আমেরিকাতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে STEM এবং Non-STEM খুবই প্রচলিত দুটি শব্দ। অনেকেই এই দুটোর মধ্যে আসলে পার্থক্য কী এই বিষয়ে জানেন না অথবা অনেকের আবার এই দুই বিষয়ে অনেক ভুল ধারণাও রয়েছে। কমেন্ট এবং ইনবক্সে প্রায়ই এটা নিয়ে প্রশ্ন পেয়ে থাকি। তাই আজকে এই দুটো বিষয় নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করব।
আমেরিকাতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অর্থাৎ অনার্স, মাস্টার্স এবং পিএইচডিতে যত ধরনের সাবজেক্ট রয়েছে সবগুলোকে দুটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে একটি হল STEM এবং অপরটি Non-STEM. আমেরিকা বাদেও প্রায় সব দেশেই উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই দুই ক্যাটাগরিতে সাবজেক্টগুলো সাজানো হয়।
STEM বলতে Science, Technology, Engineering এবং Mathematics-কে বোঝায়। অর্থাৎ সাইন্স বা বিজ্ঞান বিভাগের প্রায় সমস্ত সাবজেক্টই STEM-এর আন্ডারেই পরে। অপরদিকে Non-STEM হল Science, Technology, Engineering এবং Mathematics এই চার ধরনের বিভাগ বা সাবজেক্ট ব্যতীত বাকি সাবজেক্টগুলো। অর্থাৎ সাধারণত Arts, Social Science এবং Business Studies-এর বিষয়গুলোকে Non-STEM সাবজেক্ট হিসেবে ধরা হয়।
STEM সাবজেক্টগুলোতে গাণিতিক যুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং বিশ্লেষণমূলক পড়াশোনার আধিক্য থাকে। অপরদিকে Non-STEM-এর সাবজেক্টগুলোতে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ইত্যাদি থিউরিটিক্যাল বিষয় নিয়ে বেশি পড়াশোনা হয়ে থাকে।
এটাতো গেলো STEM এবং Non-STEM-এর সাধারণ ধারণা। এবার আসি এই দুই সাবজেক্ট ক্যাটাগরির সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে। STEM প্রোগ্রামগুলোতে সাধারণত Non-STEM প্রোগ্রামগুলো থেকে তুলনামূলক বেশি পরিমাণে ফান্ডিং দিয়ে থাকে। বিভিন্ন প্রাইভেট বা পাবলিক সেক্টর STEM প্রোগ্রামগুলোতেই বেশি ইনভেস্ট করে থাকে। যেহেতু বর্তমানে Science এবং Technology-তে অনেকদূর এগিয়ে যাবার সুযোগ রয়েছে আর তা অনেকবেশি লাভজনক, এজন্য STEM ফিল্ডেই ইনভেস্টমেন্টটা বেশি হয়ে থাকে।
তাই বলে কি Non-STEM প্রোগ্রামগুলোতে একেবারেই ফান্ডিং থাকে না? থাকে, তবে সেটা STEM প্রোগ্রামগুলোর তুলনায় কিছুটা কম। তবে STEM প্রোগ্রামগুলোতে একটি সমস্যা হল এই সেক্টরে প্রতিযোগিতা তুলনামূলক অনেক বেশি। এজন্য ফান্ড সিকিউর করতে বেশ কষ্ট পোহাতে হয়। অপরদিকে Non-STEM প্রোগ্রামে ফান্ড কম থাকলেও প্রতিযোগিতা অনেকটাই কম। তাই মোটামুটি একটা প্রোফাইল নিয়েও Non-STEM থেকে ভালো ফান্ডিং ম্যানেজ করা যায়। তবে সঠিকভাবে অ্যাপ্লিকেশন প্রসেসগুলো ধরে ধরে আগালে উভয় সেক্টর থেকেই ফান্ড ম্যানেজ করা সম্ভব।
STEM এবং Non-STEM প্রোগ্রামগুলোর আরেকটি পার্থক্য হল এদের জব মার্কেটে। সাধারণত যেকোন দেশের জব মার্কেটে STEM সাবজেক্টগুলোর ডিমান্ড বেশি থাকে। এছাড়া স্যালারির ক্ষেত্রেও Non-STEM সাবজেক্টগুলোতে STEM-এর তুলনায় টাকার অংক কিছুটা কমই হয়ে থাকে।
আমেরিকাতে STEM এবং Non-STEM প্রোগ্রামের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হয় OPT-র ক্ষেত্রে। ডিগ্রী শেষ করে আমেরিকাতে লিগ্যালি কয়েক মাস বা বছর পর্যন্ত থাকার সুযোগ রয়েছে। এই সময়কালকেই OPT বলা হয়ে থাকে। এই সময়ের মধ্যেই জব ম্যানেজ করে আবার নতুন করে ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। নতুবা OPT-র এই সময়কাল অতিক্রান্ত হলে আমেরিকাতে আর লিগ্যালি থাকা যায় না। আমেরিকাতে STEM এবং Non-STEM সাবজেক্টের ক্ষেত্রে OPT-র এই সময়কালের কম-বেশি রয়েছে। STEM প্রোগ্রামে OPT হয়ে থাকে তিন বছরের। অপরদিকে Non-STEM প্রোগ্রামে OPT থাকে মাত্র ৯ মাস/ এক বছরের জন্য। এই স্বল্প সময়ে জব ম্যানেজ করে নতুনভাবে ভিসা অ্যাপ্লিকেশন এসব করা বেশ চ্যালেঞ্জিং।









