PR পাওয়ার সুযোগ কেমন?
এই জায়গায় বেশিরভাগ মানুষ অনেক বিষয় নিয়েই ভুল বুঝে থাকেন। Australia-তে Master’s করলেই PR পাওয়া যায় এমন ধারণা অনেকাংশেই ভুল। Australia-তে study করার পর PR-এর সম্ভাব্য pathway থাকতে পারে, কিন্তু PR guaranteed নয়।
Potential pathways-এর মধ্যে রয়েছে:
- Skilled Independent visa — subclass 189
- Skilled Nominated visa — subclass 190
- Skilled Work Regional — subclass 491
- Employer-sponsored pathways
- Skills in Demand visa
- Employer Nomination Scheme — subclass 186
- অন্যান্য eligible migration pathways
PR-এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেগুলো সাধারণত বিবেচনায় আসতে পারে সেগুলো হল: Occupation, Skills assessment, Age, English, Qualification, Work experience, State nomination, Regional residence/work, Employer sponsorship, Current migration policy ইত্যাদি। তবে পিআরের জন্য occupation list বা migration policy পরিবর্তন হতে পারে এবং প্রতিনিয়তই হচ্ছে।
২০২৬–২৭ সালে Australia’s Permanent Migration Program-এর planning level 185,000 places, যার প্রায় 70:30 ভাগ Skilled ও Family Program-এর মধ্যে রাখা হয়েছে। সরকার onshore migrants-এর জন্য 129,590 places বরাদ্দ করেছে।
সবশেষে, Australia PR-friendly হতে পারে, কিন্তু PR-friendly course বলে কোনো guaranteed category নেই। এজন্য যেই অ্যাপ্লিকেন্ট অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে নিজের occupation, skills assessment এবং সম্ভাব্য migration pathway যাচাই করবে, তার পরিকল্পনা অনেক বেশি বাস্তবসম্মত হবে।
৭. অস্ট্রেলিয়াতে Lifestyle কেমন?
এবার আসা যাক লাইফস্টাইল নিয়ে। অস্ট্রেলিয়াতে লাইফস্টাইল সাধারণত মাল্টিকালচারাল, নিরাপদ, স্বাধীন, স্টুডেন্ট ফ্রেন্ডলি। এখানে বিভিন্ন দেশের বড় বড় স্টুডেন্ট কমিউনিটি রয়েছে। ২০২৬ সালের May পর্যন্ত Australia-তে প্রায় 680,582 international students পড়াশোনা করেছে। জনপ্রিয় স্টুডেন্ট সিটিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: Sydney, Melbourne, Brisbane, Perth, Adelaide, Canberra, Hobart/Darwin. সাধারণত বড় শহরগুলোতে লিভিং কস্ট অনেকটাই বেশি। তবে ছোট বা রিজিওনাল শহরগুলোতে অনেক ক্ষেত্রে accommodation, transport ও entertainment তুলনামূলকভাবে affordable হতে পারে।
খরচের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে কোনো এমাউন্ট বলা সম্ভব নয়। কেননা খরচ নির্ভর করে লোকেশন, লাইফস্টাইল ইত্যাদি আরও অনেক কিছুর ওপর। এক্ষেত্রে সাধারণত সবচেয়ে বড় খরচ হল বাসা ভাড়া, বিলস ও অন্যান্য ট্রান্সপোর্ট খরচ। খাবারের ক্ষেত্রে নিজে রান্না করে খেলে খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব। আবার শেয়ারে বাসা নিলেও খরচ অনেক কমানো যায়।
Student visa-এর জন্য যে minimum financial requirement দেখাতে হয়, সেটাকে বাস্তব living cost ধরে নেওয়া উচিত নয়। কেননা ওই এমাউন্টের থেকে আসল খরচ অনেক বেশি হতে পারে।
Student Visa-এর জন্য সাধারণত Overseas Student Health Cover (OSHC) প্রয়োজন। Student Visa application-এর eligibility requirements-এর মধ্যেও OSHC-এর বিষয়টি রয়েছে। তাই Australia যাওয়ার মোট budget হিসাব করার সময় Tuition + OSHC + Visa + Accommodation + Food + Transport + Emergency fund সবকিছু ধরে হিসাব করতে হবে।
বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতিতে আমেরিকা বা ইউরোপের কঠোর ইমিগ্রেশন প্রসেসের কারণে উচ্চশিক্ষা প্রার্থীদের কাছে অস্ট্রেলিয়া জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ভালো একাডেমিক প্রোফাইল আর সঠিক পরিকল্পনা করতে পারলে অস্ট্রেলিয়াতে সেটেল হওয়া খুব একটা কঠিন কিছু না। তাই নিজের অবস্থান যাচাই করে বুঝে-শুনে পরিকল্পনা করে আসা উচিত। আশা করি সফল হওয়া যাবে।
অস্ট্রেলিয়া নিয়ে আরও কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন।










