আমেরিকায় নতুন ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের এপার্ট্মেন্ট/বাসা ভাড়া নেয়ার ৬ টি টিপস

ভার্সিটিতে এডমিশন পেলে সবাইকে মোটামুটি বাসা খোজাখুজি করতে হয়। যদি কোন বাংলাদেশিকে পাওয়া যায় আর হেল্প করে, তাহলে কাজটা সহজ হয়ে যায় বেশ খানিকটা। আর কাউকে না পেলে একটা বাসা সিকিউরড করা মুশকিল হয়। বাসা ঠিক করার সময় কিছু ব্যপার মাথায় রাখা জরুরী যেগুলো জানা থাকলে অনেক সমস্যা থেকে বাচা যাবে- 

ক্যাম্পাস থেকে দূরত্ব: বেশির ভাগ ভার্সিটি রুরাল সেটাপে হয় আর পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ভালো হয়না। শুরুতেই গাড়ি কেনা অনেক সময় কষ্টকর। তাই, শুরুতে বাসা হওয়া দরকার ক্যাম্পাস থেকে কাছে। ১০-২০ মিনিটে হেটে আসা যাবে এমন হলে ভালো। অনেক সময় দূরত্ব না বুঝে বাসা নিলে ট্রান্সপোর্ট নিয়ে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। 

লিজ টার্ম: এখানে বাসা গুলা কত মাসের জন্য ভাড়া নিচ্ছেন সেটার উপর ভাড়া নির্ভর করে। যত লম্বা সময়ের জন্য ভাড়া নেয়া হয়, তত ভাড়া কম। সবচেয়ে বেশি ভাড়া থাকে ৬ মাসের লিজে। তাই লিজ কত সময়ের জন্য হচ্ছে, সেটা চিন্তা করে রাখা উচিত। লিজের ফুল ডকুমেন্ট ভালো করে পড়াটা ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ ওরা অনেক উল্টা পাল্টা টার্মস লিখে রাখে এবং না পড়ে সাইন করলে পরে যে কোন অসুবিধায় ফেলতে পারে। 

ভাড়া: ভার্সিটি এলাকার ভাড়া লন্য জায়গার চেয়ে একটু ডিফারেন্ট হয়। অনেক সময় বাইরের চেয়ে কম থাকে আবার অনেক সময় বেশি। ফান্ডিং বা অভারল ফাইনেন্সের ক্যাল্কুলেশন করে সে রেঞ্জে বাসা নেয়া দরকার। ফ্যামিলি সহ আসলে আর বাচ্চা থাকলে ২ বেডরুমের বাসা লাগে। আর শুধু স্পাউস আসলে ১ বেডরুম হলেও হয়। সিংগেল আসলে অনেকে শেয়ার্ড বাসায় ৩/৪ জন মিলে উঠে। এ অপশন সবচেয়ে সস্তা। 

হিটিং কুলিং ও বাসার কন্ডিশন: সুযোগ থাকলে বাসা ফাইনাল করার  আগে বাসার হিটিং ও কুলিং ঠিক আছে কিনা সেটা দেখা উচিত। অনেক সময় দেখা যায় বড় কোন সমস্যা ও থাকে যেমন বাথরুমের ফ্লোর ভাংগা বা বাসার কোথাও ওয়াল ড্যাম্প ইত্যাদি। বাসা ভিজিটের সুযোগ থাকলে কাওকে দিয়ে ভিজিট করানো দরকার। অন্তত ভিডিও কলে এপার্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টকে দেখাতে বলা যায়। 

সেফটি: ভার্সিটির এরিয়া বেশ সেইফ হয় তবুও নেয়ার আগে ওই এলাকার খোজ নিয়ে দেখা দরকার। আর ভার্সিটি থেকে দূরে হলে মাস্ট খোজ নিতে হবে। 

সিকিউরিটি ডেপোজিট: বাসায় উঠার জন্য একটা সিকিউরিটি ডেপোজিট দিতে হয়। এটা ১ মাসের ভাড়া থেকে শুরু করে ৬ মাসের পর্যন্ত সিকিউরিটি ডেপোজিট দিতে হতে পারে। এটাকে দেশে এডভান্স বলে। কত দিতে হবে সেটা লিজে লিখা থাকে। অনেক এপার্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ক্রিমিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করে। ভার্সিটি এরিয়া গুলোতে ইন্টারন্যাশনাল স্টুদের সাধারণত এগুলোর মধ্যে দিয়ে যেতে হয়না। এডভান্স এর টাকা অনেক সময় আগেই পাঠাতে হয় বাসা বুক করতে। 

ভালো বাসা খুজে পাওয়া যেমন কঠিন, আবার অনেক স্ক্যাম হয়। আমরা এসেই এমন স্ক্যামের খপ্পরে পড়েছিলাম। সে গল্প আরেকদিন বলা যাবে।

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    অস্ট্রেলিয়ায় বিজনেস স্টাডিজে ‍পড়ার জন্য সেরা বিশ্ববিদ্যালয় কোনগুলো? 
    Best Universities for Business Studies
    অস্ট্রেলিয়ায় বিজনেস স্টাডিজে ‍পড়ার জন্য সেরা বিশ্ববিদ্যালয় কোনগুলো? 

    অস্ট্রেলিয়ায় বিজনেস স্টাডিজের স্টুডেন্টদের জন্য অনেক ভালো ভালো সুযোগ আছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ পাবারও সুযোগ আছে। বিশেষ করে মাস্টার্স ও পিএইচডি লেভেলে প্রায় সব ডিপার্টমেন্টেই

    Read More »
    আমেরিকার Montana স্টেটের ৪টি ফুল-ফান্ডেড বিশ্ববিদ্যালয়
    Full-Funded Universities
    আমেরিকার Montana স্টেটের ৪টি ফুল-ফান্ডেড বিশ্ববিদ্যালয়

    কম খরচে আমেরিকাতে থাকার জন্য Montana স্টেট অনেক ভালো একটা অপশন। এখানে অন্যান্য স্টেটগুলোর তুলনায় লিভিং কস্ট অনেকটা কম। এছাড়া এখানকার লাইফস্টাইল অন্য অনেক স্টেট

    Read More »
    যেসব স্কলারশিপে Work Experience লাগে না
    Government Scholarship
    যেসব স্কলারশিপে Work Experience লাগে না

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপে দেখা যায় ফুল-টাইম বা পার্ট-টাইম ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স চেয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে একদম ফ্রেশারদের জন্য আবেদন করে ফাইনাল সিলেকশনে ডাক পাওয়াটা

    Read More »
    CV কত পেজ হওয়া উচিত?
    Application Materials
    CV কত পেজ হওয়া উচিত?

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করার সময় অনেকেই CV কত পেজের দেয়া উচিত তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগেন। উচ্চশিক্ষায় আবেদনের সময় CV দেয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় রয়েছে।

    Read More »