গ্র্যাজুয়েশন ও একটি স্বপ্ন পূরণের গল্প

Alhamdulillah. Officially Graduated! 

আপনাদের সাথে খুশীর উপলক্ষটা শেয়ার করতে চাই। অফিসিয়ালি মাস্টার্স টা শেষ করলাম। আমার এ পথ চলাটা শুরু হয়েছিল একটি দ্বীপের ইলেক্ট্রিসিটি সহ যে কোন আধুনিক সুবিধা বঞ্চিত অজ-পাড়া গাঁয়ে। তারপর একটু একটু করে পথ এগোতে এগোতে যোগ হয়েছে কিছু অর্জন। সব অর্জন গুলোর মধ্যে এটি নিয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত কিছু কারণে।

প্রথমত সমাজের তথাকথিত অনেক ট্যালেন্টেডের তকমা খুব একটা ছিলনা।ছোট বেলায় ক্লাসে ফার্স্ট আর পরে ২ টা জিপিএ ফাইভ! সাথে ভার্সিটিতে একটা মোটামুটি রেজাল্ট! এইতো! কিন্তু ইচ্ছে ছিল আমেরিকায় গিয়ে পড়াশুনা করবো। সে স্বপ্নে বিভোর এ বান্দা HSC শেষ করে ভার্সিটি ভর্তি কোচিং এর পাশাপাশি TOEFL ক্লাশ করতো আন্ডারগ্রেড পড়তে আসবো বলে!! কিন্তু জানতামই না কিভাবে কি করতে হয়৷ শেষমেশ আসা হয়নি। সবাই বললো, ভালো ডিপার্টমেন্ট পেয়েছ, অনার্স শেষ করে যাও। কিন্তু অনার্স-মাস্টার্স এর ও ৩ বছর পরে আসা, আর ডিগ্রি টা পাওয়া। স্বপ্ন পূরণের আনন্দ হবেই তো। 

দ্বিতীয়ত আমার সাথে পড়াশুনা করা স্টুডেন্ট রা ঝড়ে পড়া শুরু করেছে ক্লাশ টু থেকে। তারপর প্রাইমারি, মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিক, ভার্সিটি মিলিয়ে কত জনই তো ঝড়ে গেলো! কিন্তু আল্লাহর রহমত আর সবার দোয়ায় এতটুকু পড়াশুনার সুযোগ পেয়েছি। তাই, কৃতজ্ঞতার সাথে ভাল লাগা কাজ করছে। 

তৃতীয়ত, সবসময় চাইতাম নিজেকে দেশের গন্ডীতে না রেখে অন্য দেশ গুলা ঘুরে দেখতে, দুনিয়াটা এক্সপ্লোর করতে, বিখ্যাত সব জিনিস দেখে চোখ জুড়াতে। আলহামদুলিল্লাহ,  এ মাস্টার্স এর সুবাদে অনেক বড় একটা দেশ দেখার সুযোগ হলো। সারা দুনিয়া থেকে আসা মানু্ষ দেখছি, কত ভাষা-রং-বর্ণের মানুষ! খুব ভালো লাগে আর তৃপ্তি পাই। 

সবশেষে, ইচ্ছে ছিল নিজের জানা গুলোকে পড়াশুনার এ সময়ে অন্যদের মাঝে ও ছড়িয়ে দিতে। গত ২ বছরে এত ব্যস্ততার মাঝেও সামান্য কার্পন্য করিনি আর তাই চেষ্টা করেছি মেসেজ গুলো পৌছে দিতে। কতটুকু পেরেছি জানিনা, কিন্তু একাডেমিক আর অন্য প্রেশারের দোহায় দিয়ে কিছু না করলে হয়তো এটুকু ও হতোনা। কিছু মানু্ষ উপকৃত হচ্ছে জেনে ও আনন্দিত। এ সামান্য অবদানও  বড় পাওয়া আমার এ গ্র‍্যাজুয়েশনের সময়ে।

পরিশেষে, আল্লাহর রহমতের পাশাপাশি আপনাদের সবার দোয়া ও শুভকামনার জন্য সব কিছু অনেক সহজে শেষ হয়েছে। তাই, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। জানি, এ অর্জন খুব বেশি কিছু নয় কিন্তু প্রাপ্তি অনেক। যারা এ পেইজে যুক্ত আছেন, তাদের কেউ যদি এমন স্বপ্ন পূরণে ডিটারমাইন্ড হন, তাহলে কথা দিচ্ছি পাশে পাবেন। অন্তত তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে চেষ্টা করবো আপনাদের স্বপ্ন গুলোকে আলোর মুখ দেখাতে। দোয়া ও ভালোবাসা চাই অবিরত। এ খুশীর ভাগীদার আপনারা ও। ভালো থাকবেন। 

মে ২, ২০২১, ওহাইও ইউনিভার্সিটি, এথেন্স, ওহাইও, যুক্তরাষ্ট্র

    SHARE THIS BLOG

    2 Responses

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    Australia-তে Non-STEM ব্যাকগ্রাউন্ডদের কেমন সুযোগ রয়েছে?
    Australia
    Australia-তে Non-STEM ব্যাকগ্রাউন্ডদের কেমন সুযোগ রয়েছে?

    অনেকেরই ধারণা, অস্ট্রেলিয়ায় শুধু STEM (Science, Technology, Engineering, Mathematics) ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদেরই ভালো সুযোগ রয়েছে। তবে বাস্তবে বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। Non-STEM- দের জন্যও স্কলারশিপ, পিআর

    Read More »
    SOP লেখার ক্ষেত্রে সবাই যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি করে থাকে
    Application Materials
    SOP লেখার ক্ষেত্রে সবাই যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি করে থাকে

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনে Statement of Purpose যাকে সংক্ষেপে SOP বলা হয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ডকুমেন্ট। এটা এমন একটা ডকুমেন্ট, যা অনেক সময় একই CGPA, একই

    Read More »
    জার্মানিতে Non-STEM শিক্ষার্থীদের জন্য কেমন সুযোগ আছে?
    Germany
    জার্মানিতে Non-STEM শিক্ষার্থীদের জন্য কেমন সুযোগ আছে?

    অনেকেই মনে করেন, জার্মানিতে শুধু Engineering, Computer Science বা অন্যান্য STEM (Science, Technology, Engineering, Mathematics) বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যই সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মোটেও তা নয়।

    Read More »
    বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আবেদনের সময়ে ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
    Application Help
    বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আবেদনের সময়ে ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে অনেকের প্রথম প্রশ্ন থাকে—”বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং কি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?” সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: না, তবে অনেক দিকে থেকেই এটি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

    Read More »