লাল বাস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াটা আমার প্রথম প্রায়োরিটি ছিলোনা। ভার্সিটি কোচিং যদিও করতাম কিন্তু মন দিয়ে বিদেশে পড়তে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ভার্সিটি কোচিং শেষ করে এক দৌড়ে TOEFL ক্লাসে যেতাম কারণ আমি আমেরিকা বা কানাডায় আন্ডারগ্রেড করতে চাই! তেমন ধারণা ছিলনা কি করতে হবে কিন্তু ব্যপারটা এমন ছিল পারলে চলে গেলাম নাইলে এখানে ভার্সিটিতে অনার্স করে যাবো। আসলে এক টোফেল ছাড়া আর কোন প্রস্তুতি নেইনি বিদেশে পড়াশুনা করতে আসার। যাই হোক, ঢিলেঢালা ভার্সিটি কোচিং চলছে আর পরীক্ষার ১ মাস বাকী। তখন সব বন্ধুরা সে লেভেলের প্রস্তুত আর আপু একদিন জিজ্ঞেস করলো প্রস্তুতি কেমন। বললাম, এইতো চলে, আমি তো বাইরের জন্য পড়ছি! সেই ভাব ছিল। আপু বললো, তোমার তো এখানে সব রেজাল্ট ভালো একবার ভালো করে ট্রাই করে দেখো, মানসম্মানের ব্যপার আর যদি বিদেশে না হয়, তখন তো এখানে পড়তে হবে! পয়েন্টটা মাথায় গেলো আর ১ মাস খুব মন দিয়ে পড়লাম। এক বন্ধুর বাসায় গিয়ে ওর সাথে পড়তাম। এতই হাল্কা ভাবে নিয়েছিলাম যে ঢাবি আর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া কোন জায়গা থেকে ফর্মই উঠাইনি। 

যা হোক, মডেল টেস্ট গুলা ভালো করে দিলাম। ৩ টা মডেল টেস্ট না দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তুতি ছাড়া পরীক্ষা দিয়ে আসলাম (২ ইউনিটে চান্স ও পাইসি কেমনে জানি:D)। আমি শিউর না এমন কনফিডেন্স কোত্থেকে আসছিল যে এ ২ টা ভার্সিটির একটায় হলে হবে নাইলে তো বিদেশ! 

পরীক্ষার দিনক্ষণ আসলো আর B Unit এর পরীক্ষা দিলাম। আমাদের সময় বাংলা পার্ট বেশ কঠিন ছিল আর মাথা ঘুরাচ্ছিল প্রশ্ন দেখে।কিন্তু কেন জানি ওই যে রিলাক্স মুড অন্য হয়ে ছিল, তাই প্যানিকড হইনি। দিলাম পরীক্ষা, কিন্তু বাংলা নিয়ে কনফিউসড যে পাশ করবো কিনা। বের হয়ে অনেকের চেহারা খারাপ বাংলার জন্য। 

দিন গড়ালো, রেজাল্টের দিন বিকেলে ঘুমাচ্ছিলাম। আমার তো প্যারা নাই। এক বন্ধু ফোন দিল আর দিয়ে গালি-গালাজ শুরু করলো! আমি তো অবাক, বললাম হইসে টা কি! তারপর শান্ত হয়ে ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট জানালো! গালির মূল কারণ আমি বলসিলাম যে বাংলায় ফেইল। যাহোক, বেশ ভালো পজিশন ছিল আর ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে ভর্তি হয়ে গেলাম। ভর্তির পর ২/৩ জন ফ্যাকাল্টির সাথে কথা বললাম আর জানালাম যে আমি বিদেশে যেতে চাই। ওনারা বললেন যে অনার্স করে যাও এখান থেকে, মাস্টার্সে ইজি হবে। ব্যাস, ঢাবির ছাত্র হয়ে গেলাম। এরপর মন লাগিয়ে পড়াশুনা। 

ঢাবির কাছে অনেক কিছু নিয়ে কৃতজ্ঞ আমি। অনেক কিছু শিখেছি। ক্লাশ রুমে তো শিখেছিই আর ও বেশি শিখেছি ক্যাম্পাসে হেঁটে-চলে। ১০০ বছর হয়ে গেলো এ বটবৃক্ষের আর আমাদের আশা বাড়ছে অবিরত যে আমাদের মান অনেক বাড়বে, আমরা বিশ্বের অন্যতম একটা ভালো ভার্সিটি পাবো, বিশ্ব মানের রিসার্চ হবে, স্টুডেন্টরা কোয়ালিটি শিক্ষা পাবে সাথে উন্নত মানের বাসস্থান। ১০০ বছর পর আশা করি নতুন করে প্ল্যান হাতে নিবে প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়। শুভ জন্মদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    মাস্টার্সে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ কোথায় পাওয়া যায়?
    Full Funded Government Scholarship
    মাস্টার্সে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ কোথায় পাওয়া যায়?

    বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সাধারণত দেখা যায় পিএইচডি লেভেলে যতটা সহজে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়া যায় মাস্টার্সের ক্ষেত্রে তা খুব একটা সহজ হয় না। তার কারণ হল বেশিরভাগ

    Read More »
    ইউরোপের দেশ ইতালিতে পড়তে আসতে কত টাকা লাগতে পারে?
    Education Cost
    ইউরোপের দেশ ইতালিতে পড়তে আসতে কত টাকা লাগতে পারে?

    ইউরোপিয়ান দেশগুলোর মধ্যে ইতালি বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের জন্য অন্যতম একটা সাশ্রয়ী স্টাডি ডেস্টিনেশন। অনেকেই মনে করেন ইতালিতে পড়তে লাখ লাখ টাকা লাগে, কিন্তু বাস্তবে খরচ

    Read More »
    অস্ট্রেলিয়ার কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় PTE অ্যাকসেপ্ট করে থাকে?
    Australia
    অস্ট্রেলিয়ার কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় PTE অ্যাকসেপ্ট করে থাকে?

    বর্তমানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে English Proficiency-র জন্য IELTS বা অন্যান্য যেসব টেস্ট এক্সাম রয়েছে তার মধ্যে PTE বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। IELTS বা অন্যান্য টেস্টগুলোর

    Read More »
    ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ ছাড়াও কম খরচে কোথায় পড়বেন?
    Higher Study Abroad
    ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ ছাড়াও কম খরচে কোথায় পড়বেন?

    অনেকেই মনে করেন বিদেশে পড়তে হলে Full Scholarship পাওয়াই একমাত্র উপায়। আসলে বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। বিশ্বের অনেক দেশে এমন বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে টিউশন ফি

    Read More »