একদিন মজা করে পোস্ট দিয়েছিলাম যে বাংলাদেশিদের কাছে আমেরিকা মানেই নিউ-ইয়র্ক। সবাই এ সিটিকে এক নামে চিনে, কারণ বাংলাদেশিদের সংখ্যাগত দিক থেকে এ স্টেটে সবচেয়ে বেশি মানুষ থাকে। আর এর মধ্যে প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি ব্রুকলিন শহরে থাকে। আমার দুই মামা সহ বেশির ভাগ আত্মীয় ব্রুকলিনে থাকে বলে আমাদের নিঊ-ইয়র্কের দিকে বেড়াতে গেলে ব্রুকলেইনেই থাকা হয়।
আমরা ২০১৯ এ প্রথমবার এসেই নামি জন এফ ক্যানেডি এয়ারপোর্টে। কাজিনরা এসে মামার ব্রুকলেনের বাসায় নিয়ে যায়। পৌছাতে প্রায় বিকেল। ওরা বললো না ঘুমিয়ে ঘুরতে বের হয়ে যেতে, তাহলে রাতে ঘুম ভালো হবে আর জেট লেগ থাকবেনা। বেশ টায়ার্ড ছিলাম, তবুও সন্ধ্যায় বের হয়ে আশে পাশে ঘুরলাম। তারপর দিন গেলাম ব্যাটারি পার্ক ও ব্রুকলেন ব্রিজ।
ব্রুকলিন ব্রিজ বেশ বিখ্যাত বলে প্রতিদিন শত শত মানুষ ঘুরতে আসে। আমরা অগাস্টে গিয়েছি, তাই অনেক ভীর। এ ব্রিজ ১৮৮৩ সালে নির্মান করা হয়। তখনকার সময়ে এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ঝুলন্ত ব্রিজ। ম্যানহাটন থেকে ব্রুকলিনকে কানেক্ট করেছে এ ব্রিজ। এটি ইস্ট রিভারের উপর নির্মিত। আমরা মেট্রোতে করে ম্যানহাটন গিয়েছি শুরুতে। ব্যাটারি পার্ক ও আশে পাশের এরিয়া ঘুরে ব্রুকলিন ব্রিজের দিকে হাটা শুরু করলাম। প্ল্যান হলো, ব্রিজটা সন্ধ্যায় এক পাশ থেকে আরেক পাশে হেটে পার হবো। রাতের ম্যানহাটন স্কাই লাইন দেখাও হয়ে যাবে।
আমরা বেশ খানিকক্ষণ হেটে ব্রিজে উঠলাম আর চারপাশের সৌন্দর্য দেখলাম। ব্রিজের বিভিন্ন জায়গা থেকে রাতের ম্যানহাটনকে অপরূপ লাগছিল। সারি সারি বিল্ডিংয়ে জ্বলমলে আলো আর বিশাল আকাশ। এক মনোমুগ্ধকর কম্বিনেশন। ব্রিজে আমাদের সাথে হাটছে অনেক পর্যটক। স্কাইলাইন পেছনে রেখে ছবি তুললাম আমরা। ব্রিজে প্রচুর গাড়ি আবার নিচে দিয়ে এ স্পিড বোট বা ছোট শিপ গুলা হর্ণ বাজিয়ে যাচ্ছে! বেশ ব্যস্ত একটা জায়গা। আমাদের ঘন্টার বেশি সময় লাগলো ব্রিজের এক দিক থেকে অন্য দিকে পার হতে। এতটা টায়ার্ড লাগছিল যে ব্রিজের শেষ মাথায় গিয়ে সবাই বসে পড়লাম। পরে আরেক কাজিন গাড়ি নিয়ে এসে আমাদের উদ্ধার করে নিয়ে গেলো।
নিউইয়র্কে এসেই খুব বিখ্যাত একটা জায়গা দেখার সুযোগ হয়েছিল কাজিনদের কল্যাণে। বেশ খানিকটা স্বপ্ন স্বপ্ন লাগছিলো। আমেরিকান ড্রিম নিয়ে আসা মানুষজনের শুরুতে যা হয় আর কি! সে বারই আরো কিছু জায়গা ঘুরে দেখেছি আর গল্প গুলো ব্লগে শেয়ার করবো।









