উচ্চ-শিক্ষা, রিসার্চ, উদ্যোগ নিয়ে কিছু কাজ হচ্ছে দেশে

খেয়াল করেছেন কি গত ১-২ বছরে বিদেশে উচ্চ-শিক্ষা, রিসার্চ, উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা, ইয়ুথ স্কিল ডেভেলপমেন্ট, প্রাইভেট সেক্টরে ইনভেস্টমেন্ট ইত্যাদি বিষয় নিয়ে দেশে প্রচুর কাজ শুরু হয়েছে? এ জায়গা গুলো আমাদের কাছে ট্যাবুর মত ছিল। তথ্য ছিলোনা, কেউ আলাপ করতে চাইতো না, সুযোগ না থাকার কথা বলতো আর বলতো এদেশে এগুলা হবেনা। আমাদের সিংহভাগ শিক্ষিত তরুণরা এখনো মনে করে এক সরকারি চাকুরী জুটিয়ে সিকিউরড, স্ট্যাবল আর সম্মানিত একটা জীবন কাটিয়ে দেয়াই স্বার্থকতা। এ জন্য তাদের দোষ দিয়েও লাভ কি বলেন? অন্য সব জায়গায় কাজ হয়নি আর হলেও সেটা সবার কাছে পৌছায়নি বা খুব ভাল উদহারন সৃষ্টি হয়নি বলেই বাকীরা সাহস করছেনা। 

কিন্তু এখন কথা বার্তা শুরু হয়েছে। উচ্চ-শিক্ষা ও রিসার্চ এ ক্যারিয়ার নিয়ে বেশ কতগুলো মানুষ কথা বলছেন। নতুন করে শিক্ষিত তরুণরা ক্যারিয়ার নিয়ে অন্যভাবে ভাবছে। স্বপ্ন দেখছে নিজেরাও উন্নত বিশ্বে দাপিয়ে বেড়াবে আর একটা সময় দেশকে বিভিন্নভাবে এগিয়ে নিবে। হলফ করে বলতে পারি, এমন সব সেক্টর নিয়ে কথা বলা শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া থেকে শুরু করে বাকীদের ও ভিন্ন চিন্তার যোগান হবে খুব সহসা। যারা বলছে, অন্য উপায় কি, সিকিউরিটি কই, খাটবে কে এত, পাওয়ার কই, সামাজিক স্বীকৃতি কই, সম্মান কই, ফ্যামিলি সাপোর্ট কই,  সিস্টেম ভালো না তো কি করবো; তারাই বুঝবে যে আসলে অনেক কিছুই করার আছে ক্যারিয়ারে আর জীবনে। এখন যারা এসব শুনে রেগে মেগে কয়েকটা গালী দিয়ে যাচ্ছেন, তারা পথ গুলো ওপেন হলে নিজেরাই খুজে নিবে। 

প্রচুর কাজ না করা পর্যন্ত বা কিছু উদহারন সৃষ্টি না হওয়া বা মাস লেভেলে (অন্তত শিক্ষিতদের) কাছে তথ্যের এভেইলেভেলিটি না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই চলবে। তারপর পরিবর্তন শুরু হবে, জব সেক্টরে ডাইভার্সিটি আসবে, ক্যারিয়ারের সাথে যে পাওয়ার স্ট্রাকচার এর কানেকশন খোজার দরকার হবেনা, ফ্যামিলিতে প্রেসার দিবেনা শুধু একটা কিছু করার, সমাজ সব পেশাকেই সম্মান দিবে আর বেকারত্ব সহ তরুণদের দূর্দশা কাটবে। 

জানি, এখন অনেকে ভাবছেন ভাই, দেশের রাজনীতির অবস্থা দেখছেন? সব সেক্টরে দূর্নীতি দেখেছেন? মাফিয়া তন্ত্র দেখেছেন?- হ্যা ভাই দেখছি। সেটার আপাতত কোন সমাধান দেখিনা তবে এতটুকু বলতে পারি, তখন শিক্ষিতরা বুঝবে যে কেন আমলাদের এত খাতির করছে সরকার? কেনই বা সব ইন্সেন্টীভ সরকারী চাকুরেদের দিতে হয়? কেন ওনাদের বেতন বাড়তেই থাকে? কেন প্রাইভেট সেক্টরকে ঢেলে সাজানো হচ্ছেনা? কেন নতুন উদ্যক্তা তৈরীতে কোন ইনভেস্টমেন্ট নেই? কেন PM Scholarship থেকে শুরু করে সরকারি বৃত্তি গুলোর ৮০/৯০ ভাগ সে সরকারী চাকুরীজীবীদের জন্য যেখানে অসংখ্য মেধাবীরা বিদেশে পড়তে আসতে পারতো অন্য দেশের মত? এগুলার জ্ববাব মেলাতে গেলেই পেয়ে যাবে যে- আমলাদের উপর বেইজ করে বা তাদের খুশী করে কেন দেশ চালাতে হয় আর বিসিএস সহ সরকারি চাকুরীর এ ক্রেজ তৈরী করার মূল কারণ কি! এ সেন্সটা আসলে আশা করি দূর্নীতি সহ বাকী অনেক কিছুর সমাধান ও আসবে। ইনশাআল্লাহ।

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    জুলাই মাসে যেসব ফুল-ফান্ডেড সরকারি স্কলারশিপের আবেদন শেষ হচ্ছে (২০২৬)
    Application
    জুলাই মাসে যেসব ফুল-ফান্ডেড সরকারি স্কলারশিপের আবেদন শেষ হচ্ছে (২০২৬)

    যারা ২০২৭ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য জুলাই মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসেই বেশ কয়েকটি ফুল-ফান্ডেড সরকারি স্কলারশিপের আবেদন শেষ হবে। 📌 নিচের

    Read More »
    আমেরিকায় ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের কম খরচে হেলথ ইনস্যুরেন্স

    আমেরিকায় হেলথ ইন্সুরেন্স পেতে ভালোই খরচ করতে হয়। সেটা যদি হয় পুরো পরিবারের জন্য, তাহলে তো কথাই নেই!  কম খরচে ইন্সুইরেন্স পাওয়া যায় গুটিকয়েক সোর্স

    Read More »
    Bangladeshi in NY
    ব্রুকলিন,নিউ ইয়র্কঃ এক টুকরো বাংলাদেশ

    একদিন মজা করে পোস্ট দিয়েছিলাম যে বাংলাদেশিদের কাছে আমেরিকা মানেই নিউ-ইয়র্ক। সবাই এ সিটিকে এক নামে চিনে, কারণ বাংলাদেশিদের সংখ্যাগত দিক থেকে এ স্টেটে সবচেয়ে

    Read More »
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-৩)
    Career After HSC
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-৩)

    বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় বিভাগ থেকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারসমূহ— এইচএসসি-পরবর্তী সময়ে গ্রুপ নির্বাচন কেবল দুই বছরের পাঠ্যসূচির ব্যাপার নয়, বরং ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরির একটি

    Read More »