জীবনে চলতে চলতে মাঝে মাঝে থামতে ও হয়

এ জীবনে অনেক কিছুতে এত বেশীবার ব্যর্থ হয়েছি যে সেগুলো নিয়ে একটা ছোট বই লিখে ফেলা যাবে। কত কিছুই চেষ্টা করে ও পাইনি। কতগুলো উদ্যোগ নিয়ে দৌড়াতে গিয়ে ভীষণভাবে হোঁচট খেয়েছি! বছরের পর পর বাৎসরিক পরিকল্পনার অনেক কিছুই করা হয়নি। বছর বা মাস বাদ দিলাম মাঝে মাঝে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যা প্ল্যান করে করতে চাই, তাও করা হয়ে উঠেনা। ডেডলাইন খুব কাছে জেনে ও কোন এক অদ্ভুত কারণে কাজ করা হয়ে উঠেনা আর সে সাবমিশনের আগের দিন মাথায় অনেক প্রেশার নিয়ে শেষ করে সাবমিট করতে হয়। নিজের উপর প্রচণ্ড রাগ হয়, অভিমানে মুষড়ে যাই, মনে হয় কিছু হচ্ছে কি আসলে এ জীবনে? কত কত কিছু করতে চায়, কিন্তু করা হয়ে উঠবে কি? 

এসব নিয়ে বেশি মাথা ঘামালে শুরু হয় ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার চিন্তা। এটা খুব বাজে জিনিস। আমি মানুষ হিসেবে প্রতিদিন ভালো থাকতে চাই আর ফিউচার নিয়ে হাহুতাশ করতে চাইনা। কারণ, মনে হয় আজাকের দিনের জন্য বাঁচি, আজকেই ভালো থাকি, আজকেই ভালোবাসায় মাখানো স্বম্পর্ক গুলোর যত্ন নেই। কিন্তু মাঝে মাঝে এমন কিছু মানসিক চাপ, ঠিক ভাবে করতে না পারা কাজ গুলো, ডেডলাইনের প্রেশার আর অজানা ভবিষ্যৎ নিয়ে হুদাই প্যারাই কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলি। আমার অব্জারভেশন হলো, যখন কোন প্রজেক্ট নিয়ে অনেক সিরিয়াস হই, তখনই এ খেই হারিয়ে ফেলা ব্যপারটা শুরু হয়। সবচেয়ে বাজে একটা অনুভূতি মাথায় আসে আর সেটা হলো, “আমারে দিয়ে কিচ্ছু হবেনা”। আমি হলফ করে বলতে পারি, আমার চেয়ে শতগুনে সফল মানুষজনের ও এমন অনুভূতি মাঝে মাঝেই আসে। 

তারপর? তারপর কি! তখন বুঝি যে আমার এ সিচুয়েশনের ফায়দা লুটছে শয়তান। মানুষকে ভবিষ্যৎ নিয়ে গোলক ধাঁধায় ফেলে হতাশ করে যে কোন কিছু করে নেয়াই তো তার কাজ! সাথে সাথে সতর্ক হয়ে যাই আর ব্রেইনটাকে ক্লিন করা শুরু করি, নিজের চিন্তাকে ডি-অক্সিডাইট করি আর একটা ব্রেক নিয়ে নেই সব চিন্তা থেকে। কারণ, এর চেয়ে বেশি প্রেশার মাথায় নিলেই মানুষ খারাপ কিছু করে বসে। 

আমি যেসব কাজ করে ব্রেইনের রি-স্টার্ট দেই, তার কয়েকটা শেয়ার করতে চাই- 

১। ১ নম্বর কাজ হল ডিপ-ব্রেথ বা লম্বা লম্বা করে অনেক গুলো নিঃশ্বাস নেই আর ব্রেইন ও শরীর রিলাক্স করার ট্রাই করি 

২। যদি কোন কাজের মাঝখানে থাকি, সেটা ইনস্ট্যান্ট স্টপ করে দেই। যত গুরুত্বপূর্ণ বা ডেডলাইন যত কাছেই হউক। থট প্রসেস কে ৩৬০ ঘুরাতে খুব কাজে দেয় 

৩। যে ব্যপার/কাজ সবচেয়ে বেশি পেইন দিচ্ছিল, সে কাজটা যদি না হয়, বা আমি ফেইল করি, তাহলে সেটা আমার লাইফ বা ক্যারিয়ারে কতটুকু খারাপ কিছু বয়ে আনতে পারে সেটা নিয়ে চিন্তা করি। আর ভাবি, এটা লাইফ-ডেথ রিলেটেড কিছু কিনা! সবসময় ফলাফল আসে, আসলে এটা তেমন কিছুই না। 

৪। তারপরে চিন্তা করি, যদি এটা তেমন কিছু না হয়, তাহলে এত অস্থির হচ্ছি কেন? হয়তো সাময়িক কিছু ক্ষতি হবে কিন্তু দিন শেষে নিজেকে এত পেইন দিয়ে কি লাভ! 

