পাঠ্যবইয়ের বাইরের বই গুলো পড়ার অভ্যাস যেভাবে গড়ে উঠেছিল

ছোট বেলায় বই পড়ার অভ্যাসটা গড়ে উঠেছিল ভাইয়ার মাধ্যমে। বাড়ীর পাশের বাজারে এক দোকান থেকে ভাইয়া অনেক রকমের বই নিয়ে আসতো পড়ার জন্য। টেক্সট বইয়ের মাঝে লুকিয়ে পড়ার টেবিলে ও চলতো বই পড়া। সেবা প্রকাশনীর বই দিয়ে শুরু বলা যায়। তিন-গোয়েন্দা খুব পড়তাম ক্লাশ ফাইভ-সিক্সে।কমিক্স পড়েছি চাচা-চৌধুরী বা টিনটিনের। তারপর ভাইয়া নিয়ে আসলো দস্যু বনহুর নামে একটা সিরিজ। রোমেনা আফাজের অনবদ্য সৃষ্টি। পুরনো হয়ে যাওয়া বই গুলা খুব যত্নে উল্টিয়ে-পালটিয়ে পড়তাম। যতদূর মনে আছে ১০০ এর বেশি বই ছিল এ সিরিজে। মজা পেয়ে গিয়েছিলাম এমন থ্রিলার পড়তে পড়তে। তারপরে হাতে এলো মাসুদ রানা। একটু বড়দের বই কিন্তু পড়তাম গোগ্রাসে। কত শত মিশনে গিয়েছি মাসুদ রানার সাথে! কত উত্তেজনা। পাশাপাশি পড়তাম ওয়েস্টার্ন, আহা! তখন কাউবয় হয়ে ঘুরে বেড়াতাম আমেরিকার বিভিন্ন এলাকায়। এখন শেরিফের গাড়ি দেখলে মনে পড়ে আমি এ শেরিফকে চিনি কত বছর ধরে! 😀 সাইমুম সিরিজ পড়েছি আর আহমাদ মুসার সাথে ঘুরে জেনেছি বিভিন্ন দেশে ইসলামের ইতিহাস। অসাধারণ সিরিজ একটা।  ভাইয়া পত্রিকার ঈদ সংখ্যা গুলো নিয়ে আসতো, ইয়া মোটা প্রথম আলোর ঈদ সংখ্যা শেষ করে ফেলতাম কদিনে। 

এসব বইয়ের পাশাপাশি ছিল সমরেশ মজুমদারের কালবেলা-কালপুরুষের মত বই গুলা। ক্লাশ নাইনে শহরে পড়াশুনা শুরু করার পরে দুলা ভাইয়ের এক বিশাল আলমারি বই পেলাম আপুর বাসায়। ওনার কালেকশন ছিল বিভিন্ন ধরণের। সাহিত্য, ধর্ম, সাংবাদিকতা, প্রবন্ধ, কবিতা, গল্প, দর্শন- কি ছিলনা ওনার কালেকশনে। আপুর বাসায় গেলেই এটা সেটা পড়তাম। বাইবেল-কুরান-বিজ্ঞানের মত একটু ভারী বই গুলা পড়েছি কলেজের বছর গুলাতে। ইউনিভার্সিটিতে এসে বেশির ভাগ পরেছি সেলফ-হেল্প টাইপ বই গুলা। এ বই গুলাকে আমাদের মুরুব্বীরা আউট বই বলতো আর অনেক বকা খায় এসব পড়ার জন্য। কিন্তু এ বই পড়া যে কি অসম্ভব ভালো একটা ব্যপার সেটা যে পড়ে সেই বলতে পারে! সবই ফিকশন বা নন-ফিকশন ছিল কিন্তু যতটুকু পড়েছি বা পড়ছি এ অভ্যাসটা গড়ে উঠেছিল সে ছোট বেলায়। 

আমার সবসময় মনে হয়, টেক্সট বই তো সবাই পড়ে, কিন্তু এ আউট বই নামে বই গুলা যে কত কিছু দেয়, সে খবর রাখি কি? নিজে বই পড়ুন, নিজের জুনিয়র দের বই পড়তে দিন। কাউকে ভালো বই পড়তে উৎসাহী করেন। এটা লাইফ টাইম ইনভেস্টমেন্ট যেটার ইম্প্যক্ট মাপার কোন যন্ত্র পাইনি। আমি কৃতজ্ঞ ভাইয়ার প্রতি যে অভ্যাস গড়তে হেল্প করেছে আর বাবা-মাকে যারা বকা দেয়নি এগুলা পড়তাম দেখে। পড়তে হবে, নাহলে পিছিয়ে পড়তে হবে। 

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    Australia-তে Non-STEM ব্যাকগ্রাউন্ডদের কেমন সুযোগ রয়েছে?
    Australia
    Australia-তে Non-STEM ব্যাকগ্রাউন্ডদের কেমন সুযোগ রয়েছে?

    অনেকেরই ধারণা, অস্ট্রেলিয়ায় শুধু STEM (Science, Technology, Engineering, Mathematics) ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদেরই ভালো সুযোগ রয়েছে। তবে বাস্তবে বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। Non-STEM- দের জন্যও স্কলারশিপ, পিআর

    Read More »
    SOP লেখার ক্ষেত্রে সবাই যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি করে থাকে
    Application Materials
    SOP লেখার ক্ষেত্রে সবাই যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি করে থাকে

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনে Statement of Purpose যাকে সংক্ষেপে SOP বলা হয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ডকুমেন্ট। এটা এমন একটা ডকুমেন্ট, যা অনেক সময় একই CGPA, একই

    Read More »
    জার্মানিতে Non-STEM শিক্ষার্থীদের জন্য কেমন সুযোগ আছে?
    Germany
    জার্মানিতে Non-STEM শিক্ষার্থীদের জন্য কেমন সুযোগ আছে?

    অনেকেই মনে করেন, জার্মানিতে শুধু Engineering, Computer Science বা অন্যান্য STEM (Science, Technology, Engineering, Mathematics) বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যই সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মোটেও তা নয়।

    Read More »
    বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আবেদনের সময়ে ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
    Application Help
    বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আবেদনের সময়ে ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে অনেকের প্রথম প্রশ্ন থাকে—”বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং কি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?” সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: না, তবে অনেক দিকে থেকেই এটি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

    Read More »