ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছু: ভর্তি থেকে ক্যাম্পাস লাইফ (২)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছু: ভর্তি থেকে ক্যাম্পাস লাইফ (২)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস লাইফ নিয়ে এর আগে আরেকটা পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছিল। আজকের পোস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। শুরুতেই ক ইউনিটের অনার্স পর্যায়ের ভর্তি নিয়ে কথা বলা যাক। আগামী ২৭শে ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ অর্থাৎ ক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নিচে ক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার নম্বর বন্টন সহ বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হল- 

ভর্তির যোগ্যতা-

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য:

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উভয় পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ (৪র্থ বিষয়সহ)

দুই পরীক্ষার জিপিএ-র যোগফল ন্যূনতম ৮.০০

কোনো একটি পরীক্ষায় ৩.৫০-এর নিচে হলে আবেদন করা যাবে না

পরীক্ষার মানবন্টন-

মোট নম্বর: ১০০

ভর্তি পরীক্ষা মোট ৯০ মিনিট সময়ব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। এই ভর্তি পরীক্ষা মূলত দুইটি অংশে বিভক্ত— MCQ (বহুনির্বাচনী) এবং লিখিত (Written)।

পরীক্ষার প্রথম অংশ হলো MCQ পরীক্ষা, যার জন্য বরাদ্দ থাকে ৪৫ মিনিট। এই অংশে মোট ৬০ নম্বরের প্রশ্ন থাকে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাওয়া যায় এবং ভুল উত্তরের জন্য নেগেটিভ মার্কিং প্রযোজ্য থাকে। সাধারণত প্রতি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কেটে নেওয়া হয়। এই MCQ অংশে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট একটি ন্যূনতম নম্বর অর্জন করা বাধ্যতামূলক।

MCQ অংশ শেষ হওয়ার পর অনুষ্ঠিত হয় লিখিত পরীক্ষা, যার সময়ও ৪৫ মিনিট। এই অংশে মোট ৪০ নম্বরের প্রশ্ন থাকে। লিখিত অংশেও পাশ করার জন্য আলাদা ন্যূনতম নম্বর অর্জন করতে হয়।

এছাড়া পরীক্ষার্থীর SSC ও HSC পরীক্ষার GPA থেকে অতিরিক্ত ২০ নম্বর যোগ করা হয়। অর্থাৎ, চূড়ান্তভাবে একজন শিক্ষার্থীর মোট মূল্যায়ন করা হয় ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে।

ভর্তি পরীক্ষায় যেসব বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হয়-

প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ৪টি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। প্রতিটি বিষয়ে মোট ২৫ নম্বর।

পদার্থবিজ্ঞান (বাধ্যতামূলক), রসায়ন (বাধ্যতামূলক), জীববিজ্ঞান/গণিত,  গণিত/জীববিজ্ঞান/বাংলা ইংরেজিতে mcq 15 করে এবং লিখিত ১০ নম্বর করে প্রতিটি বিষয়ে মোট ২৫ নাম্বার

পরীক্ষার বিষয় নির্বাচন-

বাধ্যতামূলক বিষয় (২টি):

১. পদার্থবিজ্ঞান

২. রসায়ন

ঐচ্ছিক বিষয় (২টি নির্বাচন করতে হবে):

১. জীববিজ্ঞান

২. উচ্চতর গণিত

৩. বাংলা

৪. ইংরেজি

পাস নম্বর-

MCQ অংশ: ন্যূনতম ২৪ নম্বর

লিখিত অংশ: ন্যূনতম ১২ নম্বর

সর্বমোট: ন্যূনতম ৪০ নম্বর (১০০-এর মধ্যে)

মেধা তালিকা প্রস্তুতি (মোট ১২০ নম্বর)

মেধা স্কোর = ভর্তি পরীক্ষার নম্বর (১০০) + (এসএসসি জিপিএ × ২) + (এইচএসসি জিপিএ × ২)

আসন সংখ্যা- মোট আসন: প্রায় ১,৮৯৬টি

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    Australia-তে Non-STEM ব্যাকগ্রাউন্ডদের কেমন সুযোগ রয়েছে?
    Australia
    Australia-তে Non-STEM ব্যাকগ্রাউন্ডদের কেমন সুযোগ রয়েছে?

    অনেকেরই ধারণা, অস্ট্রেলিয়ায় শুধু STEM (Science, Technology, Engineering, Mathematics) ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদেরই ভালো সুযোগ রয়েছে। তবে বাস্তবে বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। Non-STEM- দের জন্যও স্কলারশিপ, পিআর

    Read More »
    SOP লেখার ক্ষেত্রে সবাই যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি করে থাকে
    Application Materials
    SOP লেখার ক্ষেত্রে সবাই যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি করে থাকে

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনে Statement of Purpose যাকে সংক্ষেপে SOP বলা হয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ডকুমেন্ট। এটা এমন একটা ডকুমেন্ট, যা অনেক সময় একই CGPA, একই

    Read More »
    জার্মানিতে Non-STEM শিক্ষার্থীদের জন্য কেমন সুযোগ আছে?
    Germany
    জার্মানিতে Non-STEM শিক্ষার্থীদের জন্য কেমন সুযোগ আছে?

    অনেকেই মনে করেন, জার্মানিতে শুধু Engineering, Computer Science বা অন্যান্য STEM (Science, Technology, Engineering, Mathematics) বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যই সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মোটেও তা নয়।

    Read More »
    বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আবেদনের সময়ে ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
    Application Help
    বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আবেদনের সময়ে ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে অনেকের প্রথম প্রশ্ন থাকে—”বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং কি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?” সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: না, তবে অনেক দিকে থেকেই এটি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

    Read More »