মানসিক শান্তি এমনই একটি জিনিস যা প্রত্যেকটি মানুষ অর্জন করতে চায়। জীবনে ধন-দৌলত, সম্মান, মর্যাদা সব পেয়ে ও যদি মানসিক প্রশান্তি না থাকে, তবে সব বৃথা লাগে। তাই আমরা দেখি অনেক উচ্চ পর্যায়ে থাকা মানুষজন ও ডিপ্রেশনে ভোগেন এমনকি সুইসাইড ও করেন। তাহলে তার অর্থ-বৃত্ত থেকে শুরু করে সব কিছু তাকে আসল সুখের অনুভূতি দিতে পারেনি। কিভাবে পেতে পারি এ শান্তি? কিছু উপায় বলা যায় যেগুলোর মাধ্যমে এ শান্তির অনুভুতি পেতে পারি।
জীবনের একটি উদ্দেশ্য খুজে নেওয়াঃ
কোন দিন কি প্রশ্ন করে দেখেছি যে আমরা পৃথিবীতে কেন এসেছি? এত হাজারো রকমের জীব-জন্তু থাকতে মানুষই বা কেন সেরা? আমার জীবনের উদ্দেশ্যই বা কি? জীবন কোন উদ্দেশ্য নিয়ে কাটাতে চান, কি করতে চান তার একটি লিস্ট করুন। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আপনার করার কি কি থাকতে পারে তার তালিকা করুন। হয়তো এখন খুজে বের করতে কষ্ট হবে কিন্তু চেষ্টা করুন নিজের কল্পনা শক্তি ব্যবহার করার। প্রথমে নিজের স্ট্রেংথ গুলো খুজে বের করে তারপর আগ্রহের জায়গা খুজে দেখুন আর শেষে কি কি করতে পারেন তার লিস্ট করুন। তাহলে এভারেজ একজন মানুষ যতদিন বাঁচে ততদিনে কি করতে চান আর কেন বাঁচতে চান তার একটা খসড়া পেয়ে গেলেন। এবার নিজেকে প্রস্তুত করুন সেগুলো করতে। চাপ না নিয়ে ধীরে সুস্থে আগান। কেউ আপনাকে বাধ্য করেনি এসব অর্জন করতে, তাই ব্যর্থ হলেও জ্ববাবদিহীতা শুধু নিজের কাছে। দেখবেন, এভাবে সামনে আগালে মানসিক একটি শান্তি সবসময় বিরাজ করবে।
সফলতাকে ভিন্ন ভাবে দেখাঃ
সে ছোট বেলা থেকে আমরা শিখে আসি সফলতা হলো কোন কিছু অর্জন করা। ক্লাশে প্রথম হওয়া সফলতা, দৌড় প্রতিযোগীতায় ফার্স্ট হলে সফল, মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় এ প্লাস পেলে সফল। এরপর ভার্সিটি, চাকুরী, ভালো ক্যারিয়ার……… চলতেই থাকে। একটি অর্জিত হয়ে দম ফেলানোর আগেই পরবর্তী টার্গেট নিয়ে ছুটা শুরু। তাহলে দেখা যাচ্ছে, সফলতাকে অর্জনের মাপকাঠি দিয়ে মাপা যায়না। কারণ, কত কিছু পেলে মানুষ সফল বলবে বা নিজেকে সফল ভাবতে পারবে সেটি কেউ ঠিক করে দেয়নি। তাই, সফলতা কে অর্জনের ভিত্তিতে না মেপে নিজের সেট করা মাপকাঠিতে মাপুন। সেটা কেমন? নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনার কাছে জীবনের কোন জিনিসটি সবচেয়ে বেশী ভালো লেগেছিল? কি পেয়ে নিজেকে মনে হয়েছে আপনি সেরা। তা খুজে বের করুন। এটি যদি কোন অর্জন হয়, তাহলে সে অর্জনের প্যাটার্ণ খুজে বের করুন। সেটি পেতে কি কি লাগতে পারে, তা দেখুন। আমার কাছে সফলতা মানে হ্যাপি থাকা। কারণ আমার মনে হয়েছে মানুষ সব কিছু করে এ একটু হ্যাপি থাকার জন্য। তাই আমি প্রতিদিন চেষ্টা করি হ্যাপি হওয়ার, আর সেটি হলেই আমি নিজেকে সফল দাবী করি। সিম্পল। বাকী যা কিছু পাই বা না পাই তার উপর কিছুই নির্ভর করেনা। চেষ্টা করে যাই যা লাগে পাওয়ার। পেলে ভালো, না পেলে সমস্যা নেই আরো ভালো কিছু পাবো।
নিজের জন্য সময় রাখাঃ
দুনিয়ার সব কিছুর পেছনে ছুটতে ছুটতে নিজেদের দিকে তাকানোর কোন সময়ই আমাদের থাকেনা। ইদুর দৌড়ে ঢুকে জীবনের জন্য করতে করতে একসময় নিজেকে অনেক শূণ্য লাগে। আত্মার খোরাক বলে সে কথাটি আছে সেটি বেমালুম ভুলে যাই। হাসতে ভুলে যাই, সেলিব্রেট করতে ভুলে যাই, জীবনকে ভিন্ন কোন এংগেল থেকে দেখার কথা মনেই থাকেনা। তাই, ছোট কোন ফেইল মেনে নিতে কষ্ট হয়, বড় কোন ধাক্কা খেলে জীবনকে বৃথা লাগে আর সব তুচ্ছ জ্ঞান করে মরে যেতে ইচ্ছে করে। তাই, যে যাই করি না কেন, নিজের জন্য প্রতিদিন একটু সময় বের করে ভাবা খুব জরুরী। ৩০ মিনিট সময়ই দিন না। সব ধরণের ইলেকট্রনিক ডিভাইস দূরে রেখে ছাদে গিয়ে আকাশ দেখুন, চিলের উড়াউড়ি দেখুন, উদাস হয়ে মেঘের দৌড়াদৌড়ি দেখুন, কল্পনায় মেঘ গুলোকে আকার দিন। দেখবেন আনমনে হেসে উঠছেন। জীবনকে উপলদ্ধি করা শুরু হবে আর সব সময় আপনি মানসিক শান্তি পাবেন।
#taninzaid #Slefhelp #Life








