অনেকেই মনে করেন বিদেশে পড়তে হলে Full Scholarship পাওয়াই একমাত্র উপায়। আসলে বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। বিশ্বের অনেক দেশে এমন বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে টিউশন ফি তুলনামূলক কম, আবার অনেক দেশে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম কাজ করে নিজের খরচের একটি বড় অংশ বহন করাও সম্ভব। আজকে এরকম কিছু দেশ নিয়েই আলোচনা করব। বিদেশে যারা পড়াশোনা করতে যেতে চান তারা শুধু আমেরিকাকে টার্গেট না করে পাশাপাশি এই দেশগুলোও বিবেচনা করতে পারেন।
১। জার্মানি
অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি নেই বা খুবই কম। সাধারণত শুধুমাত্র একটি সেমিস্টার ফি দিতে হয়। গবেষণার ভালো সুযোগ-সুবিধা আছে। Engineering, Computer Science ও Business এই ফিল্ডগুলোর জন্য জার্মানি বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া এখানে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম জবও করা যায়। তবে এখানে অনেক ক্ষেত্রে জার্মান ভাষা জানলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। আবার ভিসার জন্য একটা মোটা অংকের ব্লক মানি দেখাতে হয়।
২। ইতালি
কম টিউশন ফি এবং ফান্ডিং সহায়তার জন্য ইতালি বর্তমানে শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখানে অনেক ইংলিশ ভার্সন প্রোগ্রাম রয়েছে। তাই ভাষা নিয়ে খুব একটা ঝামেলায় পড়তে হয় না। লিভিং কস্টও অন্যান্য ইউরোপিয়ান দেশগুলোর থেকে অনেকটাই কম। তবে শহরভেদে খরচে পার্থক্য আছে। আর খুব বড় আর ব্যস্ত শহরগুলোতে থাকা ব্যবস্থা করতে প্রায়ই হিমশিম খেতে হতে পারে।
৩। ফ্রান্স
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ফি অনেক দেশের তুলনায় কম, বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় সুযোগ ভালো। আবার বিভিন্ন সরকারি স্কলারশিপও পাওয়া যায় এখানে। তবে এখানে অনেক জায়গাতেই ইংলিশের ব্যবহার থাকেনা। তাই ফারসি ভাষা জানা থাকতে হয়।
৪। পোল্যান্ড
পোল্যান্ড হল কম বাজেটে পড়তে যাবার অন্যতম একটা জনপ্রিয় স্টাডি ডেস্টিনেশন। এই ইউরোপিয়ান কান্ট্রিতে টিউশন ফি আর লিভিং কস্ট অনেক কম। আর ভাষা নিয়েও কোনো ঝামেলা নেই। ইংরেজি ভার্সনের অনেক প্রোগ্রাম আছে। তবে এখানে ইউরোপের তুলনায় চাকরির বাজার অনেকটাই ছোট।
৫। হাঙ্গেরি
কম খরচে ভালো মানের শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জনপ্রিয় একটা ডেস্টিনেশন। লিভিং কস্টও এখানে অনেক কম। Medical এবং Engineering ফিল্ডে এই দেশে ভালো সুযোগ-সুবিধা আছে।
৬। মালয়েশিয়া
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম বাজেট-ফ্রেন্ডলি দেশ। মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্তে পার্ট-টাইম কাজ করতে পারেন। আবার মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়ায় হালাল খাবার ও ধর্মীয় পরিবেশ অনেক সহজলভ্য। ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা হওয়ায় ভাষা সংক্রান্ত কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। তবে পড়াশোনা শেষে চাকরির সুযোগ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় চাকরির বাজার এখানে নেই।
৭। চীন
সরকারি স্কলারশিপ ছাড়াও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি তুলনামূলকভাবে কম। এখানে আধুনিক ল্যাব ব্যবস্থা থাকায় গবেষণার ভালো সুযোগ আছে। যারা গবেষণায় ক্যারিয়ার গড়তে চায় তাদের জন্য চীন উপযুক্ত। Engineering, Medicine ও Technology-তে ভালো করার দারুণ একটা দেশ হল চীন। তবে অন্যান্য অনেক দেশের মতো চীনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ খুব একটা নেই। পড়াশোনা শেষে PR পাওয়াটাও তুলনামূলক কঠিন এখানে।
৮। তুরস্ক
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর খরচ তুলনামূলক কম হওয়াতে বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে। লিভিং কস্টও কম। এছাড়া ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি সব লেভেলেই সরকারি স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যাবার সুযোগ আছে এই দেশে। ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থান হওয়াতে এই দেশে আছে সমৃদ্ধ সংস্কৃতি।
৯। কানাডা
কানাডা পুরোপুরি “লো-কস্ট” দেশ নয়। তবে যদি তুলনামূলক কম টিউশন ফি-র বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেন এবং ছোট শহরে থাকেন, তাহলে খরচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আবার এখানে বেশ কয়েকটি সরকারি স্কলারশিপের ব্যবস্থা আছে। এর বাইরে আমেরিকার মতো এখানেও Graduate Assistantship, Teaching Assistantship বা Research Assistantship পাবারও সুযোগ থাকে। তাই ফান্ড নিয়ে আসাটা অনেকাংশেই সহজ। Software Development, Artificial Intelligence, Data Analytics, Cybersecurity, Engineering, Nursing, Healthcare, Supply Chain, Finance, Education এসব সেক্টরে ভালো জব পাওয়া যায় এখানে। পার্ট-টাইম জবের ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত শর্তে অফ-ক্যাম্পাস কাজ করতে পারেন। অনেকেই আবার শুধুমাত্র PR-এর জন্য কানাডা বেছে নেন। কিন্তু বর্তমানে আগের তুলনায় PR এখন অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে গিয়েছে।
১০। যুক্তরাষ্ট্র
সেল্ফ ফান্ডে পড়তে যাবার জন্য যুক্তরাষ্ট্র খুব ব্যয়বহুল একটা দেশ। তবে কেউ যদি ফুল-ফান্ড নিয়ে পড়তে আসে সেক্ষেত্রে ভালো সুযোগ আছে। কিছু State University এবং Regional University-তে তুলনামূলক কম টিউশন ফি রয়েছে যেগুলোতে সেল্ফ ফান্ডে পড়াশোনা করাটা খুব একটা কঠিন নয়। এছাড়া Graduate Assistantship, Teaching Assistantship বা Research Assistantship পেলে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।










