চাকুরীর পাশাপাশি উচ্চ-শিক্ষার প্রস্তুতি

চাকুরী শুরু করে তারপর ক্যারিয়ারে একটু এগিয়ে অনেকেই চায় উচ্চ-শিক্ষায় আসতে। ভালো একটা ক্যারিয়ার বুস্টের জন্য একটা ডিগ্রী প্রয়োজন হয়। চাকুরী করার পাশাপাশি কি চাইলে উচ্চ-শিক্ষার প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব? অনেকের ধারণা বিদেশে পড়তে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে সব কিছু ছেড়ে খালি প্রিপারেশন নিতে হবে কিন্তু ব্যপারটা তা নয় বরং বেশির ভাগ মানুষ জব করা অবস্থায় প্রস্তুতি নেই আর জব থেকে ছুটি নিয়ে/ছেড়ে দিয়ে পড়তে আসে। আমিও ঠিক একই কাজ করেছিলাম। চাকুরি করতে করতেই GRE, IELTS দিয়েছিলাম; এপ্লিকেশনের বাকি যে সব কিছু লাগে, সেগুলা প্রস্তুত করেছিলাম। 

এখন প্রশ্ন থাকে যে আমার চাকুরীর অনেক প্যারা, খাটাখাটনি বেশি, তাহলে সময় বের করবো কিভাবে? যদি আপনার অফিস আওয়ারে প্রেশার বেশি থাকে কিন্তু অন টাইম অফিস শেষ করে বাসায় ফিরতে পারেন, তাহলে সন্ধ্যার পর থেকে রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত এটা মোক্ষম সময় কাজে লাগানোর। এই যে ৪/৫ ঘণ্টা সময় পাওয়া যায়, এ সময়ে আমরা বেশির ভাগই জাস্ট টিভি দেখে, মোবাইল ঘুতিয়ে বা আড্ডা দিয়ে কাটিয়ে দেই। বলছিনা পুরা সময়টা পড়াশুনা করেন আর ফ্যামিলিকে বা নিজেকে সময় না দেন, জাস্ট বলছি এ সময় থেকে ২/৩ ঘণ্টা বের করেন প্রস্তুতির জন্য। আর যেদিন অফিস নেই, সেদিন আরেকটু বেশি সময় দিয়ে পড়াশুনা করলেন। অফিসে যদি কাজের প্রেশার কম থাকে অথবা ফ্রি থাকেন, কলিগদের সাথে আড্ডা কমিয়ে টুকটাক প্রস্তুতি চালিয়ে নিতে পারেন। যেমন- ভার্সিটি সার্চ, প্রফেসর ইমেইল, রেকমেণ্ডেশনের জন্য নক করার মত কাজ গুলো অত প্রেশার ক্রিয়েট করেনা, তাই এগুলা এগিয়ে রাখা ভালো। আমার অফিসে আমরা ৩ জন প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম আমেরিকায় আসার জন্য আর প্রায়ই ভার্সিটি খোজা, সুযোগ এবং টেস্টের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলতাম। জিআরই ওয়ার্ড ও প্রাকটিস করেছি একসাথে! আলহামদুলিল্লাহ আমরা ৩ জনেই গত কয়েক বছর ধরে আমেরিকায়! যদি, এমন কলিগ খুঁজে বের করতে পারেন, তাহলে প্রস্তুতি জমে যাবে! 

অনেকের অফিসই থাকে রাতের ১০ টা পর্যন্ত বা ঠিক নেই কবে শেষ হবে, সেক্ষেত্রে এমন জব করে প্রস্তুতি নেয়া কতটুকু সম্ভব সেটা আমার আইডিয়া নেই। তবে, অন্য সময় থেকে কিছু সময় বের করে চেষ্টা চালাতে পারেন। যদি অন্যদের প্রস্তুতি নিতে ৬ মাস লাগে, তাহলে আপনার হয়তো ১ বছর লাগবে কিন্তু নিজের স্বপ্নের সাথে সাথে অনেক ইচ্ছে-শক্তি যোগ হলে সব সম্ভব হয়। আমরা অনেকেই পেরেছি, আপনি ও পারবেন ইনশা-আল্লাহ। 

আলীবাবার ফাউন্ডার জ্যাক মা এর গল্প শুনেছিলাম যে তিনি এ সন্ধ্যার সময়টা কাজে লাগিয়ে কিভাবে এমবিএ সহ আরও ডিগ্রী নিয়েছেন। দেশে ও অনেকে কিন্তু অফিস শেষে ইভিনিং এমবিও/মাস্টার্স করছে।জাস্ট মাথায় রাখতে হবে আলস্য আর অর্জন একসাথে হয়না! যারা করছেন, তারা অন্য কিছু কম্প্রোমাইজ করছেন একটা সময় পর্যন্ত। তাই, চয়েজ আপনার 

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    Australia-তে Non-STEM ব্যাকগ্রাউন্ডদের কেমন সুযোগ রয়েছে?
    Australia
    Australia-তে Non-STEM ব্যাকগ্রাউন্ডদের কেমন সুযোগ রয়েছে?

    অনেকেরই ধারণা, অস্ট্রেলিয়ায় শুধু STEM (Science, Technology, Engineering, Mathematics) ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদেরই ভালো সুযোগ রয়েছে। তবে বাস্তবে বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। Non-STEM- দের জন্যও স্কলারশিপ, পিআর

    Read More »
    SOP লেখার ক্ষেত্রে সবাই যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি করে থাকে
    Application Materials
    SOP লেখার ক্ষেত্রে সবাই যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি করে থাকে

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনে Statement of Purpose যাকে সংক্ষেপে SOP বলা হয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ডকুমেন্ট। এটা এমন একটা ডকুমেন্ট, যা অনেক সময় একই CGPA, একই

    Read More »
    জার্মানিতে Non-STEM শিক্ষার্থীদের জন্য কেমন সুযোগ আছে?
    Germany
    জার্মানিতে Non-STEM শিক্ষার্থীদের জন্য কেমন সুযোগ আছে?

    অনেকেই মনে করেন, জার্মানিতে শুধু Engineering, Computer Science বা অন্যান্য STEM (Science, Technology, Engineering, Mathematics) বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যই সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মোটেও তা নয়।

    Read More »
    বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আবেদনের সময়ে ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
    Application Help
    বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আবেদনের সময়ে ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে অনেকের প্রথম প্রশ্ন থাকে—”বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং কি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?” সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: না, তবে অনেক দিকে থেকেই এটি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

    Read More »