নিন্দাকারী ও আস্থা রাখতে না পারা মানুষদের জন্য এক বুক ভালোবাসা। কিন্তু কেনো?

আপনার উপর আস্থা রাখতে না পারা বা সমালোচনা করা মানুষ গুলোর উপরে মন খারাপ না করে উলটা মিষ্টি খাওয়ান। বিশ্বাস করেন, এরা আমার আপনার পরম আপনজন। এরা না থাকলে আপনি বুঝতেনই না কত স্ট্রং আপনি। চলুন আলাপ করি কিভাবে! 

যখন আপনি শুনবেন বা জানবেন বা কেউ সরাসরি বলবে যে, এহ এরে দিয়ে আবার এ কাজ হবে নাকি? ও আবার এসব পারবে নাকি? ১০০ কেজি ওজন থেকে ৫ কেজি ও কমাতে পারবে না। এত ভাল জব ওর চৌদ্দ গুস্টির কেউ পায় নাই আর ও? ফান্ড সহ বিদেশ যাওয়া যেমন তেমন ব্যাপার না যে বললেই হয়ে যাবে, ওর মধ্য গাধা/মধ্যম মানের স্টুডেন্ট আবার যাবে বিদেশ! খালি খালি টাকা নষ্ট করতেসে! এমন কথা গুলো আপনি যাই করেন না কেন, সে বিষয় নিয়ে শুনবেন। আমি হলফ করে বলতে পারি, এ কথা গুলো যারা বলে, তারা কেউ চায়না আপনি এ কাজটি সফলভাবে করতে পারেন। বেশিরভাগ চায়, এ কথা গুলো শুনিয়ে আপনাকে দমিয়ে দিতে। যেন, আমি আপনি ছোট হয়ে থাকলেই তাদের বড়ত্ব পূর্ণতা পাবে! কিন্তু আমাদের রিয়েকশন কি হওয়া উচিত? ভেংগে পড়বো কোন চিড়িয়ার কথা শুনে? হাল ছেড়ে বসে থাকবো? নাকি মনে মনে একই সুরে সুর মিলিয়ে নিজেকে ২ মিনিটে জাজ করে বলে দিব, আসলেই তো আমি দূর্বল, এ কাজ করার মত মেধা, যোগ্যতা আমার নেই। নাকি ঝগড়া বা মারামারি শুরু করে দিবেন কেন আপনাকে ছোট করে কথা বলা হলো! যদি করেন,  তাহলে জিতে গেল চিড়িয়া আর তার কথা! 

এ জায়গায় আমার এপ্রোচ হলো সম্পূর্ণ উলটা। যখন কেউ এমন কিছু বলে আর তা জানতে পারি, সে ব্যক্তির কথা আমাকে ব্যাপক অনুপ্রেরণা দেয় যা যা পারবো না বলেছে, তা তা করে দেখানোর। মুখে জ্ববাব না দিয়ে বা নিজেকে দূর্বল না ভেবে সেদিন থেকে সে কাজটা করার জন্য উঠেপড়ে লাগি। আর যেদিন শেষ হয় আর সফল হই, সেদিন জানান দেই যে আমি পেরেছি। এটাই চপোটাঘাত সমালোচকের মুখে। যদি ব্যক্তিটিকে চিনেন, একটা ফোন বা মেসেজ দিয়ে সুখবর জানিয়ে দিবেন।।ব্যাস, কিছু করা লাগবে না। সামনে থাকলে প্রতিক্রিয়া টা ও দেখে মজা নিতে পারেন। বিশ্বাস করেন, একটা অপার্থিব শান্তি লাগে নিজের ভেতরে। মুখ বা হাত না বরং কাজ দিয়েই সব হয়ে গেলো। 

এ্যানিওয়ে, এত লম্বা কথার শানে নুযুল হলো আমরা অনেকে প্রতিনিয়ত এমন হেয়, ছোট করে কথা বলা, অবিশ্বাসের শিকার হই। অন্যজন আমাকে আপনাকে হয়তো না চিনেই অনেক কিছু বলে বসে, কিন্তু আমি আপনি তো আমাদেরকে চিনতে হবে সবার আগে। তাইনা? যদি আপনি নিজেকে চিনেন আর জানেন যে কি করতে পারেন আপনি, তাহলেই কেল্লাফতে। বাকীদের এমন কথা থোড়াই কেয়ার না করে টার্গেট সেট করে এগিয়ে যান। একদিন এ সমালোচক বা কটুক্তি করা মানুষ গুলো হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়ে বলবে, “আমি শুরু থেকেই জানতাম যে তোমাকে দিয়ে হবে”। 

আচ্ছা, সে ব্যক্তির মুখে এমন কথা শুনার চেয়ে মজার কোন প্রতিশোধ আছে কি? অনেক সময় দেখেবন তার এক কথায় আপনি পজিটিভলি ইনফ্লুয়েন্স হয়ে এত ভালো করবেন যে তার জন্য দোয়া করতে মন চাইবে। অন্যথায় হয়তো এত ফোকাস করে কাজটা করতেন না। তাহলে, এ মানুষ গুলো আমাদের পরম আপন! সবসময়ই এদের পাশে রাখবেন।

এমন মানু্ষের ফেস করতে আপনি বা আপনারা কি করেন? কমেন্টে জানাতে পারেন যেগুলো আমরা সবাই ফলো করতে পারি প্লিজ।

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    জুলাই মাসে যেসব ফুল-ফান্ডেড সরকারি স্কলারশিপের আবেদন শেষ হচ্ছে (২০২৬)
    Application
    জুলাই মাসে যেসব ফুল-ফান্ডেড সরকারি স্কলারশিপের আবেদন শেষ হচ্ছে (২০২৬)

    যারা ২০২৭ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য জুলাই মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসেই বেশ কয়েকটি ফুল-ফান্ডেড সরকারি স্কলারশিপের আবেদন শেষ হবে। 📌 নিচের

    Read More »
    আমেরিকায় ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের কম খরচে হেলথ ইনস্যুরেন্স

    আমেরিকায় হেলথ ইন্সুরেন্স পেতে ভালোই খরচ করতে হয়। সেটা যদি হয় পুরো পরিবারের জন্য, তাহলে তো কথাই নেই!  কম খরচে ইন্সুইরেন্স পাওয়া যায় গুটিকয়েক সোর্স

    Read More »
    Bangladeshi in NY
    ব্রুকলিন,নিউ ইয়র্কঃ এক টুকরো বাংলাদেশ

    একদিন মজা করে পোস্ট দিয়েছিলাম যে বাংলাদেশিদের কাছে আমেরিকা মানেই নিউ-ইয়র্ক। সবাই এ সিটিকে এক নামে চিনে, কারণ বাংলাদেশিদের সংখ্যাগত দিক থেকে এ স্টেটে সবচেয়ে

    Read More »
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-৩)
    Career After HSC
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-৩)

    বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় বিভাগ থেকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারসমূহ— এইচএসসি-পরবর্তী সময়ে গ্রুপ নির্বাচন কেবল দুই বছরের পাঠ্যসূচির ব্যাপার নয়, বরং ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরির একটি

    Read More »