মুনা কন্সিভ করার পর আমি কাওরে বলতে বলতাম ‘আমরা কন্সিভ করেছি’। কেউ কেউ মজা করে বলতো তুমি ও করসো নাকি? আসলে আমি বাচ্চা পেটে না ধরলেও পুরা ১০ টা মাস প্রতিদিন ওকে ফিল করেছি সবটুকু দিয়ে। ওর একটু একটু করে বেড়ে উঠা, প্রথম আল্ট্রায় হার্টের বিট, প্রথম বার ওর ছোট ছোট হাত পায়ের ছবি বা মেশিনে হার্টের ধুকপুকানি শুনার অধীর আগ্রহ, একটু বড় হওয়ার পর ওর মায়ের পেটে হাত আর কান পেতে নড়াচড়ার অনুভূতি সহ কোনটাই বাদ যায়নি।
আমরা কলোরাডো ট্রিপ প্ল্যান করছিলাম, হোটেল বুকিং ও করা শেষ আর তখন একটা ছোট্ট বক্স একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠার পর মুনা আমাকে দিল। কোন গিফট মনে করে খুলে তো চোখ ছানাবড়া! টেস্ট কিট আর পজিটিভ রেজাল্ট! খুশীতে আর আবেগে কেঁদে ফেলেছিলাম কেন জানি! কলোরাডো ট্রিপ ক্যান্সেল আর শুরু হলো সম্পূর্ন নতুন একটা জার্নি। কিছুই জানিনা কিভাবে কি করা দরকার, কিভাবে ভাল করে কনফার্ম হবো, কারে জানাবো না জানাবো, ডক্টরের কাছে কবে যাবো! কি খাওয়াবো না খাওয়াবো!! এমন হাজারো প্রশ্ন দিয়েই শুরু হলো যাত্রা!
আমরা প্রেগ্নেন্সি রিলেটেড প্রতিটা কাজ একসাথে করেছি। ডক্টর থেকে শুরু করে প্রতি সপ্তাহে বেবি ডেভেলপমেন্ট এর ভিডিও দেখা, মুনাকে নিয়ে একটু হাটতে যাওয়া, খাবার সিলেকশন থেকে প্রতিটা ভালো আর খারাপে লেগে থেকেছি ছায়ার মত। রান্না আমাকে দিয়ে তেমন একটা হয়না তো কি, বাকী ঘরের কাজে ১০০% দিয়েছি। এর মধ্যে বেচারির কোভিড পজিটিভ হয় আর তখন ১০ দিন খুব টাফ টাইম গিয়েছিল। শেষের দিকে এসে ভারী সময়টায় ও প্রতিটা সময়ই পাশে থাকা হইসে। কারণ এখানে কেউ নেই দেখার মত। কেউ নেই একটু রান্না করে দিয়ে যাবে অথবা একটু অন্যভাবে সাপোর্ট দিবে! কত যে ব্রেকডাউন হয় এ সময়টায় সেটা কাছ থেকে না দেখলে বুঝা যায়না। আর সবচেয়ে বেশি দরকার হয় মানসিক সাপোর্ট আর এটাই সবচেয়ে কম পায় একটা মেয়ে!
একটা মানব শিশুকে নিজের ভেতরে বিট বাই বিট বড় করে তোলা অদ্ভুত ব্যপার। কত কিছুর মধ্যে দিয়ে যে একজন মা যায়, সেটা তিনিই বলতে পারেন। আল্লাহ দুনিয়ার সকল মা দের ভালো রাখুক।









