পুরাতন ও ব্যবহার করা জিনিস-পত্রের দোকান

কাপড় বা আসবাবপত্র পুরনো হয়ে গেলে আমরা যখন ফেলে দেই, তখন আমেরিকানরা এটাকে দান করে দেয়। জামা-কাপড়, থালা বাটি, ফার্নিচার, জুতা, ঘরের ছোট খাট যে কোন জিনিস থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক কিছু নিয়ে প্রায় প্রতি শহরে আছে থ্রিফট স্টোর। শুধু যে পুরনো জিনিস তা ও না, যে কোন নতুন ব্যবহার না করা জিনিসও দান করে দেয় থ্রিফট স্টোরে। এ স্টোর গুলো নন-প্রফিট কিছু সংস্থা চালায় যেমন- Goodwill, Habitat For Humanity, The Salvation Army, Saver’s ইত্যাদি। 

কাস্টমার কারা? কে কিনে এসব পুরনো জিনিস পত্র? কমন বায়ার হলো আমেরিকানরা। এথেন্সে আমাদের বাসার পাশেই ছিল গুডউইল। আসার পর শুনলাম যে এখান থেকে স্টুডেন্টরা সবাই টুকটাক ফার্নিচার কিনে। বিশেষ করে সোফা, তোষক, চেয়ার, ল্যাম্প, ডাইনিং টেবিল, রিডিং টেবিলের মত জিনিস গুলোর জন্য থ্রিফট স্টোরই ভরসা। আমরা ও আরেকটা New to You নামে স্টোরে ঘুরে ঘুরে এমন অনেক কিছু একসাথে কিনে জমালাম। ওদের রিকুয়েষ্ট করলে একটা লেবেল দিয়ে রাখে যে সোল্ড আর ওদের ডেলিভারি সার্ভিস নিয়ে একদিনে বাসায় নিয়ে আসলাম। ব্যাস, ২৫০-৩০০ ডলারে পুরা বাসার ফার্নিচার হয়ে গেলো! এগুলা নতুন কিনতে গেলে একটা সোফাই ৬০০-১০০০ ডলার। 

ফার্নিচার আর টুকটাক জিনিসপত্র আর অনেক বই কিনেছি এখান থেকে। ১-২ ডলারে একেকটা বই। প্রচুর কালেকশন থাকে। সিডি, ডিভিডি সহ ইলেকট্রনিক ও পাওয়া যায়। আমেরিকানরা সব কিনে! জামা, প্যান্ট, জুতা থেকে শুরু করে কার্ট ভর্তি করে বাজার করে অনেকে। ভালো কন্ডিশন বা নতুন আইটেম গুলোর একটু দাম হয় কিন্তু সেটা মার্কেট প্রাইসের ১০ ভাগের এক ভাগ! স্টোর গুলোতে অনেকে ইন্টার্নশিপ করে আবার কেউ আবার জব। ভলান্টিয়ার ও আছে অনেক যারা সেবা করতে আসে। ড্রাইভ থ্রু ডোনেশন করা যায় আবার ডিডেকেটেড জায়গা ও থাকে। আমরা প্রতিবছর ২-৩ বার জামা কাপড় সহ আনইউজড জিনিস গুলো ডোনেট করে দেই। 

খুব চমৎকার সিস্টেম বানিয়েছে এটা। ফেলে না দিয়ে রি ইউজ করায় যেমন অপচয় রোধ করছে, তেমনি অনেক মানুষ বাজেটের মধ্যে বাসার সব কেনার সুযোগ পাচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট দের জন্য ও বিশাল সুবিধা হয়। ডিগ্রী শেষ করে চলে আসার সময় অনেকেই তাদের জিনিস নতুন আসা অন্য স্টুডেন্ট দের দিয়ে আসে অথবা আবার ডোনেট করে দেয়। এভাবে দেখা যায় যে ফার্নিচার বহু আগে ভাগারে যেত, সেটা আরো ১০ বছর বেশি ব্যবহার করা হলো। দেশে ও চাইলে এমন স্টোর ওপেন করা যায় যদি কোন নন-নন-প্রফিট উদ্যোগ নেয়। 

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    কমার্স/বাণিজ্য (Business/Commerce) ফ্যাকাল্টি: পূর্ণাঙ্গ রিভিউ
    Business Faculty Funding
    কমার্স/বাণিজ্য (Business/Commerce) ফ্যাকাল্টি: পূর্ণাঙ্গ রিভিউ

    কমার্স ফ্যাকাল্টি কী? কমার্স বা ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ হলো এমন একটি শিক্ষাক্ষেত্র যেখানে অর্থনীতি, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া, হিসাবরক্ষণ, ব্যাংকিং, কর্পোরেট ও ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কিত জ্ঞান প্রদান করা

    Read More »
    Human Resource নিয়ে ফান্ডেড মাস্টার্স করার ৫টি আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় 
    Business Faculty
    Human Resource নিয়ে ফান্ডেড মাস্টার্স করার ৫টি আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় 

    বিজনেস ফ্যাকাল্টির অন্যতম একটি জনপ্রিয় সাবজেক্ট হল Human Resource. এই সাবজেক্টে বাংলাদেশের কর্পোরেট সেক্টরতো বটেই ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশের জব সেক্টরেই এর প্রচুর ডিমান্ড

    Read More »
    মাল্টার উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য জানার সব ফ্রি-রিসোর্সগুলো
    Higher Study Abroad
    মাল্টার উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য জানার সব ফ্রি-রিসোর্সগুলো

    উচ্চশিক্ষা প্রার্থীদের কাছে ইউরোপের দেশ মাল্টা বর্তমানে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আমেরিকা, ইউকে এমনকি ইউরোপের অন্যান্য অনেক দেশের থেকে এখানকার পড়াশোনা এবং জীবনযাপন খরচ অনেকটাই

    Read More »
    Social Science Faculty – পূর্ণাঙ্গ রিভিউ
    career
    Social Science Faculty – পূর্ণাঙ্গ রিভিউ

    Social Science কী? Social Science হলো এমন একটি শিক্ষা-অঙ্গন যা সমাজ, মানুষ এবং রাষ্ট্র সম্পর্কিত নীতি ও কাঠামো নিয়ে কাজ করে। এটি সমাজের সমস্যা, রাজনৈতিক

    Read More »