বই রিভিউঃ আউটলাইয়ার্সঃ ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েল-২

পর্বঃ ২

সফল মানুষদের নিয়ে অনেক গবেষণা আদিকাল থেকে চলে আসছে। একজন সফল মানুষ কেন সফল? এ প্রশ্নে উঠে আসে তাদের কঠিন পরিশ্রম, ভিশন ও অন্যান্য গুনের কথা। আমরা ও সেভাবে বলি যে অমুক এ কারণে সফল। কিন্তু আউটলাইয়ার্স বইটিতে গ্ল্যাডওয়েল সফলতাকে খুব ভিন্ন আংগিকে উপস্থাপন করেছেন। তিনি এমন কিছু কারণ খুজে বের করেছেন, যেগুলো সচারাচর আমরা খেয়াল করিনা বা এগুলোর প্রভাব যে থাকতে পারে তা বুঝিনা। সে দিকগুলো সম্পর্কেই কতগুলো উদহারণ দিয়ে বর্ণনা করেছেন লিখক। 

জো-ফ্লম নামে একজন ইহুদী অভিবাসীর আমেরিকার বিখ্যাত আইনজীবী হওয়ার পেছনের কারণ গুলো গ্ল্যাডওয়েল বর্ণনা করেছেন। ফ্লম দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেন ও সরকারী স্কুলে পড়াশুনা করেছিলেন। আইনে পড়ার প্রচুর আগ্রহ ছিল তার। মেধার জোরে হার্ভাডে আইন বিষয়ে পড়ার সুযোগ ও পেয়ে যান তিনি। উন্নত চিন্তা শক্তির কারণে খুব ভালো রেজাল্ট ও করেছিলেন। পড়াশুনা শেষে স্কদেন নামক ল’ ফার্মে যোগ দেন। তখন স্কদেন খুব বেশী জনপ্রিয় না হলেও এখন প্রায় ২ হাজারের বেশী আইনজীবী কাজ করছে। Fortune 500 কোম্পানী অধিগ্রহণে স্কদেনের সাহায্য লাগেই। জো ফ্লমের জীবনে বড় হওয়ার পেছনে কি কি ক্যাটালিস্ট ছিল? 

ফ্লম যখন স্কদেনে কাজ শুরু করে তখন তাদের কাজের চাপ কম ছিল। খুব একটা পরিচত ছিলনা। তারা কোম্পানী অধিগ্রহণ বিষয়ে কাজ করতেন। তখন কোম্পানী গুলো অন্য কোম্পানী কিনে নেয়ার প্রচলন কম হলেও ১৯৭০ সালের দিকে ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। ততদিনে স্কদেন অনেক গুলো মামলা পরিচলনা করে হাত পাকা করে নিয়েছিলেন যেখানে জো ফ্লম ছিলেন অন্যতম আইনজ্ঞ। তাই পরবর্তীতে তিনি সে সেক্টরে লিড ফিগার হয়ে যান। এর পেছনে মূল ব্যপারটি ছিল অনেক বছর ধরে একই ধরণের মামলা পরিচালনার সুযোগ। জন্ম সালের সুবিধাগত একটি ব্যপার ও লিখক তুলে ধরেছেন জো ফ্লম সহ বাকী সফল মানুষ গুলোর জীবনে।যেমন- ১৯৩৫- ১৯৪০ এর মধ্যে জন্ম নেয়া উদ্যোক্তারা সময় ও পরিস্থিতির সুবিধা পেয়েছেন। তারা অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলা করতে হয়নি ও মন্দার প্রভাবে জন্মহার কমে যাওয়ায় সব ক্ষেত্রে কম্পিটিশনের মাত্রা ও ছিলো অনেক কম। এটি ও তাকে সাহায্য করেছে। এছাড়া মাইগ্রেট করে আসা ইহুদী পরিবার গুলো টিকে থাকার জন্য কাপড়ের ব্যবসা শুরু করলেও পরে সে সেক্টরেই তারা প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের মধ্যে কঠোর পরিশ্রম করার ইচ্ছে, নিজেকে উন্নত করার আকাঙ্ক্ষা, মন ও মস্তিকের প্রয়োগ ও কল্পনা শক্তি কাজে লাগিয়ে সব কিছুই অর্জন করেছিলেন যেটি ফ্লমের পরিবারও করেছিলেন।  

