একটি ইফেক্টিভ দিন কিভাবে পেতে পারি?

আমাদের ভালো থাকা মন্দ থাকা নির্ভর করে দিনটি কেমন গেল তার  উপর৷ ভালো একটি দিন কাটালে রাতে সব কাজ শেষে ঘুমানোর আগে একটা অসাধারণ অনুভূতি আসে, সেটিই ভালো থাকার জন্য যথেষ্ট৷ কিন্তু প্রশ্ন হলো কিভাবে কাটানো যাবে এমন একটি দিন? 

আসলে কোন পরিকল্পনা ছাড়া বা চেষ্টা ছাড়া তেমন সুপার  দিন অতিবাহিত করা প্রায় অসম্ভব। ভালো থাকার জন্য একজন মানুষের ভালো থাকার ফিলিংস আসতে হয়। সেটির জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট পরিমান ক্যামিকেলের সংমিশ্রন৷ অর্থাৎ আমরা ভালো থাকবো কিনা, সেটি বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে নির্ভর করে ভেতরে কতটুকু ভালো আছি আমরা। তো, এ গুড ক্যামিকেল কিভাবে বাড়ানো যায়? সেজন্য ছোট ছোট কিছু কাজ করতে হবে সারাদিন। 

প্রথমত নিজের ভেতরে ভালো থাকার দিকে নজর দেই। কারণ, ভেতরে ভালো না থাকলে আল্টিমেট ভাল থাকা সম্ভব নয়। ভেতরকে ভালো রাখতে সেখানে ডুব দিয়ে মনোজগতের একটু খোজ নিতে হয়। সেটা করার সবচেয়ে ভাল উপায় হলো মেডিটেশন করা। নিজেকে স্থির করে লং ব্রিদ নিয়ে দুনিয়া থেকে কিছু সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে শান্ত ভাবে ভেতরটা দেখাই হলো কাজ। কিছু সময় পরে দেখবো সব টেনশন কোথায় যেন উধাও হয়ে গিয়েছে। শুরুতে একটু অন্যরকম লাগলেও পরে ঠিক হয়ে যাবে। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের গাইডেড মেডিটেশন থেকে সাহায্য নেয় যায়। 

এরপর বেশী প্রয়োজন বাইরে মনযোগ দেয়া। মানে হলো, নিজের শরীরের দিকে নজর দেয়া। আমাদের বিষন্নতার জন্য অনেকখানিই শারিরীক অবস্থা দায়ী। পর্যাপ্ত এক্সারসাইজের অভাবে শরীরে একধরণের টেনশন যুক্ত হয়, যেগুলো হাটা চলা বা দৌড়িয়েই ঠিক করতে হয়। সাইন্স বলে, হাটার কারণে শরীরে এক ধরণের হরমোন বাড়ে যেটি মাইন্ড ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই, প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিটের জন্য হলেও হাটতে হবে। এটা ভালো দিন কাটানোর ২য় মেডিসিন। 

পরেরটি হলো বই পড়া। অনেকে হয়তো মনেই করতে পারবেন না কবে শেষ পাঠ্য বইয়ের বাইরে কোন বই হাতে নিয়েছেন। সারাদিন মোবাইল, ল্যাপটপ আর ইন্টারনেটের রঙ্গিন জগতে সময় যে কেমনে শেষ হয়ে যায়, তার হদিস পাওয়া যায়না। অথচ চাইলেই মাসে কমপক্ষে ২ টি বই পড়া যায়। কি লাভ বই পড়ে? অনেক লাভ আসলে। নতুন বিষয়ে জানা থেকে শুরু করে এ অস্থির দুনিয়া থেকে বের হয়ে কল্পনা রাজ্যে হারিয়ে যাওয়ার মোক্ষম মাধ্যম হলো বই পড়া। কেমন বই পড়বো? ইচ্ছে মত। প্রথমে যা ভালো লাগে তাই দিয়ে শুরু করুন। ৩ গোয়েন্দা, মাসুদ রানা, সাইন্স ফিকশন……যা ইচ্ছে তা। মজা পেয়ে গেলে, তারপর না হয় নিজের রিডিং লিস্ট বানাবেন! 

আর শেষটি হলো পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবের সাথে সময় কাটানো। এটি অনেক ইফেক্টিভ একটি বিষয়। সারাদিন ব্যস্ততার পর কিছু সময়ের জন্য পরিবার বা অন্যদের সাথে আড্ডায় হারিয়ে যান। দেখবেন অন্যরকম একটি ভালো লাগা কাজ করছে। সারাদিনের ক্লান্তি গুলো চলে যাবে। নিজেকে আবিস্কার করবেন একজন সুখী মানুষ হিসেবে। 

আমরা চাই বা না চাই, ২৪ ঘন্টা শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু যদি সচেতন ভাবে একটু নিজেদের সময় দিয়ে কিছু কাজ করি, তাহলে সব মিলিয়ে দিন গুলো ভালো যাবে। একটি ভালো দিন গেলে একটি ভালো সপ্তাহ যাবে আর একটি ভালো মাস। সব মিলিয়ে হ্যাপিনেসই তো আমরা সবচেয়ে বেশী ভ্যালু দেই।  

#taninzaid #Self-Help

    SHARE THIS BLOG

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Hello! I'm Tanin Zaid

    I love to read, travel, and help others to grow

    Recent Post

    Categories
    [quads id=2]
    জুলাই মাসে যেসব ফুল-ফান্ডেড সরকারি স্কলারশিপের আবেদন শেষ হচ্ছে (২০২৬)
    Application
    জুলাই মাসে যেসব ফুল-ফান্ডেড সরকারি স্কলারশিপের আবেদন শেষ হচ্ছে (২০২৬)

    যারা ২০২৭ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য জুলাই মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসেই বেশ কয়েকটি ফুল-ফান্ডেড সরকারি স্কলারশিপের আবেদন শেষ হবে। 📌 নিচের

    Read More »
    আমেরিকায় ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের কম খরচে হেলথ ইনস্যুরেন্স

    আমেরিকায় হেলথ ইন্সুরেন্স পেতে ভালোই খরচ করতে হয়। সেটা যদি হয় পুরো পরিবারের জন্য, তাহলে তো কথাই নেই!  কম খরচে ইন্সুইরেন্স পাওয়া যায় গুটিকয়েক সোর্স

    Read More »
    Bangladeshi in NY
    ব্রুকলিন,নিউ ইয়র্কঃ এক টুকরো বাংলাদেশ

    একদিন মজা করে পোস্ট দিয়েছিলাম যে বাংলাদেশিদের কাছে আমেরিকা মানেই নিউ-ইয়র্ক। সবাই এ সিটিকে এক নামে চিনে, কারণ বাংলাদেশিদের সংখ্যাগত দিক থেকে এ স্টেটে সবচেয়ে

    Read More »
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-৩)
    Career After HSC
    এইচএসসি পরবর্তী গ্রুপ চয়েস: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা – বাংলাদেশের বাস্তবতা (পর্ব-৩)

    বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় বিভাগ থেকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারসমূহ— এইচএসসি-পরবর্তী সময়ে গ্রুপ নির্বাচন কেবল দুই বছরের পাঠ্যসূচির ব্যাপার নয়, বরং ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরির একটি

    Read More »