বিদেশে গিয়ে পার্ট-টাইম জব না পেলে কী করবেন?

বিদেশে গিয়ে পার্ট-টাইম জব না পেলে কী করবেন?

বিদেশে পড়তে গেলে অনেক শিক্ষার্থী ধরে নেন যে বিদেশের মাটিতে পা রাখার সাথে সাথেই একটা জব ম্যানেজ হয়ে যায়! কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়। পার্ট-টাইম জবের অনেক খোঁজ হয়তো পাওয়া যাবে। কিন্তু সেখানে কাজ পাওয়াটা নিশ্চিত নয়। তাই বিদেশে যাওয়ার আগে নিজের পড়াশোনা ও থাকা-খাওয়ার খরচ এমনভাবে পরিকল্পনা করা উচিত, যাতে শুরুতে কাজ না পেলেও কিছু সময় নিজের টাকায় চলতে পারেন।

১. প্রথমেই নিজের ভিসার ওয়ার্ক পারমিটগুলো যাচাই করুন
কোন দেশে কত ঘণ্টা কাজ করা যাবে, কোন ধরনের কাজ করা যাবে এবং কখন কাজ করা যাবে এসব নিয়ম দেশ ও ভিসাভেদে আলাদা। যেমন, কানাডায় ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টরা ক্লাস চলাকালীন অফ-ক্যাম্পাসে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসার অধীনে সাধারণভাবে পড়াশোনার সময় প্রতি দুই সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজের অনুমতি রয়েছে। তাই অন্য দেশের নিয়ম দেখে নিজের দেশের নিয়ম ধরে নেওয়া যাবে না।

২. শুধু Part-time Job-এর ওপর নির্ভর করবেন না
বিদেশে যাওয়ার আগে tuition fee, accommodation, food, transportation এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতির জন্য আলাদা অর্থ রাখুন। কারণ চাকরি পেতে কয়েক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে, আবার আপনার পছন্দের কাজ নাও পাওয়া যেতে পারে।

৩. University-এর Career Service ব্যবহার করুন
অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে career service, job board, career fair বা employment support থাকে। Campus-এর ভেতরের সুযোগও খুঁজুন। উদাহরণস্বরূপ, কানাডায় ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টরা নির্দিষ্ট শর্তে campus-এ কাজ করতে পারে।

৪. প্রথমে নিজের CV ও Job Search Strategy ঠিক করুন
একটি ভালো ও প্রফেশনাল CV তৈরি করুন। একই CV দিয়ে সব ধরনের চাকরিতে আবেদন না করে position অনুযায়ী CV ও cover letter পরিবর্তন করুন। University career centre থেকে CV review এবং interview preparation-এর সুযোগ থাকলে সেটিও ব্যবহার করুন।

৫. নিজের Search Area বাড়ান
শুধু একটি নির্দিষ্ট ধরনের কাজের জন্য অপেক্ষা না করে, নিজের skills ও visa conditions-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন ধরনের entry-level কাজ খুঁজুন। তবে ভিসায় অনুমোদিত নয় এমন কাজ কখনো করবেন না।

৬. প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা করুন
Classmates, university societies, career events, professors এবং অন্যান্য international students-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অনেক চাকরির সুযোগ সরাসরি পরিচিতি ও networking-এর মাধ্যমে জানা যায়।

৭. কাজ না পাওয়া পর্যন্ত পড়াশোনার ক্ষতি করা যাবে না
Part-time job-এর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত পড়াশোনার পাশাপাশি আয় বা experience অর্জন করা। চাকরি পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় দিতে গিয়ে একাডেমিক পারফর্মেন্স খারাপ করা উচিত নয়। কিছু দেশে নির্ধারিত ওয়ার্ক আওয়ার লিমিট অতিক্রম করাও ইমিগ্রেশনে সমস্যা তৈরি করতে পারে। যেমন- কানাডায় অনুমোদিত সীমার বেশি কাজ করা স্টাডি পারমিটের শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বিদেশে যাওয়ার আগে বিদেশে গিয়ে পার্ট-টাইম জব করেই সব খরচ চালাব এমন মাইন্ডসেট থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসতে হবে। পার্ট-টাইম জবকে অতিরিক্ত ফাইনেন্সিয়াল সাপোর্ট হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, ফিক্সড ইনকাম হিসেবে নয়। প্রথম দিকে কাজ না পেলেও যেন পড়াশোনা, accommodation ও প্রয়োজনীয় খরচ চালিয়ে যেতে পারেন সেরকম ফাইনেন্সিয়াল ব্যাকআপ নিয়েই বিদেশে যাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    ইউরোপের দেশ ইতালিতে পড়তে আসতে কত টাকা লাগতে পারে?
    Education Cost
    ইউরোপের দেশ ইতালিতে পড়তে আসতে কত টাকা লাগতে পারে?

    ইউরোপিয়ান দেশগুলোর মধ্যে ইতালি বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের জন্য অন্যতম একটা সাশ্রয়ী স্টাডি ডেস্টিনেশন। অনেকেই মনে করেন ইতালিতে পড়তে লাখ লাখ টাকা লাগে, কিন্তু বাস্তবে খরচ

    Read More »
    অস্ট্রেলিয়ার কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় PTE অ্যাকসেপ্ট করে থাকে?
    Australia
    অস্ট্রেলিয়ার কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় PTE অ্যাকসেপ্ট করে থাকে?

    বর্তমানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে English Proficiency-র জন্য IELTS বা অন্যান্য যেসব টেস্ট এক্সাম রয়েছে তার মধ্যে PTE বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। IELTS বা অন্যান্য টেস্টগুলোর

    Read More »
    ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ ছাড়াও কম খরচে কোথায় পড়বেন?
    Higher Study Abroad
    ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ ছাড়াও কম খরচে কোথায় পড়বেন?

    অনেকেই মনে করেন বিদেশে পড়তে হলে Full Scholarship পাওয়াই একমাত্র উপায়। আসলে বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। বিশ্বের অনেক দেশে এমন বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে টিউশন ফি

    Read More »
    অস্ট্রেলিয়ায় বিজনেস স্টাডিজে ‍পড়ার জন্য সেরা বিশ্ববিদ্যালয় কোনগুলো? 
    Best Universities for Business Studies
    অস্ট্রেলিয়ায় বিজনেস স্টাডিজে ‍পড়ার জন্য সেরা বিশ্ববিদ্যালয় কোনগুলো? 

    অস্ট্রেলিয়ায় বিজনেস স্টাডিজের স্টুডেন্টদের জন্য অনেক ভালো ভালো সুযোগ আছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ পাবারও সুযোগ আছে। বিশেষ করে মাস্টার্স ও পিএইচডি লেভেলে প্রায় সব ডিপার্টমেন্টেই

    Read More »