জাতিগত সংস্কৃতি ও বৈশিষ্ট গোত্রীয় দ্বন্ধের জন্ম দিতে পারে যেটি হারলান কেনটাকি নামক জায়গায় ২ গোত্রের হানাহানির উদহারণ দিয়ে দেখিয়েছেন। তখনকার গোত্রীয় ঝামেলায় অনেক মানুষ প্রাণ হারায়। বেশ অনেক বছর পরে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সে এলাকা থেকে আসা স্টুডেন্টদের আচরণের উপর গবেষণা চালিয়ে দেখা যায় যে, তারা ও প্রায় একই রকম মানসিকতা পোষণ করে। কোরীয়ান এয়ারলাইন্সে বিমান দূর্ঘটনার পেছনে এ জাতিগত বৈশিষ্ট কিভাবে জড়িত সেটিও দেখানো হয়েছে। সিনিয়র পাইলটকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করে ভুল না ধরিয়ে দেয়ার কারণে বিমান দূর্ঘটনার সবার প্রাণহানি  হওয়ার কারণ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে পাইলটের জাতিগত সংস্কৃতি দায়ী। নিজের ভাষার প্রতি অতি ভালোবাসা দেখিয়ে ইংরেজি ভাষা ভালো করে না শেখা ও একটি কারণ ছিল। পরবর্তীতে কিছু উদ্যোগের মাধ্যমে কোরীয় এয়ারলাইন্স বিশ্বে সেরা এয়ারলাইন্সে পরিণত হয়। 

এশীয়দের গণিতে এক্সিলেন্ট  হওয়ার কারণ ও এ জাতিগত বৈশিষ্ট্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চীন, কোরীয়া, জাপান, হংকং প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে ধান চাষ করতে কঠোর পরিশ্রম করতে হতো। তাদের এ পরিশ্রম করার মানসিকতার সাথে যোগ হয়েছিল নাম্বার শেখার সহজ পদ্ধতি। তাই, বাচ্চা কাল থেকেই তারা অংকে দক্ষ হয়ে উঠে। মরিতার সুবিধা বঞ্চিতদের একটি স্কুলে গবেষণা চালিয়ে এশীয় বাচ্চাদের ম্যাথে সহজাত দক্ষতার প্রমাণ পাওয়া যায়। তাদের অধ্যবসায়, পরিশ্রম, নিয়মানুবর্তিতার মত গুন গুলোই ফলাফলে চমৎকার সহায়তা করেছে বলে মনে করা হয় যেগুলো তারা পেয়েছিল জাতিগত ভাবেই।  

বই রিভিউঃ আউটলাইয়ার্সঃ ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েল-১

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    Australia-তে Non-STEM ব্যাকগ্রাউন্ডদের কেমন সুযোগ রয়েছে?
    Australia
    Australia-তে Non-STEM ব্যাকগ্রাউন্ডদের কেমন সুযোগ রয়েছে?

    অনেকেরই ধারণা, অস্ট্রেলিয়ায় শুধু STEM (Science, Technology, Engineering, Mathematics) ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদেরই ভালো সুযোগ রয়েছে। তবে বাস্তবে বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। Non-STEM- দের জন্যও স্কলারশিপ, পিআর

    Read More »
    SOP লেখার ক্ষেত্রে সবাই যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি করে থাকে
    Application Materials
    SOP লেখার ক্ষেত্রে সবাই যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি করে থাকে

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনে Statement of Purpose যাকে সংক্ষেপে SOP বলা হয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ডকুমেন্ট। এটা এমন একটা ডকুমেন্ট, যা অনেক সময় একই CGPA, একই

    Read More »
    জার্মানিতে Non-STEM শিক্ষার্থীদের জন্য কেমন সুযোগ আছে?
    Germany
    জার্মানিতে Non-STEM শিক্ষার্থীদের জন্য কেমন সুযোগ আছে?

    অনেকেই মনে করেন, জার্মানিতে শুধু Engineering, Computer Science বা অন্যান্য STEM (Science, Technology, Engineering, Mathematics) বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যই সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মোটেও তা নয়।

    Read More »
    বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আবেদনের সময়ে ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
    Application Help
    বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আবেদনের সময়ে ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে অনেকের প্রথম প্রশ্ন থাকে—”বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং কি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?” সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: না, তবে অনেক দিকে থেকেই এটি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

    Read More »