৫। নিজে কনভিন্স হয়ে মেন্টালি শান্ত হলে এবার ২/১ দিনের জন্য সব কিছু থেকে ছুটি নেই। একদম ফুল-স্টপ। পেইনফুল কাজ গুলা নিয়ে মাথা ঘামাই না। 

৬। এ সময় পরিবারকে অনেক সময় দেয়ার চেষ্টা করি। মুনার সাথে শেয়ার করে স্বান্তনা খুঁজি। আমার ছোট থেকে ছোট বা বড় সব কিছুই আমি মুনার সাথে শেয়ার করি। আম্মারে কল দিয়ে অনেকক্ষণ কথা বলি এটা সেটা নিয়ে। এটা খুব কাজ করে মানসিকভাবে ভালো থাকতে 

৭। নিজের এ মুহূর্তে যা কিছু আছে, সব কিছু নিয়ে প্রচুর গ্রেটফুল হই আল্লাহর কাছে। যখন ভাবা শুরু করি যে আমার কি কি আছে, তখন মনে হয় যা পাচ্ছিনা বা হচ্ছেনা, সেটা এসবের তুলোনায় কিছুই না। সাথে সাথে মনটা হাল্কা হয়ে যায় আর শুকরিয়া জ্ঞাপন করি। 

ব্যাস, ২/১ দিন পরে আর অনেক কষ্ট পাওয়া ব্যপার গুলোর কথা মনেই পড়েনা। মাথা পুরাই ঠাণ্ডা! আবার শুরু করি গুছিয়ে। ভিন্ন পথ খুঁজি। কিছু একটা পেয়ে ও যাই। আবার ছুটে চলা। এভাবেই চলছে সব কিছু। আলহামদুলিল্লাহ, দিন শেষে বেশ ভালো থাকি। অনেক কিছুই পেয়েছি বা পাচ্ছি, হয়তো কিছু আগে পরে। এইতো! 

এত সব কিছু শেয়ার করার মূল কারণটা হলো আমরা তো শুধু চলতেই থাকি, কিন্তু মাঝে মাঝে লাইফে থামা লাগে। একদম ফুল-স্টপ দেয়া লাগে। আমাদের জীবনের চেয়ে বড় কিছু আছে নাকি? ইঁদুর দৌড়ে জীবনের সব রংকে ফ্যাকাসে করে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে যাওয়ায় যে সমাধান আমরা খুঁজি, সেটা আসলেই সমাধান নয়। কি আর হবে একটা কিছু  না পেলে, অনেক কিছু অধরা থেকে গেলে বা অনেক বেশি ফেইল করলে! আমার মনে হয়, দিনশেষে, আমরা সবাই একটু সুখই খুঁজি, দীর্ঘশ্বাস থেকে পালাতে চাই, সুন্দর পারিবারিক সম্পর্ক চাই, সন্তান, হাসব্যন্ড, পিতা বা বন্ধুর যে দায়িত্ব গুলো এসে পড়ে সেগুলো ভালো করে পালন করতে চাই, নিজের সাথে আর ও ১০ জনকে সাথে নিয়ে বড় হতে চাই, কিছু কন্ট্রিবিউট করতে চাই আর এমন অনেক গুলো ছোট ছোট সুন্দর ব্যপার গুলোর জন্য কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আল্লাহর কাছে মাথা নত করে সিজদা করতে চাই। এইতো বেশ ভালো আছি। চলুন, একটু থামি। 🙂 

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ
    Business Faculty
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ

    ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ পরিবর্তিত হয়ে বাণিজ্য অনুষদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রথম দিকে মাত্র দুটি বিভাগ নিয়ে এই অনুষদের কার্যক্রম শুরু

    Read More »
    আমেরিকাতে Philosophy নিয়ে পিএইচডি করার ১১টি ফান্ডেড প্রোগ্রাম 
    Arts Faculty
    আমেরিকাতে Philosophy নিয়ে পিএইচডি করার ১১টি ফান্ডেড প্রোগ্রাম 

    আর্টস ফ্যাকাল্টির অন্যতম বেস্ট সাবজেক্টগুলোর একটি হল Philosophy. দেশে এই সাবজেক্টের তেমনভাবে মূল্যায়ন না থাকলেও বিদেশে এই সাবজেক্টকে অনেক গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। বিশেষ করে

    Read More »
    Master of Business Administration at University of Toronto
    Business Faculty
    Master of Business Administration at University of Toronto

    কানাডার বিখ্যাত University of Toronto-তে রয়েছে ফান্ডসহ ফুল-টাইম MBA করার সুযোগ।  Application Requirements: ১। চার বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রি।  ২। মিনিমাম সিজিপিএ ৩.০০। ৩। English Language

    Read More »
    ফুল-ফান্ডেড Malta Government Endeavour Scholarship নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা 
    Full Funded Government Scholarship
    ফুল-ফান্ডেড Malta Government Endeavour Scholarship নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা 

    Malta Government Endeavour/Endeavour II Scholarship Scheme হল মাল্টা সরকার কর্তৃক প্রদানকৃত একটি সরকারি স্কলারশিপ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গ্র্যাজুয়েট লেভেলের শিক্ষার্থীরা অর্থাৎ মাস্টার্স ও পিএইচডি

    Read More »