গরুর ভুঁড়ি বেচে লাখ টাকা! ক্ষুদ্র ব্যবসা ও আমাদের নাক উঁচা স্বভাব

আজকে ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে প্রথম আলোর একটা নিউজ নজর আসে। শিরোনাম হলো- ‘অনলাইনে গরুর ভুঁড়ি বেচেন তানজিলা’। উপরে বলা আছে গত ৬ মাসে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার বিক্রি হয়েছে এ ভুঁড়ি। আইডিয়াটা বেশ ইউনিক মনে হলো কারণ ভুঁড়ি যারা পছন্দ করে তারা জানে যে কেটে কুটে পরিস্কার করে খাওয়ার উপযোগী করতে কি পরিশ্রমটা হয়। কঠিন কাজকে সহজ করে মানুষের কাছে পৌছানোই কিন্তু একজন উদ্যোক্তার কাজ। বেশ এপ্রেশিয়েট করার মত ব্যাপার স্যাপার তিনি করছেন! কিন্তু দেখি কি, এ পোস্টের নিছে ৬ হাজারের বেশি মানুষ হাহা রিয়েক্ট দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন আসলে এটা খুব হাসির একটা জিনিস তিনি করছেন, অনেক পঁচা কাজ, ভুঁড়ির মত ময়লা জিনিসকে হাত দিয়ে ধরে পরিস্কার করে বিক্রি করস হয়তো বাজারের কসাইদের কাজ মনে করেন তিনারা। অথবা সবাই বিশাল নবাবজাদা-নবাবজাদী!  অনেক কমেন্ট ও তাদের মানসিকতার প্রতিফলন। মাঝখানে যখন ছোট উদ্যোক্তারা পোস্ট করতো ‘আমি অমুক ওউনার অফ তমুক’ তখন ও দেখেছি অনেকে মক করেছেন। যুক্তি ছিল এভাবে মাশরুম অনালাইন উদ্যোগ গুলো টিকবে না। ফেসবুকে কে কিনবে আর এরা আজাইরা কাজ করছে! এজ ইফ, ছোট করে ব্যবসা শুরু করা পাপ! 

অথচ WE নামে গ্রুপে যুক্ত থাকার সুবাদে আর আমার বোন সহ পরিচিত অনেকের উদ্যোগের সুবাদে দেখছি কি বিশাল কাজটাই না ওনারা করছেন। হাজার না লাখ লাখ উদ্যোক্তার হাট-বাজার। গ্রুপে সেলস আপডেট দেখি একেকজনের কয়েক লাখ করে মাসে! এ পরিসংখ্যান ও কারো কাছে হাসির মনে হবে কিন্তু যাদের ব্যবসার অভিজ্ঞতা আছে, তারা খুব বুঝবে যে এ করোনা মহামারীর সময়ে একটা ব্যবসায় মাসে লাখের বেশি সেল করা কত টাফ! লাখ লাখ বেকার আমাদের, আর এটার অন্যতম একটা সলিউশন হলো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্রিয়েট করা যাতে বেকারত্ব ঘুচার সাথে সাথে কর্মসংস্থান ও সৃষ্টি হয়। এটা বিশাল কাজ হচ্ছে যেটা আরো আগে শুরু করা দরকার ছিল। তার উপর প্রচুর নারী উদ্যোক্তা এগিয়ে আসছে দেখে আরো ভালো লাগছে। এটা ভীষণ প্রয়োজন। 

পরিশেষে, এ কথা গুলো বলার মূল কারণ হলো আমার চোখে উদ্যোগ-উদ্যোক্তা, ব্যবসা, নিজের পায়ে দাঁড়ানো, নিজের বস নিজে হওয়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা মানুষগুলোকে ভীষন পছন্দ হয়। নিজেও এ পর্যন্ত ৪/৫ টা উদ্যোগে ফেইল করেছি। অনার্স ফোর্থ ইয়ার থেকেই পড়াশুনার পাশাপাশি চেষ্টা করতাম, পরে চাকুরীর। আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে যারা চিনে, তারা জানে যে দিন শেষে আমার Vision কি! তাই, যারা নিজের উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন/যাচ্ছ, প্লিজ গো এহেড। যত ছোটই হোক। ৫০০০ টাকার ইনভেস্ট হলেও সমস্যা নেই। চেষ্টা করাটা জরুরি। এ ছোট উদ্যোগ গুলা থেকে যদি ১% ও লং টার্মে টিকে যায়, তাহলেই হলো। অনেক কিছুর সমাধান হবে। আর যারা বলে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ব্যবসা করা সম্ভব না, সরকার এ সে হইসে, তারা প্লিজ WE গ্রুপ টায় জয়েন করে ৩ দিন খালি ঘুরে পোস্ট গুলা দেইখেন। ক্রিয়েটিভিটি কারে বলে! গত পোস্টে বলছিলাম না যে বেকারত্ব ঘুচাতে আমাদের অনেক কিছু করার আছে, এটা ও একটা প্রমাণ! এগিয়ে যাক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। শুভকামনা।

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    জুলাই মাসে যেসব ফুল-ফান্ডেড সরকারি স্কলারশিপের আবেদন শেষ হচ্ছে (২০২৬)
    Application
    জুলাই মাসে যেসব ফুল-ফান্ডেড সরকারি স্কলারশিপের আবেদন শেষ হচ্ছে (২০২৬)

    যারা ২০২৭ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য জুলাই মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসেই বেশ কয়েকটি ফুল-ফান্ডেড সরকারি স্কলারশিপের আবেদন শেষ হবে। 📌 নিচের

    Read More »
    আমেরিকায় ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের কম খরচে হেলথ ইনস্যুরেন্স

    আমেরিকায় হেলথ ইন্সুরেন্স পেতে ভালোই খরচ করতে হয়। সেটা যদি হয় পুরো পরিবারের জন্য, তাহলে তো কথাই নেই!  কম খরচে ইন্সুইরেন্স পাওয়া যায় গুটিকয়েক সোর্স

    Read More »
    Bangladeshi in NY
    ব্রুকলিন,নিউ ইয়র্কঃ এক টুকরো বাংলাদেশ

    একদিন মজা করে পোস্ট দিয়েছিলাম যে বাংলাদেশিদের কাছে আমেরিকা মানেই নিউ-ইয়র্ক। সবাই এ সিটিকে এক নামে চিনে, কারণ বাংলাদেশিদের সংখ্যাগত দিক থেকে এ স্টেটে সবচেয়ে

    Read More »
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-৩)
    Career After HSC
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-৩)

    বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় বিভাগ থেকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারসমূহ— এইচএসসি-পরবর্তী সময়ে গ্রুপ নির্বাচন কেবল দুই বছরের পাঠ্যসূচির ব্যাপার নয়, বরং ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরির একটি

    Read More »