২০২২ শুরু হয়ে এক মাস প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমরা প্ল্যান করেছি তো এ বছরের জন্য? বছরের প্ল্যান করাটা অনেকে খুব হালকা ভাবে নেন। কারো কারো ধারণা প্ল্যান করে কোন লাভ হয়না, যা হওয়ার এমনেই হবে, নাইলে হবেনা যতই প্ল্যান করি। আসলে কি তাই? আমার ভিন্ন মতামত আছে যেটা প্ল্যানিং এর অভিজ্ঞতা থেকে হয়েছে। চলুন, বাৎসরিক পরিকল্পনার কিছু ভালো দিক জেনে নেই-
১। ১২ মাস, ৫২ সপ্তাহ ও ৩৬৫ দিনের বিশাল বছরে আমি কি কি করতে চাই, হতে চাই, পেতে চাই এটার একটা প্ল্যান থাকলে কাজ গুলো গুছিয়ে করা সহজ হয়। এটার গুরুত্ব বুঝতে একদিন সকালে উঠে সারাদিন কি কি করবেন কোথায় লিখে তারপর সেগুলা এক এক করে কমপ্লিট করে দেখেন, আরে আরেকটা র্যান্ডোম প্ল্যান ছাড়া দিন পাড় করে দেখেন, পার্থক্য নিজেই বুঝবেন
২। কাজের ট্র্যাক ও প্রগ্রেস মাপা যায়। কত দিনে কি শেষ হবে, সেটার স্পষ্ট ধারণা থাকে
৩। একটা বছর চলে গেলো আর কিছুই হলোনা টাইপ দুঃখ থেকে অবশ্যই মুক্তি পাওয়া যায়
তো, কি কি নিয়ে প্ল্যান করা যায়। একেক জন একেক ইস্যু নিয়ে প্ল্যান করে। আমি পারসোনালী যেগুলো নিয়ে প্ল্যান করার চেষ্টা করিঃ
১। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য- ওয়েট বাড়াবো না কমাবো, হাটাহাটি/জগিং প্ল্যান, প্রতিদিনের ডিপ ব্রেথ, মেডিটেশন ইত্যাদি থাকতে পারে এ সেকশনে
২। স্টাডি/ক্যারিয়ার- পড়াশুনায় থাকলে এ বছরের সেমেসটার গুলোর প্ল্যান কি, পড়াশুনা শেষের দিকে থাকলে ক্যারিয়ার প্রস্তুতির কি কি করা যেতে পারে। উচ্চ-শিক্ষার প্ল্যান থাকলে কোন সেমস্টার ধরতে চাই? এখন জবে থাকলে সেটায় কিভাবে ভালো করা যায়, নেক্সট জবে যাওয়ার প্ল্যান থাকলে প্রস্তুতি কিভাবে হবে ইত্যাদি
৩। ফাইনেন্সিয়াল- এ বছর ইনকাম কত হবে পারে? নতুন কোন সোর্স বানাচ্ছি কিনা? কত টাকা সেইভ করবো ইত্যাদি বিস্তারিত আসতে পারে
৪। আত্মগঠন- নিজেকে একজন মানুষ হিসেবে আরেকটু ভালো করার জন্য কি কি করবো? কয়টা ভালো বই পড়বো? কয়টা সফট স্কিল ডেভেলপ করবো, কোন কোন অনলাইন কোর্স করবো? ভলান্টিয়ার কোথায় করবো, কিভাবে সম্পর্ক গুলো বাড়াবো, সামাজিক কোন কাজে যাওয়া যায় কিনা ইত্যাদি
৫। স্পিরিচুয়াল- যে ধর্মেরই হউন যদি স্রষ্টায় বিশ্বাস করেন, তাহলে এ বছর নিজের স্পিরিচুয়াল লেভেল কোথায় দেখতে চান মাস্ট প্ল্যান করুন। নিজের ধর্ম গ্রন্থ কতটুকু পড়বো, কত টাকা মানুষের কল্যাণে দান করবো ইত্যাদি বিষয় গুলো আসতে পারে
যারা ১ বছরের প্ল্যান করে পরে হারায়া যান, তারা পুরো বছরের প্ল্যানকে ৩ মাস করে ভাগ করে নিতে পারেন, যেটা আমি করি। তাহলে আর বিশাল মনে হয়না। তারপর সেটাকে মাস ও সপ্তাহে ভাগ করে নিলে ইনশাআল্লাহ বেশ অনেক গুলা কাজ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। চলেন, একটা প্রোডাক্টিভ বছর প্ল্যান করি। ১১ মাস বাকী এখনো! কে কি নিয়ে ফোকাস করছেন এ বছরে কমেন্টে শেয়ার করতে পারেন।









